২০ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মৌসুমি ফলের বিপুল সম্ভার, দৃষ্টিনন্দন প্রদর্শনী

 মৌসুমি ফলের বিপুল সম্ভার, দৃষ্টিনন্দন প্রদর্শনী
  • খামারবাড়িতে ফলপ্রেমীদের উপচেপড়া ভিড়

মোরসালিন মিজান ॥ সারাদেশ থেকে আসা ফল। দৃষ্টিনন্দন প্রদর্শনী। খামারবাড়িতে প্রতি বছর এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। অনেকেই এ আয়োজন সম্পর্কে জানেন। শুধু জানেন বললে ভুল হবে, অপেক্ষা করে থাকেন। শেষ হলো সেই অপেক্ষা। একই স্থানে রবিবার থেকে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল প্রদর্শনী। আয়োজক কৃষি মন্ত্রণালয়। প্রদর্শনীতে চেনা, অল্প চেনা এবং একেবারেই অচেনা ফলের বিপুল সম্ভার। ভেজালমুক্ত রসালো ফল। তাই কেনার হিরিক। দেখা ও কেনার পাশাপাশি জাতপাত সম্পর্কে জানা যাচ্ছে। দর্শনার্থী সংখ্যাও অনেক। বরাবরের মতো এবারও মৌসুমি ফল দিয়ে সুন্দর একটি চত্বর সাজানো হয়েছে। ভূমির সমান্তরালে বিছিয়ে দেয়া হয়েছে আম জাম কলা কাঠাল নারিকেল তাল আনারস কামরাঙ্গাসহ নানা জাতের ফল। শৈল্পিক বিন্যাসে দারুণ আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে জায়গাটি। যেন স্থাপনা শিল্প। দর্শনার্থীরা চারপাশ ঘুরে দেখছেন। ছবি তুলছেন। তবে মূল আয়োজন স্টল ও প্যাভিলিয়ন ঘিরে। প্রদর্শনীতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অধীন দফতর অধিদফতরগুলো স্টল ও প্যাভিলিয়ন সাজিয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরে বিশাল প্যাভিলিয়নটি আগে চোখে পড়ে। মৌসুমি প্রায় সব ফলই এখানে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। আছে একটি ফলের একাধিক জাত। তৌহিদ নামের এক তরুণ কর্মকর্তা জানান, সারাদেশ থেকে প্রায় ১৬৩ রকমের ফল সংগ্রহ করে এই প্যাভিলিয়নে প্রদর্শন করা হচ্ছে। এর বাইরে শুধু আমের ৭৫টি ভ্যারাইটিস আছে এখানে।

কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্যাভিলিয়নটিও বিভিন্ন ফল দিয়ে সাজানো। সরকারী এই প্রতিষ্ঠান ফল নিয়ে প্রয়োজনীয় গবেষণার কাজটি করে থাকে। নিজেদের গবেষণার মাধ্যমে আবিষ্কৃত জাত এখানে প্রদর্শন করা হচ্ছে। উর্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সৈয়দ মাহমুদ মিজানুর রহমান জানান, বিভিন্ন জাতের মধ্যে ক্রস করে তারা নতুন উন্নত জাত তৈরি করেন। একটি বড় সাইজের আম দেখিয়ে তিনি বলেন, এ জাতের নাম ‘বারি ৪’। মৌসুমের দুই মাস পর এটি হয়। ফলন অত্যন্ত ভাল। শক্ত বাতাসেও গাছ থেকে ঝরে পড়ে না। একটি সবুজ মাল্টা দেখিয়ে তিনি বলেন, মোটেই কাঁচা নয়। অত্যন্ত মিষ্টি। জাতের নাম জাতের নাম ‘বারি মাল্টা ১’ ও ‘বারি মাল্টা ২’।

কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের প্যাভিলিয়নে পাওয়া গেল অচেনা এবং অল্প চেনা কিছু ফল। এই যেমন- চাপালিশ গোল্ডেন ক্রাউন কাঠলিচু রাম্বুটান কাউফল এ্যাভোকেডো ক্ষুদেজাম কোকো ফল এবং ল্যাংশায়ার। প্যাভিলিয়নের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার সুইটি জানান, তারা এসব ফলের চারা কৃষকের মধ্যে সরবরাহ করে থাকেন।

প্রদর্শনীর অপর প্রান্তে অনেক স্টল। এসব স্টল থেকে নিজেদের উৎপাদিত ফল বিক্রি করা হচ্ছে। ভেজালমুক্ত মৌসুমি ফল। দেশের বিভিন্ন এলাকায় করা ফলবাগান থেকে এসব ফল নিয়ে এসেছেন চাষীরা। আম জাম লিচু কাঁঠাল আনারস লটকন ইত্যাদি ফলের সংগ্রহ অনেক বেশি।

জিন্নাত খান নার্সারি ও মায়ের দোয়া নার্সারি নামের দুটি স্টলে শুধু আম আর আম। কায়দা করে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। আলাদাভাবে চোখে পড়ে। বিক্রেতা হানিফ জানান, রাজশাহীর কানসাট ও চুয়াডাঙ্গার জীবননগর থেকে আম নিয়ে এসেছেন তারা। এখান থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছিল হাঁড়িভাঙ্গা ল্যাড়া ও আমরুপালি। হিমসাগর বিক্রি হচ্ছিল ১০০ টাকা কেজি করে। রংপুরের মিঠাপুকুর এবং মানিকগঞ্জসহ আরও কয়েকটি এলাকা থেকেও এসেছে আম।

পার্বত্য এলাকা থেকেও ফল এসেছে। খাগড়াছড়ির গুইমারি থেকে নিজের বাগানের ফল নিয়ে এসেছেন আতিউর রহমান। তার স্টলে পাওয়া গেল ড্রাগন ম্যাংগো। এই আম নাকি খুবই মিষ্টি। সব দোকানির কাছে পাওয়া যায় না। দাম তাই অনেক বেশি আড়াই টাকা কেজি। স্টল থেকে বিক্রি হচ্ছে একই বাগানের আনারস হেনরি কুইন, তেঁতুল ও ঢেউয়া। চাষী জানান, ৪০ একর জুড়ে ফল বাগান করেছেন তিনি। কোন ফলেই ভেজাল নেই। ফরমালিন মুক্ত।

লিচু নিয়েও আগ্রহের শেষ নেই। প্রচুর বিক্রি হচ্ছে। আব্দুস সামাদ নামের এক দোকানি মাঝারি সাইজের লিচু দেখিয়ে বললেন, এটা ‘চায়না টু’। দিনাজপুর থেকে এসেছে। একশ’র দাম ৪০০ টাকা। বোম্বাই নামের আরেকটি জাত আছে। একশ’র দাম ৩০০ টাকা।

তবে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় ‘চায়না থ্রি’ জাতের লিচু। আকারে বেশ বড়। মামুন নামের একটি ছেলে বিক্রি করছিল। জানালো একশ’ লিচুর দাম সাড়ে ৮০০ টাকা। দাম শুনে ক্রেতার ছিটকে পড়ার কথা। কিন্তু বিক্রেতা জানালো, যা এনেছিল তার প্রায় সবই বিক্রি হয়ে গেছে। আছে যা তাও বেশিক্ষণ থাকবে না। কী কারণ? জানতে চাইলে সে বলল, খেয়ে দেখেন। খেয়ে দেখা হলো না। তবে এই লিচু মাংশল। ছোট বিচি। এবং ভীষণ মিষ্টি। ক্রেতাদের অনেকেই এমন তথ্য দিলেন। প্রদর্শনীতে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে জাম। একই দামে পাওয়া যাচ্ছে নরসিংদী থেকে আসা লটকন। জাতীয় ফল কাঁঠাল এখানে ওখানে স্তূপ করে রাখা আছে। আরও নানা ফল পাওয়া যাচ্ছে প্রদর্শনীতে।

প্রদর্শনী চলবে আগামীকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত। সময় করে ঘুরে আসুন। ফল দেখুন। দেখার মতো অনেক ফল আছে। কিনতেও পারবেন ব্যাগ ভর্তি করে। তবে আয়োজকদের সঙ্গে যোগসাজেশ করে ঢাকার কিছু দোকানদারও এখানে বসে পড়েছেন। তাদের ব্যাপারে একটু সতর্ক থাকা চাই।