১৭ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিনোদনের অভাবে ভোগান্তি

নুরুল আমিন ॥ আমাদের দেশে সুস্থ বিনোদনের অভাব দেখা দিয়েছে। মানুষের তুলনায় বিনোদন ক্ষেত্রের পরিধি ও সংখ্যা একেবারেই কম। কী শহর আর কী গ্রাম সর্বত্র একই অবস্থা। সময়ের ব্যবধানে দেশ যতটা আধুনিক হয়েছে, বিনোদনের ক্ষেত্র ততটা বাড়েনি। বরং সমাজ থেকে মানুষের বিনোদন ব্যবস্থার অনেক কিছু হারিয়ে গেছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষতার এমন দিনে বিনোদন ব্যবস্থার সঙ্কট সত্যি দুঃখজনক।

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কবিগান, পালাগান, পুঁথি পড়া, যাত্রা, সার্কাস, নাটক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হতো। জারি সারি ভাটিয়ালী গানের সুরে মানুষের মন ভরে যেত। দুরন্ত ষাঁড়ের লড়াই দেখে মানুষ খুব আনন্দ পেত। বিভিন্ন গ্রামীণ জনপদে সিনেমা হল ছিল। মনের ক্লান্তি দূর করতে অনেকে সিনেমা দেখতেন। তাছাড়া মুক্তমাঠে হা-ডু-ডু, দাঁড়িবান্ধা, কানামাছি প্রভৃতি অনেক রকমের খেলাধুলা করে আনন্দ উপভোগ করা যেত। শুধু গ্রামেই নয়, শহরেও এমন আনন্দ উপভোগের ব্যবস্থা ছিল। এখন আর তা নেই। চিত্ত বিনোদনের এসব ক্ষেত্র এখন শুধুই স্মৃতি। দেশের শহর ও গ্রামাঞ্চলে অনেক স্কুলে খেলার মাঠ কাগজে কলমে থাকলেও বাস্তবে নেই। কোথাও চাষাবাদ বা বাগান করে, কোথাও দোকানপাট বা স্থাপনা নির্মাণ করে প্রভাবশালী স্থানীয়রা এসব জায়গা ভোগদখলে বিদ্যমান। স্কুলের কোমলপ্রাণ ছাত্রছাত্রীদের চারদেয়ালে বন্দী হয়ে থাকতে হয়। ফলে মুক্ত মাঠের মিষ্টি হাওয়া তাদের আর ভাগ্যে জোটে না।

ঈদ কিংবা অন্যান্য উৎসবে বা ছুটির দিনে কর্মব্যস্ত মানুষ যখন চিত্ত বিনোদনের জন্য ঘোরাঘুরি করতে উন্মুক্ত বাতাস পেতে কোন পার্কে যায়, সেখানে দেখা যায় উপচে পড়া মানুষের ভিড়। বিনোদনের জন্য উন্মুক্ত মাঠ ও সুস্থ পরিবেশ না থাকায় টিভি হয়ে উঠেছে একমাত্র ভরসা। বসে বসে কিছুক্ষণ দেখার পর এমনিতেই বিরক্তি আসে। তাছাড়া এতে অপসংস্কৃতি ঢুকে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। অন্যদিকে উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েরা বিনোদনের জন্য অনলাইনে ঝুঁকে পড়ে। তাতে তাদের বিগড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সুস্থ বিনোদনের অভাবে শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হয়। বড়রাও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। তাছাড়া ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগব্যাধিতে আক্রান্ত লোকজন উন্মুক্ত মাঠের অভাবে নিয়মিত ব্যায়াম করতে পারেন না। সুস্থ বিনোদনের অভাবে মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে।

লালমোহন, ভোলা থেকে