১৭ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দুর্নীতি দূর হবে-

বাংলাদেশের সম্মুখ যাত্রায় সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো দুর্নীতি। নাগরিক হিসেবে আমাদেরও মানবিক নীতিনিষ্ঠ হওয়ার পথে, অর্থাৎ সত্যিকার মানুষ হওয়ার পথে বাধা হিসেবে বিরাজ করছে এই দুর্নীতি। দুর্নীতি প্রত্যাশিত নয়, এটি দেশ ও জাতির জন্য মহাক্ষতিকর। বর্তমান সরকার প্রথম থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলেই বিশ্বব্যাপী দুর্নীতির ধারণা সূচকে বাংলাদেশের অগ্রগতির সংবাদ মিলছে। শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১৫ থেকে হয়েছে ১৭তম। টিআইবি শেষ পর্যন্ত স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে যে, দেশে দুর্নীতি কমেছে। দুর্নীতি কমলেও আত্মতুষ্টির সামান্যতম সুযোগ নেই। দুর্নীতি দমনের জন্য রাষ্ট্রের যে সংস্থা রয়েছে সেই দুর্নীতি দমন কমিশনের একজন পরিচালকের দুর্নীতির কথা ফলাও করে গণমাধ্যমে এসেছে। এ ধরনের বাস্তবতা দেশকে যেমন আন্তর্জাতিক পরিম-লে প্রশ্নবিদ্ধ করে, তেমনি মানুষের ভেতরও হতাশা তৈরি হয়। অভিযুক্ত পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে দ্রুত বরখাস্ত করা হয়েছে। আগামীতে তাকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে। এসব তৎপরতা এটাই স্পষ্ট করে তোলে যে বর্তমান সরকার দুর্নীতির ব্যাপারে কতখানি আপোসহীন। কিছুকাল আগে সংসদে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছিলেন, ‘আমরা চাই দেশ এগিয়ে যাক, উন্নত হোক। আমরা চাই না দেশকে নিয়ে আর কেউ ছিনিমিনি খেলুক। কেউ দুর্নীতি করলে তাকে শাস্তি পেতেই হবে। অপরাধী যেই হোক, শাস্তি তাকে পেতেই হবে। অপরাধে যুক্ত কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদ ও দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয়া হবে না।’ সাম্প্রতিককালের চাঞ্চল্যকর ওই দুর্নীতির বিষয়টি খোলাসা হয়ে পড়লে সংসদে প্রধানমন্ত্রী আবারও তার সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বিষয়টি জনতার কাছে তুলে ধরেছেন। দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেছেন, নিজ দলেরও কেউ যদি দুর্নীতিসহ কোন অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকে তাহলে তাকেও ছাড় দেযা হবে না। দুর্নীতি অন্যায় দূর করতে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।

বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তখন দেশ বার বার বিশ্বে দুর্নীতিতে, চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। খালেদা জিয়া ও তার বড় ছেলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির বহু অভিযোগ উঠেছে। শেষ পর্যন্ত দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সুনির্দিষ্টভাবে তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে যেটির রায় পেতে প্রায় এক দশক লেগেছে। রায়ও হয়েছে এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী জেলে গেছেন। এটি এখন স্পষ্ট যে, খালেদা জিয়ার বিচার দুর্নীতির বিরুদ্ধে বড় বার্তা। বাস্তবতা হলো বাংলাদেশের আইনী, প্রাতিষ্ঠানিক ও নীতি কাঠামো তুলনামূলকভাবে সুদৃঢ়তর হয়েছে এমন ধারণা থেকে সূচকে বাংলাদেশের অবস্থানের উন্নতি হয়েছে।

দুর্নীতি থাকলে উন্নয়ন যে ব্যাহত হয় এবং দেশের সত্যিকার উন্নয়ন হয় না- সে কথা বলাই বাহুল্য। আমরা আগেও বলেছি গণতন্ত্র ও উন্নয়ন একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। গণতন্ত্র বহাল থাকলে উন্নয়ন হয় দেশের, পক্ষান্তরে গণতন্ত্রবিরোধীরা ব্যাহত করে উন্নয়ন। বর্তমান সরকার দেশকে উন্নত এবং জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন করার লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে। আর এ কাজে সফলতা আসবে তখনই, যখন সম্ভব হবে দুর্নীতি, জঙ্গীবাদ ও স্বজনপ্রীতি নিয়ন্ত্রণ এবং অপসারণ করা।

বর্তমান সরকার সর্বক্ষেত্রে দুর্নীতি কমিয়ে আনতে সমর্থ হয়েছে। এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য দুর্নীতিবাজদের বিচারের মুখোমুখি করে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতি যেন জনআস্থা বজায় থাকে সে জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া জরুরী হয়ে পড়েছে।