১৬ জুন ২০১৯

ভারতে পাচার হওয়া ৬ কিশোরী বাংলাদেশে ফেরত

ভারতে পাচার হওয়া ৬ কিশোরী বাংলাদেশে ফেরত

অনলাইন রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন সময়ে পাচার হওয়া ৬ কিশোরীকে তেঁতুলিয়া-বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে বিজিবি-বিএসএফের সহযোগিতায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ফিরিয়ে আনা কিশোরীদের বাড়ি নড়াইল, খুলনা, পটুয়াখালী, খাগড়াছড়ি, বাগেরহাট ও যশোর জেলায়।

রবিবার দুপুরে ভারতের ফুলবাড়ি সীমান্ত দিয়ে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর সীমান্তের জিরো পয়েন্টে ৬ কিশোরীকে বাংলাদেশের একটি এনজিওর কাছে হস্তান্তর করা হয়৷ এসময় পঞ্চগড় ব্যাটালিয়নের (১৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোহাম্মদ এরশাদুল হক এবং বিএসএফ ৫১ ব্যাটালিয়ন কমান্ড্যান্ট কে উমেশসহ বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশন পুলিশ, তেঁতুলিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ জহুরুল ইসলাম, পঞ্চগড় জেলা ও তেঁতুলিয়া উপজেলার ইলেকট্রনিক-প্রিন্ট মিডিয়া, অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশনে প্রয়োজনীয় কাজ শেষে তেঁতুলিয়া মডেল থানা পুলিশ কিশোরীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর তেঁতুলিয়া মডেল থানায় নিয়ে যাওয়া হয়৷

তেঁতুলিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ জহুরুল ইসলাম জানান, ওই ৬ কিশোরীকে ভারতের একটি এনজিও, বাংলাদেশের একটি এনজিওর কাছে বিজিবি-বিএসএফের সহযোগিতায় হস্তান্তর করেছে। তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

উদ্ধার হওয়া কিশোরীরা হলো- নড়াইল সদর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের বাবুল শেখের মেয়ে আয়েশা খাতুন (১৭), খুলনা সদর উপজেলার বাঘমাড়াই গ্রামের মোঃ মহারাজা মির্জার মেয়ে মোছাঃ মায়া লাকি (২৫), পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার তোলাতুলি গ্রামের কালাম গাজীর মেয়ে মোছাঃ শারমিন (২৬), খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলার বলিচন্দ্রপাড়া গ্রামের মৃত সিদ্দিকুর রহমানের মেয়ে পাখি শেখ (১৯), বাগেরহাট জেলার মোল্লারহাট উপজেলার ডাবরা গ্রামের ইউসুফ শেখের মেয়ে মনিরা শেখ ও যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া গ্রামের মৃত আছর আলীর মোল্লার মেয়ে সাবিনা ইয়াসমিন (২৫)।

কিশোরীদের চাকরিসহ বিভিন্ন প্রলোভন দিয়ে ভারতে পাচার করা হয় বলে জানা যায়। তাদের পরিবার নানাভাবে খোঁজাখুঁজি করার পরেও খুঁজে পাওয়া যায় না৷ পরে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ের ইমপালস এনজিও নেটওয়ার্ক নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এক বছর আগে ওই ৬ কিশোরীকে উদ্ধার করে চেন্নাইয়ের একটি সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে হস্তান্তর করে।

পরে ওই এনজিওর মাধ্যমে বাংলাদেশের একটি এনজিওর সহযোগিতায় ওই কিশোরীদের নাম পরিচয় ও ঠিকানা নিশ্চিত করা হয়। এক বছর চিঠি চালাচালির পর রোববার তাদের ফেরত পাঠানো হয়।