২৭ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ইংল্যান্ডে বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে বিতর্কে আইসিসি

 ইংল্যান্ডে বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে  বিতর্কে আইসিসি
  • শাকিল আহমেদ মিরাজ

ইংল্যান্ডে চলমান ১২তম বিশ্বকাপ ক্রিকেটের এ পর্যায়ে আলোচিত ইস্যু হয়ে উঠেছে বৃষ্টি। দলগুলোর জন্য রীতিমতো আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা আর হতাশা নিয়ে হাজির হচ্ছে দেশটির বেরসিক আবহাওয়া। বুধবার এ রিপোর্ট লেখার সময় বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচসহ (মঙ্গলবার) প্রথম ১৩ দিনে মোট তিনটি খেলা পরিত্যক্ত হয়েছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে যা নতুন রেকর্ড। তিন জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে নিউজিল্যান্ড। সে হিসেবে বৃষ্টিকেও কিন্তু সমান ৬ পয়েন্ট দিতে হবে! বাংলাদেশ এবারের বিশ্বকাপে যে দলগুলোকে অবধারিত টার্গেট করেছিল শ্রীলঙ্কা তার অন্যতম। সেটি পরিত্যক্ত হওয়ায় হতাশা ঝরেছে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা এবং কোচ স্টিভ রোডসের কণ্ঠে। সম্প্রতি পারফর্মেন্স বিচারে জয়ের আশায় ছিল টাইগাররা। এর আগে গত শুক্রবার এই মাঠেই শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের ম্যাচেও টস সম্ভব হয়নি। সোমবার সাউদাম্পটনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচে খেলা হয়েছিল মোটে ৭ ওভার ৩ বল। বিশ্বকাপের মতো বড় আসরের জন্য কেন এই সময় বেছে নেয়া হলো, কেনই বা লীগ পর্বে ‘রিজার্ভ ডে’ নেই? খোদ আইসিসিকেও (ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল) চারদিক থেকে ছুটে আসা এমন প্রশ্নের ব্যাখ্যা দিতে হয়েছে।

ইংল্যান্ডের আবহাওয়া সম্পর্কে কম বেশি অনেকেরই জানা। আকাশের কোন ঠিকঠিকানা নেই। কখন হুড়মুড় করে বৃষ্টি নামবে কেউ বলতে পারে না। ঘর থেকে বের হওয়ার সময় ছাতা সঙ্গে নেয়াটা তাই তাদের চাই। সব মিলিয়ে এটি বিশ্বকাপের ১২তম আসর। ইংল্যান্ডের মাটিতে পঞ্চম। সেখানে এবারই প্রথম দুটি ম্যাচ টস ছাড়াই খারিজ করে দিলো বৃষ্টি। আর কোন বিশ্বকাপে দুটি ম্যাচ পুরোপুররি বৃষ্টির পেটে চলে যায়নি। ১৯৯৬ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ উপমহাদেশে আনতে সে সময়ের আইসিসি প্রেসিডেন্ট প্রয়াত জগমোহন ডালমিয়াকে যথেষ্ট কাঠখড় পোড়াতে হয়েছিল। বলা হয়েছিল, বৃষ্টি-বাদলার সময় উপমহাদেশে (ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা) বিশ্বকাপের আয়োজন করাটা অনুচিত। ডালমিয়া তখন বিশ্বকাপ আয়োজনের সময়ের আবহাওয়ার প্রতিবেদন আইসিসিতে জমা দিয়ে বোঝাতে সক্ষম হন যে, তখন বৃষ্টির কোন পূর্বাভাস নেই। ইংল্যান্ড এ রকম কিছু করেছে জানা নেই। বিলেতি বাবুদের সে রকম কিছু করার প্রয়োজনও বোধ হয় নেই! কিন্তু বিশ্বকাপে এই বৃষ্টি বিলাস যে বাংলাদেশের সেমিফাইনাল স্বপ্নে হতাশার আঁচড় বুলিয়ে দিলো। চার ম্যাচ থেকে আর যাই হোক, তিন পয়েন্ট মাশরাফিদের প্রাপ্য ছিল না।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগে ১৯৯২ ও ২০০৩ আসরে বৃষ্টিতে সমান দুটি করে ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে যৌথভাবে অনুষ্ঠিত ১৯৯২ বিশ্বকাপে প্রথমে ভারত-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ, এরপর ইংল্যান্ড-পাকিস্তানের ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়েছিল। বলে রাখা ভাল সেবারের মতো এবারও রাউন্ড রবিন পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশ্বকাপ। ২০০৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুইয়ে ও কেনিয়ায় যৌথভাবে আয়োজিত বিশ্বকাপে বাংলাদেশের একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়, প্রতিপক্ষ ছিল উইন্ডিজ। এরপর জিম্বাবুইয়ে-পাকিস্তান ম্যাচও ভেসে যায় সেবার বৃষ্টিতে। তবে এবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচটা আফসোসের কারণ হলেও ২০১৫ বিশ্বকাপে ব্রিসবেনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ ভেসে যাওয়াটা খুশির কারণই ছিল টাইগার সমর্থকদের জন্য! সেই ম্যাচ পয়েন্ট ভাগ করেই কোয়ার্টার ফাইনালের দুয়ার খুলে যায় বাংলাদেশের, পরের ম্যাচে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে তারা পৌঁছে যায় কোয়ার্টার ফাইনালে। এছাড়া বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়া ম্যাচটি ছিল ১৯৭৯ সালে, সেবার ইংল্যান্ডের আবহাওয়া হতাশ করেছিল উইন্ডিজ-শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটপ্রেমীদের।

এবার প্রথম ১৩ দিনেই রেকর্ড গড়েছে পরিত্যক্ত ম্যাচ। স্থানীয় আবহাওয়ার যা পূর্বাভাস তাতে সামনে আরও অনেক ম্যাচেরই এমন করুণ পরিণতি হতে পারে। চারদিক থেকে আসা তুমুল সমালোচনার মাঝে বৃষ্টি প্রতিটি ম্যাচে রিজার্ভ ডে না থাকার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন আইসিসির নির্বাহী প্রধান ডেভ রিচার্ডসন। তিনি জানিয়েছেন, টুর্নামেন্টের দৈর্ঘ্য, লোকবল, ম্যানেজমেন্ট সব মিলিয়ে সব ম্যাচে ‘রিজার্ভ ডে’ রাখা প্রায় দুঃসাধ্য এক কাজ। আর ‘রিজার্ভ ডে’র দিনেও বৃষ্টি হলে কী হতো, উল্টো সেই প্রশ্ন রেখেছে সংস্থাটি। উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালের পর লীগ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিতে এবারের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের দুটি সেমিফাইনাল এবং ফাইনালের জন্যই কেবল ‘রিজার্ভ ডে’র ব্যবস্থা রয়েছে। রিচার্ডসন বলেছেন, ‘ইংল্যান্ডের আবহাওয়া এবার বিচিত্র আচরণ করছে। গত দু’দিনে জুন মাসের গড় বৃষ্টিপাতের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ বৃষ্টিপাত দেখেছি। এমনটা সাধারণত হয় না। ইংল্যান্ডে জুন মাস সাধারণত বছরের তৃতীয় শুষ্কতম মাস। ২০১৮ সালের জুনে মাত্র ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল কিন্তু গত ২৪ ঘণ্টাতেই দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডে বৃষ্টি হয়েছে ১০০ মিলিমিটারের মতো, যা খুবই আশ্চর্যজনক।’

** ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে এবার বৃষ্টির এই দাপট থাকতে পারে আসরের পরবর্তী অনেক ম্যাচেও। ফলে কিভাবে নির্ধারিত হবে চার সেমি ফাইনালিস্ট? যদি একাধিক দলের পয়েন্ট সমান হয় সেক্ষেত্রে কী হবে। যদি বৃষ্টি হানা দেয় সেমি ফাইনালেও? ফাইনালেও যদি থাকে বৃষ্টি? দেখে নেয়া যাক সেক্ষেত্রে কিভাবে সমাধান দেবে আইসিসি-

১. রিজার্ভ ডে : লীগ পর্বে কোন রিজার্ভ ডে নেই। ম্যাচ ভেস্তে গেলে দুই দল পয়েন্ট ভাগাভাগি করে নেবে। শুধু সেমিফাইনাল ও ফাইনালের জন্য আছে রিজার্ভ ডে।

২. সুপার ওভার : শুধুমাত্র সেমিফাইনাল ও ফাইনালের জন্য আছে ‘সুপার ওভার’।

৩. লীগ পর্বে পয়েন্ট সমান হলে কী হবে?

* দলগুলোর জয় সংখ্যা বিবেচনায় আসবে প্রথমে।

* সেখানে সমাধান না হলে রান রেটে এগিয়ে থাকা দল সুবিধা পাবে।

* সেখানেও সমাধান না হলে আসরে তাদের মুখোমুখি লড়াইয়ে জয়ী দল সুবিধা পাবে।

* সর্বশেষ সমাধান না হলে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে দলগুলোর সিডিং অনুযায়ী অবস্থান নির্ধারণ করা হবে।

এদিকে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে দলগুলোর সিডিং ছিল (১) দক্ষিণ আফ্রিকা, (২) ভারত, (৩) অস্ট্রেলিয়া, (৪) ইংল্যান্ড, (৫) নিউজিল্যান্ড, (৬) পাকিস্তান, (৭) বাংলাদেশ, (৮) শ্রীলঙ্কা, (৯) আফগানিস্তান ও (১০) ওয়েস্ট ইন্ডিজ

৪. সেমিফাইনালের রিজার্ভ ডে’ও বৃষ্টিতে ভেসে গেলে লীগ পর্বে পয়েন্ট টেবিলে এগিয়ে থাকা দল চলে যাবে ফাইনালে।

৫. ফাইনালের রিজার্ভ ডে’ও বৃষ্টিতে ভেসে গেলে : দুই ফাইনালিস্ট ভাগাভাগি করে নেবে ট্রফি!