২০ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ইয়াবার আগ্রাসন

কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা শিবিরগুলো ইয়াবার ডিপো এই সংবাদ পুরনো। মিয়ানমারের ইয়াবা কারখানার সরবরাহকারী এবং সীমান্তে দেশীয় কারবারীরাও এখন ইয়াবার ডিপো হিসেবে রোহিঙ্গা শিবিরকেই নির্ভরযোগ্য স্থান মনে করছে এই ধরনের খবরও প্রকাশ পেয়ে। সেই সূত্রে গত কয়েক মাস ধরে ওইসব এলাকায় ইয়াবাবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ফলে সেখানে ইয়াবার পাচার হ্রাস পেয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক ইয়াবাবিরোধী কঠোর ভূমিকার কারণে এখানকার কারবারিরা অনেকটা কাবু হয়ে পড়েছে। তবে বড় চালানের পাচার হ্রাস পেলেও ছোট ছোট অংশে ইয়াবা পাচার সারা দেশেই হচ্ছে। প্রতিদিন পত্রপত্রিকায় এই ধরনের সংবাদও প্রকাশ পাচ্ছে।

বুধবার খোদ রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৯ হাজার ইয়াবাসহ দুই রোহিঙ্গাকে আটক করেছে বিমানবন্দর পুলিশ। দুই রোহিঙ্গার কাছে বাংলাদেশের নাগরিকত্বের পরিচয়পত্রও পাওয়া গেছে। জানা যায়, বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালের বহিরাঙ্গনে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিল তারা। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে বিভ্রান্তিকর এবং সন্দেহভাজন তথ্য দেয় তারা। পরে দু’জনকে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের হেফাজতে নিয়ে তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তাদের পেটের ভেতরে ইয়াবা পাওয়া যায়। প্রায় নয় হাজার ইয়াবা বড়ি কালো টেপ দিয়ে প্যাঁচানো অবস্থায় তা পেটে করে বহন করছেন তারা। তাদের পেট থেকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় ইয়াবাগুলো বের করা হয়। ইয়াবাগুলো কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে এনে ঢাকার এক ব্যবসায়ীর কাছে তাদের পৌঁছানোর কথা ছিল। জানা যায়, তারা দু’জন অনেক আগে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসেছে। তারা চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার লক্ষ্মীর খিল এলাকায় বাস করে। সেখান থেকেই তারা বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে।

দেশজুড়ে মরণ নেশা ইয়াবার ভয়াবহ আগ্রাসনের জাল মূলত নিয়ন্ত্রিত হয় কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে। সেই চেইনে ইয়াবার প্রসার এখন সমগ্র দেশে। মাত্র ৫ বছর আগেও দেশে ইয়াবা ব্যবসায়ীর সংখ্যা ছিল ৫৫৪। এ সংখ্যা এখন দ্বিগুণের বেশি বেড়ে ১ হাজার ২২৫-এ দাঁড়িয়েছে। সংবাদটি উদ্বেগের। ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এ তালিকা খোদ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের। সবার নাম-ঠিকানাও প্রশাসনের নখদর্পণে। বলার অপেক্ষা রাখে না, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথাযথ ব্যবস্থা না নেয়ার কারণেই মাত্র ৫ বছরে ইয়াবা ব্যবসায়ীর সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে দু’-একজনকে বড় ঘটনায় গ্রেফতার করা হলেও অদৃশ্য কারণে এক সময় সবকিছু থেমে যায়। আর প্রভাবশালীরা ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে বলে পুলিশও যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারে না। অথচ ইয়াবা-মাদকে জড়িত হয়ে আমাদের তরুণ সমাজ বিভিন্ন গর্হিত অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। ইতোমধ্যে ইয়াবা মাদকের ভয়াল থাবায় অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে।

মিয়ানমারে মানবতাবিরোধী অপরাধের শিকার হয়ে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গার ভার, মরণনেশা ইয়াবার ভয়াল থাবা এবং মানব পাচারকারীদের দৌরাত্ম্য এই তিন কারণে ‘কুপোকাত’ বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘ সমুদ্র সৈকতের জেলা কক্সবাজার। শুধু কক্সবাজার জেলা নয়, এরা ছড়িয়ে পড়েছে খোদ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। মানবতার রক্ষায় যাদের আশ্রয় দেয়া হয়েছে তারাই যদি দেশের মাদক আগ্রাসনের অন্যতম কারণ হয়, তা অবশ্যই ভাবনার বিষয়। রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গ্রেফতারে ঘটনা সেই বিষয়টিই মনে করিয়ে দেয়। ইয়াবার আগ্রাসন থেকে তরুণদের রক্ষা করতে হলে বিষয়টির ওপর বিশেষ নজর দেয়া দরকার।