১৬ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

হংকংয়ের বিক্ষোভকারীরা অনড়

হংকংয়ের বিক্ষোভকারীরা অনড়

অনলাইন ডেস্ক ॥ হংকং সরকার ‘প্রত্যর্পণ বিল’ স্থগিত করলেও দেশটির বিক্ষোভকারীরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের নেতারা আজ রবিবার তাদের পরিকল্পিত সমাবেশ চালিয়ে যাওয়ার সঙ্গে হংকং-এর চীনপন্থী শাসক ক্যারি ল্যামের পদত্যাগ এবং বিলের কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বাতিলের দাবি তুলেছেন। খবর বিবিসির।

এএফপি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হংকং সরকার চাপের মুখে প্রস্তাবিত ‘প্রত্যর্পণ বিল’ স্থগিত করলেও বিক্ষোভকারীদের নেতৃবৃন্দ জানিয়েছে, বিভেদ সৃষ্টিকারি এ আইন পুরোপুরি বাতিলই কেবল তাদের সন্তুষ্ট করবে।

সিভিল হিউম্যান রাইটস ফ্রন্টের জিমি শাম সাংবাদিকদের বলেন,‘আমাদের সরকারকে জানানো দরকার যে, হংকং-এর জনগণ আন্দোলন থামাবে না, এ আইন প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তারা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাবে।’

এছাড়া তিনি বলেন, রবিবারের সমাবেশ পরিকল্পনা মোতাবেক চলবে।

শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ক্যারি বলেন, ‘এই বিলের কারণে সমাজে নানা বিভেদ দেখা দিয়েছে।’ তিনি এসময় জানান, আমাদের সরকার এ বিল স্থগিত ও পুনরায় ভাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এর আগে শুক্রবার রাতে উপদেষ্টাদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে ল্যামের দলের রাজনৈতিক নেতারা জনবিক্ষোভ প্রশমিত করতে বিলটি থেকে সরে দাঁড়াতে তাকে পরামর্শ দেন। যদিও এর আগে তিনি ব্যাপক সমালোচনার মুখেও প্রত্যপর্ণ বিল বাতিল না করার বিষয়ে অনড় ছিলেন।

দ্য সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট, নাউ টিভি, টিভিবি এবং আরটিএইচকেসসহ সকল সংবাদমাধ্যম সরকারি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বিতর্কের জন্যে বিলটি পার্লামেন্টে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি স্থগিতের পরিকল্পনার কথা জানায়।

বহিঃসমর্পণ বিল নিয়ে গত কয়েকদিন থেকে হংকংয়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। বিলটি বাতিল করার জন্য দেশটির লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নামে। এনিয়ে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে তুমুল সংঘর্ষ বাধে।

মূলত চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে অপরাধী প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত একটি বিলের বিপক্ষে এই বিক্ষোভ। তবে বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দু হংকংয়ের ওপর চীনের নিয়ন্ত্রণ।

হংকংয়ের বেইজিংপন্থি শাসকদের প্রস্তাবিত একটি বিলে সন্দেহভাজন অপরাধীকে চীন ও তাইওয়ানে ফেরত পাঠানোর পথ সুগম করা হয়েছে।

তবে বেইজিংয়ের দুর্বল আইন এবং মানবাধিকার রেকর্ডের কারণে সেখানে কাউকে ফেরত পাঠানো নিরাপদ মনে করছেন না হংকংয়ের সাধারণ মানুষ। তারা মনে করছেন, বিলটি পাস হলে তা হংকংয়ের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চীনের হস্তক্ষেপের সুযোগ বাড়িয়ে দেবে। সেখান থেকেই বিক্ষোভে নেমেছে তারা।

১৯৯৭ সালে চীনের কাছে ব্রিটেন হংকং পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়ার পর থেকে দেশটিতে এমন সহিংসতা হয়নি। দেশটির হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, বুধবার রাত ১০টা পর্যন্ত অন্তত ৭২ জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

২০১৮ সালের এক ঘটনার প্রেক্ষিতে এই বিলটি তৈরি করা হয়। তাইওয়ানে ছুটি কাটানোর সময় অন্তঃসত্ত্বা বান্ধবীকে হত্যার অভিযোগ ওঠে হংকংয়ের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

কিন্তু তাইওয়ানের সঙ্গে হংকংয়ের বন্দিবিনিময়ের কোনো চুক্তি না থাকায় সেই ব্যক্তিকে এখন তাইপেতে বিচারের জন্য পাঠানো যাচ্ছে না। কিন্তু এখন তাইওয়ানও জানিয়েছে, সন্দেহভাজন সেই খুনের মামলার আসামিকে ফেরত নিতে চায় না তারা। কেননা, এটি এমন এক উদাহরণ তৈরি করবে, যা চীন ভবিষ্যতে কাজে লাগাতে পারে।