২৪ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কৃষি শুমারি

সারাদেশে শুরু হয়েছে কৃষি শুমারি- ২০১৯। ৯ জুন বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি এর আনুষ্ঠানিক সূচনা করেছেন। চলবে ২৩ জুন পর্যন্ত। এতে কৃষি খামারের সংখ্যা, খামারের আকার, ভূমির মালিকানা, ভূমির ব্যবহার, কৃষির প্রকার, শস্যের ধরন, চাষ পদ্ধতি, গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি-ছাগলের সংখ্যা, মৎস্য খামার সর্বোপরি কৃষি ক্ষেত্রে নিয়োজিত জনবল সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হবে। উল্লেখ্য, অতি প্রয়োজনীয় এসব তথ্য সার্বিক জাতীয় উন্নয়ন ও পরিকল্পনা প্রণয়নে শুধু সহায়ক নয়, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অপরিহার্য। কাজটি সুফলদায়ক করার জন্য কৃষি শুমারি কাজে নিয়োজিত তথ্য সংগ্রহকারীদের সঠিক তথ্য ও উপাত্ত দিয়ে সহযোগিতা করাও অত্যন্ত প্রয়োজন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ কোটি ৬৫ লাখ ৫৭ হাজার। পুুরুষের সংখ্যা ৮ কোটি ২৮ লাখ ৭০ হাজার এবং নারী ৮ কোটি ২৭ লাখ। ছোট ভূখন্ডের একটি দেশে ঘনবসতিপূর্ণ বিপুল জনসংখ্যার দৈনন্দিন খাদ্য চাহিদা পূরণ একটি বিশাল ব্যাপার, একইসঙ্গে চ্যালেঞ্জও বটে। অকপটে স্বীকার করতে হবে যে, বাংলাদেশের কৃষক সম্প্রদায় অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে নিরন্তর শ্রম বিনিয়োগ করে এই কাজটি সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছে। চলমান বাজেট অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকারের কৃষিবান্ধব নীতি বাস্তবায়নের ফলে খাদ্য উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ১৩ লাখ ২৫ হাজার টন। ২০০৮-২০০৯ সালে দেশে মোট খাদ্যশস্য উৎপাদনের পরিমাণ ছিল মাত্র ৩ কোটি ৩৩ লাখ ৩ হাজার টন। উৎপাদনশীলতার ধারাবাহিকতায় দেশ বর্তমানে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। অথচ অপ্রিয় হলেও সত্য যে, দেশে শিল্পায়ন ও আবাসনের চাপে দিন দিন কৃষি জমির পরিমাণ কমছে।

বর্তমান সরকার দেশের সার্বিক ও সমন্বিত উন্নয়ন এবং অগ্রগতিতে বিশ্বাসী ও আন্তরিক। সে ক্ষেত্রে শুধু নগরায়ন ও শিল্পায়ন করলেই চলবে না বরং প্রচলিত ধারার আবহমান কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নও একান্তভাবে কাম্য এবং কাক্সিক্ষত। বর্তমানে শহর-নগর-বন্দরের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে গ্রামের উন্নয়নও সাধিত হচ্ছে। দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় অভূতপূর্ব অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। রাজধানীসহ প্রায় সর্বত্র সুউচ্চ দালানকোঠা ও মার্কেট নির্মাণ করতে গিয়ে অত্যধিক চাপ পড়ছে কৃষি জমিতে। সরকার অবশ্য সমস্যাটি সম্পর্কে সম্যক সচেতন। প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং বলেছেন, কেবল উন্নয়নের নামে কৃষিজমি অধিগ্রহণ করা যাবে না। মনে রাখতে হবে যে, কৃষি অদ্যাবধি বাংলাদেশের জীবনজীবিকা ও অর্থনীতির প্রাণশক্তি। তবে বর্তমানে কৃষিকাজে উৎসাহী তথা কৃষিশ্রমিক পাওয়া রীতিমতো দুর্লভ হয়ে উঠেছে। প্রচলিত কৃষি ব্যবস্থায় যান্ত্রিকীকরণ সম্পন্ন হলে ধান বীজ, চারা রোপণসহ সার ও কীটনাশক ছিটানো, নিড়ানি, সর্বোপরি ধান কাটা, মাড়াইসহ শুকানো এমনকি সরাসরি সাইলোতে পাঠানো- সবই করা খুব সহজে সম্ভব আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে। এর পাশাপাশি নজর দেয়া উচিত বিভিন্ন ও বহুমুখী খাদ্যশস্য উৎপাদন এবং সংরক্ষণে। সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হলো সব মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা। গম, ভুট্টা, ডাল, তেলবীজ, ডিম, মাংস, দুধ, মাছ, মসলা উৎপাদনেও ঘাটতির বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া বাঞ্ছনীয়। মনে রাখতে হবে, শুধু ভাতে পেট ভরে বটে, তবে পুষ্টি ও স্বাস্থ্য নিশ্চিত হয় না। গত কয়েক বছরে শাকসবজি, ফলমূল উৎপাদন বাড়লেও মাছ, দুধ-মাংস জাতীয় খাদ্য অর্থাৎ প্রোটিনে বিপুল ঘাটতি এখনও রয়ে গেছে। এদিকে সবিশেষ ও সমন্বিত দৃষ্টি দিতে হবে কৃষি, খাদ্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে। পাশাপাশি অত্যাবশ্যক অত্যাধুনিক খাদ্যগুদাম নির্মাণসহ মানসম্মত খাদ্য সংরক্ষণ, বিপণন ও ব্যবস্থাপনা। তা হলেই বহুমুখী খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি নিশ্চিত হবে সবার জন্য খাদ্য নিরাপত্তা। সর্বশেষ কৃষি শুমারির তথ্য- উপাত্ত এক্ষেত্রে সবিশেষ সহায়ক হতে পারে।

নির্বাচিত সংবাদ