২৪ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জাতীয় বাজেট ২০১৯-২০

গত বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জাতীয় সংসদে আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেছেন। এটি নতুন অর্থমন্ত্রীর প্রথম বাজেট, জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী প্রথম বাজেট। উল্লেখ্য, অর্থমন্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমবারের মতো বাজেট বক্তৃতার কিয়দংশ পড়াসহ বাজেটোত্তর সাংবাদিক সম্মেলনেও নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং। এর আগে দশকজুড়ে বাজেট পেশের অনন্য রেকর্ড গড়েছে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার। ফলে অভিজ্ঞ ও বিগত দশক থেকে শিক্ষা গ্রহণকারী এই সরকারের নতুন বাজেট যে ভারসাম্যপূর্ণ হবে, সেটি অনুমান করা গিয়েছিল আগেই। বাস্তবেও তাই ঘটেছে। যথারীতি আশাজাগানো এই বাজেটে রয়েছে উচ্চাভিলাষও। ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিবেচনা করলে বলতেই হবে সম্ভাবনাময় আগামীর স্বপ্নের সংকেত আছে এই বাজেটে। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বেশকিছু ইতিবাচক পদক্ষেপের প্রস্তাবনা লক্ষণীয়। অবশ্য বাজেটে বিপুল ব্যয়ের বিষয়টি শুরুতেই নজর কাড়ে। আয়-ব্যয়ের তারতম্য বা ঘাটতির অঙ্কটিও কিছুটা চমকিত করে। তবে স্তরে স্তরে সূক্ষ্মদৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করলে এ কথা বলতেই হবে যে, দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে সচল রাখার তাগিদে এমন আকারের বাজেট প্রস্তাবনা বিচক্ষণতারই পরিচায়ক।

বাজেট ঘোষণা মানেই একদিকে স্বপ্ন, অন্যদিকে শঙ্কা। আশা আর স্বপ্ন হাত ধরাধরি করে চলে। বাজেটে আশার জায়গা তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকে, আর তাতে ভর করেই মানুষ স্বপ্ন দেখে উন্নতি ও সমৃদ্ধির। অন্যদিকে নতুন করে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি কিংবা মূল্যস্ফীতির সংকেত মিলবে কিনা, এমন শঙ্কাও মানুষের মনে উঁকি দিয়ে যায়। একজন দায়িত্বশীল অর্থমন্ত্রী উভয় দিক সম্পর্কে সচেতন থাকেন। তার প্রচেষ্টা থাকে নিঃসন্দেহে জনকল্যাণকর কিছু করার। টাকা আসবে কোথা থেকে আর খরচ হবে কোন খাতে কত- এটা বাজেটের সারকথা হলেও এই হিসাব প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে একটি সরকারের বৈশিষ্ট্য প্রতিফলিত হয়। সরকারের রূপকল্প এবং অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

অন্যবারের তুলনায় এবার বাজেটের আকার বড় হলেও এটি বিগত বাজেটসমূহের ধারাবাহিকতারই অংশ। ইতোপূর্বে প্রতিটি বাজেটেই সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে আকার বেড়েছে। বাংলাদেশ বিশ্বের জনবহুল দেশগুলোর একটি। আমাদের জাতীয় আয় বাড়ছে, বাড়ছে অর্থনীতির আকারও। বাজেট হচ্ছে কোন সরকারের উন্নয়ন কৌশলের বাস্তবায়নের ভিত্তি। এই বাজেটকে এবারও আমরা ‘করবান্ধব’ হিসেবে বিবেচনা করতে পারি। করের আওতা বাড়ানোর বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। একই সঙ্গে এটি যে কল্যাণকামী ও সমৃদ্ধির সোপানে অগ্রযাত্রার লক্ষ্যে প্রণীত বাজেট- তাতেও কোন সংশয় নেই। পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার এই বাজেটে উন্নয়ন ব্যয় হচ্ছে দুই লাখ ১১ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা। আর অনুন্নয়ন ব্যয় নির্ধারিত হয়েছে তিন লাখ ১০ হাজার ২৬২ কোটি টাকা। শিক্ষাই জাতির মেরুদ-। শিক্ষা উন্নয়ন খাতে এবার স্মরণকালের সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুত ও জ্বালানি খাতে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। এটিকে ইতিবাচকভাবে না দেখার কোন কারণ নেই।

বিগত বছরের মতোই আগামী অর্থবছরের বাজেটে একটি লক্ষযোগ্য দিক হচ্ছে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ১৪টি বিভিন্ন ভাতার হার বৃদ্ধি। একই সঙ্গে বাড়ছে সুবিধাভোগীর সংখ্যাও। দারিদ্র্য হ্রাসকেই গুরুত্ব দেয়া হয়েছে সর্বাধিক। এবার সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ৭৪ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। লক্ষণীয়, বর্তমান সরকারের শাসনামলে প্রতিটি বাজেটেই সামাজিক নিরাপত্তা খাত গুরুত্ব পেয়ে আসছে।

কর্মহীন তথা বেকারদের জন্য সুখবর আছে বাজেটে। ২০৩০ সালের মধ্যে ৩ কোটি কর্মসংস্থান তৈরি করে বেকারত্বের অবসান ঘটানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। বিশেষ জনগোষ্ঠীর প্রশিক্ষণে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা একটি চমক। করমুক্ত আয়ের সীমা আছে আগের মতোই। প্রতি অর্থবছরের শেষে দেখা যায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর কিছু ভাগ বাস্তবায়িত হয় না। বাজেট বাস্তবায়নে সরকারের সক্ষমতার ব্যাপারে আমরা আশাবাদী হতে চাই।

নির্বাচিত সংবাদ