২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মাদারীপুরে আওয়ামী লীগ ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ৩০, আটক ১১

মাদারীপুরে আওয়ামী লীগ ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ৩০, আটক ১১

নিজস্ব সংবাদদাতা, মাদারীপুর ॥ মাদারীপুর সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সদর উপজেলার পেয়ারপুর ইউনিয়নের মধ্য গাছবাড়িয়া এলাকায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে নারীসহ ৩০ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় ১১ জনকে আটক করে পুলিশ। বুধবার সকাল থেকে দফায় দফায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলে। সংঘর্ষের সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৫ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী কাজল কৃষ্ণ দে’র সমর্থক মোজলেম আকন, লাভলু তালুকদার গ্র“পের লোকজন সদর উপজেলার পেয়ারপুর ইউনিয়নের মধ্য গাছবাড়িয়া এলাকায় পোস্টার টাঙাতে ছিল। এসময় বিদ্রোহী প্রার্থী ও সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান এমপির ছোট ভাই এ্যাড. ওবায়দুর রহমান কালু খানের সমর্থক লাল মিয়া মাতুব্বর ও শহীদ মাতুব্বরের লোকজন অতর্কিত হামলা চালায়। পরে দুই গ্র“পের লোকজন দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষে দুই গ্র“পের কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়।

আহতদের মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতরা হলেন গাছবাড়িয়া গ্রামের আবু তালেব মাতুব্বর (১৬), শান্ত চৌকিদার (২০), পিয়াল মোল্লা (২২), সজল হাওলাদার (১৪), নুর জামাল সরদার (৩০), আমিনুর মাতুব্বর (৩০), আব্দুল চৌদিকার (৪৫), সাকিব মাতুব্বর (২০), আয়নাল মাতুব্বর (৩৮), বাদল মাতুব্বর (৪৫), নাসির বেপারি (৩২), সাব্বির শেখ (১৮), মহিউদ্দিন শেখ (৪০), ইকবাল চৌকিদার (২২), বাকা চৌকিদার (৪০), সিরাজুল খান (৩৩), শিউলী বেগম (৩২) প্রমুখ। খরব পেয়ে মাদারীপুর সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৫ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে। ঘটনাস্থল থেকে ১১ জন আটক করা হয়। যে কোন সময় আবারও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।

স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী প্রতিনিধি ও তার ছেলে আবেদুর রহমান খান বলেন, ‘আমাদের সমর্থকরা আনারসের পোস্টার টাঙানোর সময় নৌকার সমর্থকরা অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়ে আমাদের নেতা কর্মীদের আহত করে।’

মাদারীপুর সদর হাসপাতালের ডাক্তার ইমরানুর রহমান সনেট বলেন, ‘সংঘর্ষের ঘটনায় এ পর্যন্ত ২৮ জনকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। আমরা আমাদের সাধ্যমত চিকিৎসা দিচ্ছি।’

মাদারীপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি পরিমল কুন্ডু বলেন, ‘যারা নৌকা প্রতীকের কর্মী সমর্থকদের উপরে হামলা চালিয়েছে, দলীয়ভাবে আমরা তাদের আইনের আওতায় আনার দাবী করছি। পাশাপাশি সদর উপজেলা নির্বাচনে দলের পক্ষে সকল নেতা কর্মীদের কাজ করার আহবান জানাই।’

মাদারীপুরের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার উত্তম প্রসাদ পাঠক বলেন, ‘নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মূলত নৌকার সমর্থক মোজলেম আকন, লাভলু তালুকদার গ্র“পের লোকজনের সাথে লাল মিয়া মাতুব্বর, শহীদ মাতুব্বর, আলম ফকির গ্রƒপের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এখন পর্যস্ত ১১ জন আটক করা হয়েছে। বিকেল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত কোন পক্ষ থানায় অভিযোগ করেনি।’