১৬ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সামনে দেশী-বিদেশী নানা চক্রান্ত ষড়যন্ত্র, ওসব মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকুন

 সামনে দেশী-বিদেশী নানা চক্রান্ত ষড়যন্ত্র, ওসব মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকুন
  • এসএসএফের ৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রযুক্তির উৎকর্ষতার এই যুগে অপরাধের ধরন পাল্টাতে থাকায় তা মোকাবেলার জন্য স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) সদস্যদের নতুন ও আধুনিক প্রযুক্তির ওপর জ্ঞান ও প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, অপরাধীদের নতুন প্রযুক্তিগত দক্ষতা মোকাবেলার জন্য এসএসএফ সদস্যদের আরও পারদর্শী হওয়া দরকার এবং সেদিক থেকেও আমাদেরকে যুগোপযোগী থাকতে হবে। কেননা প্রতিনিয়ত সন্ত্রাসের ধরন বদলাচ্ছে, নতুন প্রযুক্তি যেমন আমাদেরকে উন্নয়নের যাত্রাপথকে সুগম ও গতিশীল করে দেয়, তেমনি একইভাবে যারা সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদ, অসামাজিক কাজসহ নানা অপরাধে সম্পৃক্ত তাদের ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছে। দেশী ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তের বিরুদ্ধে সবসময় প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সত্য কথা বলতে কখনও দ্বিধা করি না, এক আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয়ও করি না। যেটুকু সময় পাব দেশের জন্য কাজ করে যাব। নানা চক্রান্ত ষড়যন্ত্র আমাদের সামনে। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যারা আমাদের সমর্থন দেয়নি, তাদের নানা রকম চক্রান্ত থাকবে। কিন্তু সেগুলো মোকাবেলা করার জন্য সবসময় আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে প্রস্তুতিও নিতে হবে। সবসময় সচেতন থাকতে হবে।

শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে এসএসএফ অফিসার্স মেসে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) ৩৩তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ আহ্বান জানান।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ক্ষুধা-দারিদ্র্য মুক্ত সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্নপূরণ করতে মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে দেশে ফিরে আসার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন শুধু একটা স্বপ্নপূরণে মৃত্যুকে হাতে নিয়ে ফিরে এসেছি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকদের হাতে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর ১৯৮১ সালে মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে দেশে ফিরে আসার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি জানি, যেদিন বাংলাদেশের মাটিতে পা দিয়েছি, সেদিন থেকেই আমার মৃত্যুকে হাতে নিয়েই ফিরে এসেছি। বলতে গেলে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেই এসেছি। যেকোন মুহূর্তে হয়তো আমাকে হত্যা করা হতে পারে, মারা যেতে পারি, সেটা জেনেই কিন্তু আমি এসেছি।

তিনি বলেন, কেন এসেছি তার কারণ হচ্ছে একটি স্বপ্ন, যে স্বপ্নটা জাতির পিতা দেখেছিলেন বাংলাদেশকে ঘিরে, দেশের মানুষকে ঘিরে। বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশের মানুষকে তিনি সুখী-সমৃদ্ধশালী করবেন, তাদের জীবনমান উন্নত করবেন। দুঃখ দারিদ্র্যের হাত থেকে তাদের মুক্তি দেবেন। সেই চিন্তাটাই তিনি করেছিলেন। তাঁর সেই স্বপ্নপূরণ করা কর্তব্য হিসেবে আমি নিয়েছি। দেশে ফিরে আসার পর বিভিন্ন প্রতিকূল অবস্থার মুখোমুখি হওয়ার কথা তুলে ধরে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, এক আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করি না। সত্য কথা বলতে কখনও দ্বিধা করি না।

এসএসএফের প্রশংসা করে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, নানা প্রতিকূল অবস্থা বারবার সৃষ্টি হয়েছে। এ সমস্ত চক্রান্ত মোকাবেলা করে দেশের গুরুত্বপূর্ণ মানুষের নিরাপত্তা দেয়া কঠিন চ্যালেঞ্জ। এইটুকু বলব, চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমাদের এসএসএফ সবসময় অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। তিনি বলেন, এসএসএফের আনুগত্য ও উচ্চমানের পেশাদারিত্ব- এটা আমাকে গর্বিত করেছে। দক্ষ পেশাদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি সবসময় সমুন্নত রেখেছে।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জনগণকে ধন্যবাদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে যত রকমের জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাস বা রাজনৈতিক সহিংসতা আসুক না কেন, দেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিটি সংস্থা, দেশের জনগণ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে এগুলো মোকাবেলা করেছে বলেই দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা আমরা অব্যাহত রাখতে পেরেছি। দেশের উন্নয়ন অগ্রগতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের ধারাবাহিকতা থাকলে, যদি সততার সঙ্গে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করা যায় তবে একটা দেশকে উন্নত করা যায়। আর সেটা আমরা এক দশকে প্রমাণ করেছি। তিনি বলেন, যখন বাংলাদেশ স্বাধীন হয় তখন অনেকে বিশ্বাস করতে চায়নি যে বাংলাদেশ নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে বা পারবে। আজকে কিন্তু আমরা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পেরেছি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা শান্তিপূর্ণ অবস্থা না হলে কিন্তু দেশের উন্নয়ন করা সম্ভব নয়।

অনুষ্ঠানে এসএসএফ সদস্যদের উদ্দেশে করে প্রধানমন্ত্রী আরাও বলেন, ‘আপনাদেরকে (এসএসএফ সদস্য) আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে সুসজ্জিত করা হবে। প্রতিদিন নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন সম্পর্কে অবশ্যই আপনাদের সচেতন থাকতে হবে। ক্রমাগত পরিবর্তনশীল অপরাধ (প্রবণতা) সম্পর্কে আপনাদের সচেতন থাকতে হবে এবং (এসব মোকাবেলার জন্য) প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে। অপরাধীদের নতুন প্রযুক্তিগত দক্ষতাকে মোকাবেলা করার জন্য এসএসএফ সদস্যদের আরও পারদর্শী হওয়া দরকার এবং সেইদিক থেকেও আমাদেরকে যুগোপযোগী থাকতে হবে।’

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এই যুগে মানুষের জীবনে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির প্রসঙ্গে সরকার প্রধান বলেন, ‘নতুন নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন হওয়ায় আমাদের জীবন-মানের উন্নয়ন ঘটছে, জীবনযাত্রাকে অগ্রগামী করছে, উন্নয়নের ধারাকে অগ্রগামী করছে পাশাপাশি নানা ধরনের ঝুঁকিরও সৃষ্টি করছে।’ তিনি এ সময় এসএসএফ সদস্যদের আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন হয়ে গড়ে উঠে এই প্রযুক্তিকে যারা মন্দ কাজে ব্যবহার করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এসএসএফকে আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন হতে হবে। এই বাহিনীতে নতুন নতুন প্রযুক্তির যেমন সন্নিবেশন ঘটাতে হবে সেইসঙ্গে প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় অপরাধের পরিবর্তিত অবস্থা সম্পর্কেও তাঁদের প্রশিক্ষণ থাকতে হবে। আর সেইসঙ্গে যেকোন অবস্থা মোকাবেলার সরঞ্জামাদিও দরকার। তাই যখন যেটা প্রয়োজন সেটার আমরা ব্যবস্থা করছি। ক্ষেত্র বিশেষে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়েও তা করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘যুগোপযোগী প্রশিক্ষণটা এজন্য সবসময় গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি।’

প্রধানমন্ত্রী এ সময় মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ, নিজস্ব পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র গড়ে তোলা, আন্তর্জাতিক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে, দেশী ও আন্তর্জাতিক বিশ্বের যেকোন প্রকার ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকার জন্যও অনুষ্ঠানে উপস্থিত এসএসএফ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান। এ সময় তিনি মাদকের ভয়াবহতা রোধ কল্পেও সকলকে সচেতন থাকার আহবান জানান।

এসএসএফের দরবারে বাহিনীর সদস্যের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসএসএফ’র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোঃ মজিবুর রহমান অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতায় এসএসএফ’র বিভিন্ন কর্মকা- তুলে ধরেন। মঞ্চে এ সময় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মোঃ নজিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, তিনবাহিনী প্রধানগণ, পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্ট সচিববৃন্দ, পদস্থ সামরিক এবং বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এবং এসএসএফের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান এবং সরকার কর্তৃক ঘোষিত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের নিরাপত্তার জন্য ১৯৮৬ সালে রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা বাহিনী গঠিত হয়। পরবর্তীতে এই বাহিনীকে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স হিসেবে নতুন নামকরণ করা হয়। বাংলাদেশ সেনা, নৌ, বিমান, পুলিশ ও আনসার বাহিনী থেকে প্রেষণে নিযুক্ত অফিসারদের নিয়ে এসএসএফ গঠিত হয়ে থাকে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর হাতে একটি পেইন্টিং ও ছবির বই তুলে দেন এসএসএফ মহাপরিচালক। পরে এসএসএফ সদস্যদের সঙ্গে ফটোসেশনের অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।