২৭ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিশ্বকাপে বৃষ্টি এবং রিজার্ভ ডে প্রসঙ্গে যা বলছে আইসিসি...

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ব্রিস্টলে বৃষ্টির কারণে মঙ্গলবার বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার মধ্যকার ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়। ওইদিন পর্যন্ত এবারের বিশ্বকাপের প্রথম ১৩ দিনে মোট বাতিল হওয়া ম্যাচের সংখ্যা ৩টি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে বৃষ্টির কারণে ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ার নতুন রেকর্ড এটি, যা আগে কখনোই ঘটেনি! পয়েন্ট ভাগাভাগি হওয়ায় অনেক দুর্বল দল যেমন লাভবান হচ্ছে, তেমনি ফেবারিটদের জন্যে সেমির পথে যাত্রাটা হয়ে উঠছে আরও কঠিন। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে এত বড় আসরে চাইলে কি লীগ পর্বেও ‘রিজার্ভ ডে’ রাখা যেত না? এমন প্রশ্নের জবাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি (ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল) বলছে, টুর্নামেন্টের দৈর্ঘ্য, লোকবল, ম্যানেজমেন্ট সব মিলিয়ে সেটি প্রায় দুঃসাধ্য এক কাজ। আর ‘রিজার্ভ ডে’র দিনেও বৃষ্টি হলে কী হতো, উল্টো সেই প্রশ্ন রেখেছে সংস্থাটি। উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালের পর লীগ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিতে এবারের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের দুটি সেমিফাইনাল এবং ফাইনালের জন্যেই কেবল ‘রিজার্ভ ডে’র ব্যবস্থা রয়েছে।

প্রতি ম্যাচের জন্য রিজার্ভ ডে রাখলে বিশ্বকাপের দৈর্ঘ্য অনেক বেড়ে যেত। যার ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত কঠিন। আইসিসির প্রধান নির্বাহী ডেভ রিচার্ডসন বলেন, ‘প্রতিটি ম্যাচের জন্য রিজার্ভ ডের ব্যবস্থা করতে হলে টুর্নামেন্টের দৈর্ঘ্য অনেক বেড়ে যাবে। তখন পুরো টুর্নামেন্টটা সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করা এক রকম অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। পিচ প্রস্তুত করা, দলগুলোর যাত্রার সময়সূচী ও বিশ্রামের রুটিন, থাকার জায়গা, ভেন্যু ঠিক দিনে পাওয়া যাবে কি না, স্বেচ্ছাসেবক ও ম্যাচ অফিসিয়ালদের প্রাপ্যতা ও উপস্থিতি, সরাসরি সম্প্রচারে সমস্যা হবে কি না, এসব কিছুর ওপর প্রভাব পড়বে তখন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, অনেক দর্শকই আছেন, যারা অনেকক্ষণ যাত্রা করে খেলা দেখতে আসেন, তাদের ক্ষেত্রেও সমস্যা হতে পারে। তার ওপর যেদিন রিজার্ভ ডে রাখা হবে, সেদিনও যে বৃষ্টি হবে না, তারও তো কোন নিশ্চয়তা নেই!’ রিজার্ভ ডেতে খেলা আয়োজন করা মানে বিপুল পরিমাণ জনবলের দরকার হবে, ‘একটা ম্যাচ যখন আয়োজন হয়, তখন ১ হাজার ২০০ জনের মতো মানুষ সংশ্লিষ্ট থাকে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় তাদের যাতায়াত করতে হয়। রিজার্ভ ডেতে ম্যাচ রাখা মানে আরও মানুষকে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ায় নিয়োজিত করা। তবে নকআউট পর্বে ম্যাচগুলোর জন্য রিজার্ভ ডে রয়েছে। আশা করছি, গ্রুপ পর্বের ৪৫ ম্যাচের মধ্যে অধিকাংশ ম্যাচই ফলাফল দেখবে।’ যোগ করেন রিচার্ডসন।

তাছাড়া ইংল্যান্ডে এই সময়ে এমন বৃষ্টিপাত আশা করেনি আইসিসি, জানিয়েছেন রিচার্ডসন, ‘ইংল্যান্ডের আবহাওয়া বড় বিচিত্র আচরণ করছে। গত দু’দিনে আমরা জুন মাসের গড় বৃষ্টিপাতের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ বৃষ্টিপাত দেখেছি। এমনটা সাধারণত হয় না। ইংল্যান্ডে জুন মাস সাধারণত বছরের তৃতীয় শুষ্কতম মাস। ২০১৮ সালের জুনে মাত্র ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল কিন্তু গত ২৪ ঘণ্টাতেই দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডে বৃষ্টি হয়েছে ১০০ মিলিমিটারের মতো, যা খুবই আশ্চর্যজনক। যখন বৃষ্টি হয়, আমাদের মাঠের কর্মীরা ম্যাচ অফিসিয়ালদের সঙ্গে এক হয়ে কাজ করেন, যেন যে করেই খেলা আয়োজন করা যায়। কার্টেল ওভারে হলেও খেলার জন্য আমাদের চেষ্টার কমতি নেই।’