১৬ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কালোটাকার মালিক-ঋণ খেলাপিরা প্রণোদনা পায়, কৃষকরা পায় না : মেনন

কালোটাকার মালিক-ঋণ খেলাপিরা প্রণোদনা পায়, কৃষকরা পায় না   : মেনন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, বাজেটে কালো টাকার মালিও ও ঋণ খেলাপিরা প্রণোদনা পায়, কিন্তু কৃষকরা পায় না। শনিবার গুলিস্তানের মহানগর নাট্যমঞ্চে কৃষক-খেতমজুর কনভেনশনে তিনি একথা বলেন।

কৃষি ও কৃষক রক্ষা, খেতমজুরদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, নারী কৃষি শ্রমিককে কাজের স্বীকৃতি ও মজুরি বৈষম্য দূর করা তথা কৃষক-খেতমজুরদের ঐক্যবদ্ধ ও সংগঠিত হওয়া এবং আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায়ের লক্ষ্যে জাতীয় কৃষক সমিতি ও বাংলাদেশ খেতমজুর ইউনিয়নের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ কনভেনশনে কৃষকদের ১২ দফা ও খেতমজুরদের ১২ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। এসব দাবি আদায়ে আগামী বোরো মৌসুম পর্যন্ত আন্দোলনের রূপরেখা ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশ খেতমজুর ইউনিয়নের সভাপতি বিমল বিশ^াসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ কনভেনশন জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে উদ্বোধন হয়।

কনভেনশনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। এছাড়াও দলটির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, পলিটব্যুরো সদস্য ও জাতীয় কৃষক সমিতির সভাপতি নুরুল হাসান, কার্যকরী সভাপতি মাহমুদুল হাসান মানিক, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম গোলাপ, সহসভাপতি মনোজ সাহা, আব্দুল মজিদ সাধারণ সম্পাদক, রবীন সরেন, এম এ সবুর, বদরুল আলম, শামসুল হুদা, মুস্তফা লুৎফুল্লাহ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাশেদ খান মেনন বলেন, যে কৃষক তেভাগা আন্দোলনে আওয়াজ তুলেছিলো ‘জান দেবো, তবু ধান দেবো না’ সেই কৃষক আজ ক্ষেতের ধান পুড়িয়ে দিচ্ছে দাম না পেয়ে, এর দায় সরকারকে নিতে হবে। সরকার কৃষিতে ভর্তুকি দিচ্ছে তাকে সাধুবাদ জানাই, কিন্তু কৃষি পণ্য ক্রয়েও ভর্তুকি দিতে হবে। পোষাক কারখানা মালিক, ঋণখেলাপী, কালো টাকার মালিকরা প্রণোদনা পায় কৃষক তার শস্য বিক্রিতে কেন প্রণোদনা পাবে না।

তিনি বলেন, আজ ধান উৎপাদনে বেশি খরচের পিছনে খেতমজুরদের মজুরিকে অজুহাত হিসেবে তুলে ধরে কৃষক ও খেতমজুরকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়া হচ্ছে। অথচ খেতমজুররা দৈনিক ৭০০-৯০০ টাকা পায় মাত্র তিন মাসের কাজের সময়ে। যা দিয়ে তাদের পুরো বছরের সংসার চালানো ও খোড়াক যোগাতে হয়। অথচ উল্টো দিকে এই কামলার অভাবকে পুঁজি করে এবারের বোরো মৌসুমী সরকারি কর্তা ব্যক্তিরা বিভিন্ন সংগঠন যেভাবে জিন্স-টি শার্ট, নতুন লুঙ্গি-গামছা পরে ফটোশেসনের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছিলো তা রীতিমতো খেতমজুরদের উপহাস করা হয়েছে। প্রয়োজন এখন ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সংগঠিত হবার। সেই সংগঠিত শক্তিই পারবে এই কৃষক-খেতমজুর কনভেনশনের ঘোষণাকে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাস্তবায়িত করতে।

কনভেনশনে ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, উদারনৈতিক পুঁজিবাদ অনুসরণ করে রাষ্ট্র কৃষক-খেতমজুরদের শোষণ করছে। আজ ৯৫ ভাগ মানুষের শ্রমের উৎপাদন ৫ ভাগ লুট করে খাচ্ছে। কৃষক-শ্রমিক মেহনতি মানুষ আজ শোষণের যাতাকলে পিষ্ট হচ্ছে। আর তাই কনভেনশন ঘোষণাকে আন্দোলনে রূপ দিয়ে সংগঠিত সংগ্রাম গড়ে তুলে দাবি আদায়েই একমাত্র পথ।

বাজেটে শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের

আশা আকাংখার প্রতিফলন ঘটেনি- স্কপ

জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থ বছরের জন্য উত্থাপিত বাজেট গতানুগতিক ধারায় প্রণীত হয়েছে। এতে শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের আশা আকাংখার প্রতিফলন ঘটেনি। এই বাজেট প্রবৃদ্ধি এবং বৈষম্য দুটোই বাড়াবে। মালিকের সম্পদ এবং শ্রমিকের দুর্দশা বৃদ্ধি করবে। নেতৃবৃন্দ বাজেটে শ্রমিকদের জন্য সুস্পষ্ট কোন বরাদ্দ না থাকায় হতাশা ব্যক্ত করেছেন।

শনিবার বাজেট সম্পর্কে প্রতিক্রীয়া প্রকাশের এক বিবৃতিতে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্যপরিষদের নেতৃবৃন্দ বলেন, বাজেটের বিশালত্ব নিয়ে অর্থমন্ত্রীর গর্ব থাকলেও এই বাজেটে শ্রমিকরা তাদের কোন স্থান খুঁজে পাচ্ছে না। বাজেটে মালিকদের জন্য কর ছাড়, রপ্তানি প্রণোদনা, ঋণ সহজীকরণ, খেলাপি ঋণ মওকুফ, উদ্যোক্তা তহবিল সহ প্রকাশ্য অপ্রকাশ্য অনেক সুযোগ দেয়া হলেও শ্রমিকের জন্য কিছুই নেই। অথচ এই শ্রমজীবী মানুষ পরোক্ষ করের বিপুল বোঝা বহন করে থাকে। অর্থমন্ত্রী এবং তার মন্ত্রণালয় দেশের ৬ কোটি ৩৫ লক্ষ শ্রমজীবী মানুষ যারা কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতে শ্রম দিয়ে অর্থনীতির চাকাকে সচল রেখেছেন, যাদের শ্রমে রপ্তানি আয় এবং রেমিটেন্স আসে সেই দেশি ও প্রবাসী শ্রমিকদের প্রতিনিধিদের সাথে বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় কোন আলোচনা করার প্রয়োজন বোধ করেননি।