১৭ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাসেলকে নিয়ে ভয় বাংলাদেশ কোচের!

মিথুন আশরাফ ॥ বিশ্বকাপে চার ম্যাচ খেলে ফেলেছে বাংলাদেশ। একটিতে জিতেছে। দুটিতে হেরেছে। একটি ম্যাচ বৃষ্টিতে হয়নি। পয়েন্ট পেয়েছে ৩। সামনে ১৭ জুন টনটনের দ্য কুপার এ্যাসোসিয়েটস কাউন্টি গ্রাউন্ডে নিজেদের পঞ্চম ম্যাচ খেলতে নামবে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বিধ্বংসী দল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। যে দলের পাঁচ-ছয়জন ব্যাটসম্যানের গায়ে ‘বিগ হিটার’ তকমা লেগে আছে। তবে বাংলাদেশ দলের ভাবনা বা ভয় যেটিই হোক, সেটি একজনকে নিয়ে। তিনি আর কেউ নন, অলরাউন্ডার আন্দ্রে রাসেল। এই অলরাউন্ডারকে নিয়েই যেন ভয়!

ভয়ের কারণও আছে। এবার আইপিএল মাতিয়েছেন রাসেল। ফর্মে আছেন। ব্যাট হাতে যেদিন জ্বলে উঠেন, সেদিন প্রতিপক্ষ বোলারদের বলগুলোকে দুমড়ে মুচড়ে দেন। আর বল হাতে উজ্জ্বলতা ছড়ানো মানে প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানরা নীরবে মাথা নত করে সাজঘরে ফেরেন। তবে বোলিংয়ের চেয়ে রাসেলের ব্যাটিংটা নিয়েই যেন বেশি ভয় থাকছে! তিনি যে বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান।

বাংলাদেশ দলে প্রধান কোচ স্টিভ রোডস তাই রাসেলকে নিয়ে যে ভাবনা আছে, তা অকোপটেই স্বীকার করেছেন। বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, ক্যারিবীয়দের প্রধান অস্ত্র আন্দ্রে রাসেল। সে এখন বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক ব্যাটসম্যান। তার দিনে সে সবকিছু করতে পারে। প্রতিপক্ষ বোলিং আক্রমণ দুমড়ে মুচড়ে দিতে পারে। তার বিপক্ষে বল করা এবং তার বিধ্বংসী ব্যাটিং আটকে রাখা খুব কঠিন।’

ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে ক্রিস গেইল রয়েছেন। যেদিন ব্যাট হাতে ছন্দে থাকেন, সেদিন যেন ব্যাটিং শিল্পের দেখা মিলে। শাই হোপ আছেন। যিনি বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলতে নামলেই যেন সেঞ্চুরির দেখা পেয়ে যান। শিমরন হেটমায়ারতো মুহূর্তেই অল্প বলে বেশি রান করে দেয়ার মতো ব্যাটসম্যান। এভিন লুইসতো বড় ইনিংস খেলার জন্য ফুসছেন। নিকোলাস পুরানতো ফর্মে রয়েছেন। কার্লোস ব্রাথওয়েট রান পাচ্ছেন না। ভাল দিনের অপেক্ষায় রয়েছেন। এই বিগ হিটারদের নিয়ে ভাবছে না বাংলাদেশ। আবার বল হাতে শেলডন কটরেল, জেসন হোল্ডার, ব্রাথওয়েটের সঙ্গে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ওশানে থমাস রয়েছেন। তারপরও সেই রাসেলকে নিয়ে চিন্তা। যে রাসেল এর আগে বাংলাদেশের বিপক্ষে কখনোই নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। বাংলাদেশের বিপক্ষে ৭ ম্যাচ খেলে ব্যাটিং গড় যাচ্ছে তাই, ৬.২০! সর্বোচ্চ রান ১৩। ৭ ম্যাচে ৬ উইকেটের বেশি শিকার করতে পারেননি। তারপরও কেন রাসেলকে নিয়ে এত চিন্তা? রাসেলের সাম্প্রতিক ফর্মই ভাবাচ্ছে। রোডস জানান, ‘আমরা রাসেলের কথা ভাবছি বিশেষ করে। আমার মনে হয় রাসেলকে ঠান্ডা রাখতে পারলে কাজটা সহজ হয়ে যাবে। আর শর্ট বল নিয়ে আমি ভীত নই। আশা করি আমাদের ব্যাটসম্যানরা শর্ট বল মোকাবেলা করবে ভালভাবেই।’ রাসেলকে নিয়ে ভয় জয় করার সঙ্গে বাংলাদেশ এখন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে দিতে পারলেই হলো। ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে হারলে সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্নে যে আঘাত মিলবে।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জেতার আশা ছিল। সেই সম্ভাবনাও ছিল। সম্প্রতি যে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। সর্বশেষ এশিয়া কাপেও হারিয়েছে। কিন্তু বৃষ্টি ম্যাচ হতে দেয়নি। পয়েন্ট ভাগাভাগি হয়েছে। তাতে সামনে যে বাংলাদেশের ৫ ম্যাচ রয়েছে, সবকটিতেই জিততে হবে। চারটিতে জিতলেও হতে পারে। কারণ, চার ম্যাচ খেলে এরইমধ্যে তিন পয়েন্ট আছে। আর পাঁচ ম্যাচের মধ্যে চারটিতে জিতলে হবে ১১ পয়েন্ট। তাতেও কাজ হতে পারে। আবার বৃষ্টিতে যে অবস্থা যাচ্ছে, খেলাই হচ্ছে না। পয়েন্ট শুধু ভাগাভাগি হচ্ছে, তাতে সামনের পাঁচ ম্যাচের মধ্যে তিনটি জিতলেও ভাগ্যে সেমিফাইনাল ধরা দিতে পারে। যদিও সেই পথ কঠিন! তারপরও বাংলাদেশের বৃষ্টি ভাগ্য সবসময়ই ভাল। এবারও ভাল হতে পারে। কিন্তু প্রধান কোচ রোডস সব দলকে নিয়ে ভাবছেন। সব দলকে কিভাবে হারানো যায়, সেই ভাবনাই করছেন। বলেছেন, ‘আমরা শুধু ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নিয়েই ভাবছি না। আমাদের চিন্তা-ভাবনা ও পরিকল্পনায় আছে বাকি সব দলও, যাদের সঙ্গে আমাদের খেলা বাকি আছে, তাদের সবার কথাই মাথায় রেখেছি আমরা।’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘আমরা আগের তিন খেলা থেকে কিছু না কিছু শিখেছি। রপ্ত করেছি। সবচেয়ে ভাল লেগেছে, আমাদের ব্যাটসম্যানরা শর্ট বলে ঘাবড়ে যায়নি। বেশ আস্থার সঙ্গে প্রতিপক্ষের খাটো লেংথের বলগুলো মোকাবেলা করেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শর্ট বল বেশ ভাল খেলেছে আমাদের ব্যাটসম্যানরা। ইংল্যান্ডের জফরা আর্চারকেও ভালভাবেই সামলেছে আমাদের ব্যাটসম্যানরা।’

বিশ্বকাপে খেলতে নামার আগে বাংলাদেশ ত্রিদেশীয় সিরিজ জিতেছে। সেটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জিতেই শিরোপা পেয়েছে। ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। তবে সেই দলে গেইল, হেটমায়ার, লুইস, পুরনোদের মতো ব্যাটসম্যান ও কটরেল, থমাসদের মতো বোলার এবং রাসেল ও ব্রাথওয়েটের মতো অলরাউন্ডার ছিলেন না। এবার তারা সবাই আছেন। সর্বশেষ চার ম্যাচের চারটিতেই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ত্রিদেশীয় সিরিজে পুরো দল না থাকলেও অন্য সময়মতো ছিলেন। রোডস ত্রিদেশীয় সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের খর্ব শক্তির দলের বিপক্ষে ফাইনালে জেতার হিসেব কষছেন। সঙ্গে থমাসকে সামলানো নিয়ে সতর্কতার কথাও জানান, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে আমরা খেলে আসলাম মাত্র। আয়ারল্যান্ডে যদিও ওশানে টমাসের মতো পেসার ছিলেন না। তবে তাকে আমরা এ বছরই নিজেদের দেশে খেলে এসেছি। তাই আমরা সতর্ক আছি। কীভাবে তাদের মোকাবেলা করব, সেটাও মোটামুটি স্থির করা আছে। এখন মাঠে ঠিকঠাকভাবে প্রয়োগের অপেক্ষা।’ মাঠে ঠিকভাবে সব প্রয়োগ করতে পারলে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানো সম্ভব। কিন্তু বাংলাদেশ দলের ভাবনা যেন রাসেলকে ঘিরেই। এই অলরাউন্ডারকে নিয়ে যেন ভয়!