১৭ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দীর্ঘায়ু প্রাণী

মানুষ গড়ে ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়স পর্যন্ত বাঁচে। এদের মধ্যে কয়েকজন মানুষ হয়ত ১০০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে, যাদের দীর্ঘজীবী মানুষ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। কিন্তু পৃথিবীতে এমন অনেক প্রাণীই আছে, যারা শত শত বছর যাবত বেঁচে থাকার ক্ষমতা নিয়েই জন্মায়। শত শত বছর ধরে বেঁচে থাকা পৃথিবী পরিভ্রমণকারী তেমনই কিছু দীর্ঘায়ু প্রাণীদের নিয়ে আমাদের আজকের আয়োজন। লিখেছেন - মুনতাসির সিয়াম

.

টুয়াটারা

টুয়াটারা নিউজিল্যান্ডে বসবাসরত একটি ছোট্ট সরীসৃপ। নিউজিল্যান্ডের ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ৩২টি দ্বীপে এদের বসবাস। এরা দেখতে অনেকটা গিরগিটির মতো। আকৃতিতে প্রায় এক থেকে আড়াই ফুটের মতো দীর্ঘ এবং ৩০০ গ্রাম থেকে ১ কেজির মতো ওজন হয় এদের। টুয়াটারার গায়ের রং সবুজাভ ধরনের ও পিঠের দিকে কাঁটার মতো বাড়তি অংশ থাকে। মজার বিষয় হলো, টুয়াটারার মাথার ওপরের দিকে একটি বিশেষ চোখ বিদ্যমান, যা তৃতীয় চোখ নামে পরিচিত। জন্মের পর থেকে ৬ মাস বয়স পর্যন্ত এ চোখে দেখতে পায় টুয়াটারা। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চোখের ওপর পর্দা তৈরি হয়ে চোখটি ঢেকে যায়। অদ্ভুত মনে হলেও, টুয়াটারা ২০০ মিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীতে বসবাসরত ডাইনোসরের একটি স্বতন্ত্র বংশধর। বর্তমান সময়ে এই প্রজাতি বিপন্ন হয়ে পড়লেও, এদের মধ্যে অনেকেই এখনও প্রায় ১১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে দীর্ঘ জীবনযাপন করে বেড়াচ্ছে।

.

গ্রিনল্যান্ড হাঙ্গর

উত্তর আটলান্টিক ও উত্তর মহাসাগরের হিমশীতল পানিতে বেড়ে ওঠা হাঙ্গরকে গ্রিনল্যান্ড হাঙ্গর নামেই ডাকা হয়। এটি সেখানকার সবচেয়ে বড় প্রাণী। তবে ধিরস্থির শিকারি হিসেবেই বেশি পরিচিত সবচেয়ে দীর্ঘায়ু মেরুদ-ী এই প্রাণী। পরিণত বয়সে গ্রিনল্যান্ড হাঙরের দৈর্ঘ্য ১৩ থেকে ১৬ ফুট পর্যন্ত হয়ে থাকে। সাধারণত স্ত্রী হাঙ্গরগুলো পুরুষ হাঙ্গরগুলোর চাইতে আকারে বড় হয়। তবে এদের দৈহিক বৃদ্ধি খুবই নিম্ন মানের। প্রতিবছরে ১ সেন্টিমিটারেরও কম পরিমাণ দৈহিক বৃদ্ধি ঘটে এদের। কাজেই গবেষকগণ এদের বয়স সম্পর্কে জানতে রেডিওকার্বন পদ্ধতির আশ্রয় গ্রহণ করেন। এ গবেষণায় তাঁরা ২৪টি মতান্তরে ২৮টির মতো স্ত্রী হাঙরের চোখের লেন্সের নিউক্লিয়াস পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেছেন। যেখান থেকে প্রাপ্ত তথ্য মোতাবেক, এ হাঙ্গরগুলোর গড় বয়স ৩৯২ বছর এবং যাদের প্রত্যেকেই ২৭২ থেকে ৫১২ বছর পর্যন্ত আয়ুষ্কাল লাভ করেছে। সার্বিক বিশ্লেষণে দেখা যায় যে এদের গড় বয়স ৪০০ বছরের মতো, মেরুদন্ডী প্রাণীদের মধ্যে যা সর্বোচ্চ।

.

বোহেড হোয়েলস

যেখানে অন্যান্য তিমিরা গভীর সমুদ্রে বাচ্চার জন্ম দেয়, সেখানে বোহেড হোয়েলস তার বাচ্চা জন্ম দেয় সমুদ্রের উপরিভাগেই। লম্বায় বোহেড হোয়েলস প্রায় ৬৬ ফুটের মতো হয়ে থাকে। আর এদের ওজন হয়ে থাকে প্রায় ৭৫ থেকে ১০০ টন পর্যন্ত। বোহেড হোয়েলস প্রায় ২১১ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে। তবে গভীর সমুদ্রের পরিবর্তে সমুদ্রের উপরিভাগেই এদের বিচরণ হওয়ায়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শিকারিদের হাতে এই তিমির মৃত্যুবরণ ঘটে।

.

সামুদ্রিক কচ্ছপ

সমগ্র বিশ্বে মাত্র সাত প্রজাতির কচ্ছপের দেখা মেলে। এই সাত প্রজাতির মধ্যে Leatherback Sea Turtle আকারের দিক থেকে সবচেয়ে বড় কচ্ছপ। এদের সামনের ফ্লিপারটি লম্বায় প্রায় ৯ ফুট পর্যন্ত হতে পারে। সাধারণত কচ্ছপের পিঠের অংশ শক্ত খোলস দ্বারা আবৃত থাকে। তবে এই প্রজাতির কচ্ছপের পিঠের অংশ তৈলাক্ত মাংসল ধরনের হয়। সামুদ্রিক কচ্ছপগুলো লম্বায় ১০ ফুট পর্যন্ত হতে পারে। এদের ওজনও সাধারণ কচ্ছপদের তুলনায় অনেক বেশি হয়। প্রায় ১০০ কেজি পর্যন্ত এদের ওজন হতে পারে। সামুদ্রিক কচ্ছপ ১৫০ থেকে ১৮০০ বছর পর্যন্ত জীবিত থাকতে পারে বলে তথ্য পাওয়া যায়।

.

জাপানী কৈ মাছ

মাছের নামটা পরিচিত হলেও বলে রাখা উচিত এটা বাংলাদেশের কৈ মাছ নয়। এটি জাপানী কৈ মাছ। এই মাছগুলো সাধারণত বাড়ির ভেতর বা বাইরে ছোট খাটো জলাশয় কিংবা এ্যাকুরিয়ামে সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য পোষা হয়। সাদা, কালো, নীল, হলুদ, লাল, ক্রিমসহ বিভিন্ন রঙের সংমিশ্রণে হয়ে থাকে এদের দেহ। জাপানী কৈ মাছ সাধারণত ৫০ বছরের মতো বেঁচে থাকে। তবে হানাকো নামক এই প্রজাতির একটি লাল রঙের মাছ আছে, যাদের ২২৬ বছর পর্যন্ত সময়কাল ধরে বেঁচে থাকার রেকর্ড রয়েছে।

.

মিঠা পানির ঝিনুক

বর্তমান সময়ে বিলুপ্তপ্রায় একটি ঝিনুক প্রজাতি হচ্ছে মিঠা পানির ঝিনুক। এর বৈজ্ঞানিক নাম Margaritifera margaritifera। এই প্রজাতির ঝিনুক মানুষ প্রতিনিয়ত মুক্তা পাওয়ার আশায় নিধর করে চলেছে। কেননা, মিঠে পানির ঝিনুক উৎকৃষ্ট মানের মুক্তা তৈরির জন্য বিখ্যাত। তবে চাহিদা বেশি থাকলেও তুলনামূলকভাবে এদের বংশবৃদ্ধি খুব কমই ঘটেছে। এদের জীবনকাল প্রায় ২৮০ বছরের মতো।