১৬ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দেশের ৩০ শতাংশ মানুষ ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত

  • গণসচেতনতা গড়ে তোলার তাগিদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধে গণসচেতনতা গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা। তারা বলেছেন, বাংলাদেশের প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ ফ্যাটি লিভার সমস্যায় ভুগছে। এছাড়া ৫০ শতাংশ মানুষের লিভারে ন্যাশ রয়েছে (ন্যাশ হচ্ছে, লিভারে চর্বি জমার পর প্রদাহ সৃষ্টি)। যকৃতের (লিভার) অন্যতম সমস্যা হচ্ছে ন্যাশ বা ফ্যাটি লিভার। ফ্যাটি লিভার থেকে লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যান্সারও হয়ে থাকে। ফ্যাটি লিভার চিকিৎসার মূল লক্ষ্যই হচ্ছে লিভারে সিরোসিস ও ক্যান্সারের ঝুঁকি প্রতিরোধ করা। দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক ন্যাশ দিবস ২০১৯ উপলক্ষে বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সেমিনারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা এসব কথা বলেন। ফোরাম ফর দ্য স্টাডি অব দ্য লিভার, বাংলাদেশ এই সেমিনারের আয়োজন করে। সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, বিএসএমএমইউ’র উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া, সম্প্রীতি বাংলাদেশের আহ্বায়ক পীযুষ বন্দোপাধ্যায়, নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ আলী শিকদার, সাবেক সচিব মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসিউটিক্যালস বিভাগের অধ্যাপক এবিএম ফারুক, জিটিভির প্রধান সম্পাদক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি তৌফিক মারুফ ও ডিপ্লোম্যাটিক করসপনডেন্ট এ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ডাঃ নুরুল ইসলাম হাসিব প্রমুখ। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) হেপাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ও ফোরাম ফর দ্য স্টাডি অব দ্য লিভার, বাংলাদেশের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডাঃ মামুন আল মাহাতাব (স্বপ্নীল)।

মামুন আল মাহাতাব বলেন, লিভারে অতিরিক্ত চর্বিজনিত একটি রোগ হচ্ছে ফ্যাটি লিভার। ফ্যাটি লিভারের কারণে লিভার সিরোসিস হয়। এমনকি লিভার ক্যান্সার হতে পারে। বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বেই ফ্যাটি লিভারে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। দেশের প্রায় ৩০ শতাংশ লোকের ফ্যাটি লিভার সমস্যা রয়েছে। এছাড়া ৫০ শতাংশ মানুষের লিভারে ন্যাশ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, পাশ্চাত্যে ফ্যাটি লিভারের মূল কারণ এ্যালকোহল পান। কিন্তু আমাদের মতো দেশগুলোতে মেদভুঁড়ি, ডায়াবেটিস, ডিজলিপিডেমিয়া বা রক্তে অতিরিক্ত চর্বি, হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপ আর হাইপোথাইরয়েডিজমই ফ্যাটি লিভারের মূল কারণ। তবে বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি খুবই বেশি। এ ছাড়া হেপাটাইটিস ভাইরাসগুলোর মধ্যে হেপাটাইটিস-সি ভাইরাস অনেক সময়ই ফ্যাটি লিভার সৃষ্টি করে থাকে।

ডাঃ মামুন আল মাহাতাব বলেন, ফ্যাটি লিভার রোগটি বিশ্বজনীন। সারাবিশ্বেই এর দেখা মেলে। তবে পশ্চিমা বিশ্বে এই রোগের প্রাদুর্ভাব খুবই বেশি। শতকরা প্রায় ৩০ ভাগ প্রাপ্ত বয়স্ক আমেরিকান এবং ১০ শতাংশ শিশু ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত। জাপান ও ইতালিতে মোট জনসংখ্যার ৩০ থেকে ৫৮ শতাংশের ফ্যাটি লিভার রয়েছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতে লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত রোগীদের শতকরা ১৬ ভাগের ফ্যাটি লিভার রয়েছে। আমেরিকায় পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৩৩ শতাংশ ডায়াবেটিস রোগীর ফ্যাটি লিভার রয়েছে। ভারতীয় ৪৯ শতাংশ ডায়াবেটিস রোগী ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত। এ ছাড়া এ দেশের প্রায় ৪ শতাংশ লিভার সিরোসিস রোগী ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত। ফ্যাটি লিভারে একবার লিভার সিরোসিস হলে ১৫ শতাংশ রোগী ৭ বছরের মধ্যে আর ২৫ শতাংশ রোগী ১০ বছরের মধ্যে মৃত্যুবরণের ঝুঁকিতে থাকেন বলেও জানান ডাঃ মামুন আল মাহাতাব। তিনি আরও বলেন, ফ্যাটি লিভারের কারণে লিভারে যে ক্ষয়ক্ষতি হয় তা থেকে লিভারকে রক্ষা ও পাশাপাশি লিভারে হেপাটাইটিস কমিয়ে আনার জন্য সারা পৃথিবীতেই ব্যাপক গবেষণা চলছে। আমাদের দেশেও সীমিত আকারে চলছে। এ কথা ঠিক যে এখনো এজন্য শতভাগ কার্যকর কোন ওষুধ আবিষ্কৃত হয়নি। ফ্যাটি লিভার চিকিৎসার মূল লক্ষ্যই হচ্ছে লিভার সিরোসিস ও ক্যান্সারের ঝুঁকি প্রতিরোধ করা। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, পরিকল্পিত ডায়েট কন্ট্রোল, শারীরিক ব্যায়াম, ওষুধ সেবন কিংবা প্রয়োজনে অপারেশন করা যেতে পারে। পাশাপাশি ফ্যাটি লিভারের কারণ নির্ণয় ও তার যথাযথ চিকিৎসাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন অধ্যাপক ডাঃ মামুন আল মাহাতাব।