২৪ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাংলাদেশের সামনে আজ ওয়েস্ট ইন্ডিজ

 বাংলাদেশের সামনে আজ ওয়েস্ট ইন্ডিজ

মিথুন আশরাফ ॥ বাংলাদেশের দুর্ভাগ্য। যে সময় জেতার সম্ভাবনাময় ম্যাচগুলো সামনে এসেছে, তখনই হয় চোট, নয়তো বৃষ্টি বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জেতার আশায় থাকা ম্যাচের আগে যেমন সাকিব আল হাসান ইনজুরিতে ছিলেন। আবার বৃষ্টিতে ম্যাচও পরিত্যক্ত হয়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আজ বাংলাদেশ সময় বেলা সাড়ে তিনটায় টনটনের কাউন্টি গ্রাউন্ডে শুরু হতে যাওয়া ম্যাচের আগে মুশফিকুর রহীম চোটে পড়েছেন। আবার এই ম্যাচেও আছে বৃষ্টির সম্ভাবনা। কপাল খারাপ হলে যা হয় আর কী! খেলাটিও হবে আবার বিশ্বকাপে যে স্টেডিয়ামগুলোতে খেলা হচ্ছে, সেই স্টেডিয়ামগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ছোট্ট মাঠে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচে নামার আগে বাংলাদেশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। মুশফিকের খেলার শতভাগ নিশ্চয়তা নেই। শনিবার অনুশীলনের সময় যে মুস্তাফিজুর রহমানের বলে হাতে আঘাত পেয়েছেন, তা গুরুতরও নয়। হাতে কোন চিড়ও ধরা পড়েনি। কিন্তু খানিক ব্যথা আছে। যে ব্যথা একাদশ থেকে ছিটকে ফেলতে পারে মুশফিককে। যদিও হাল্কা ব্যথা থাকলে মুশফিক খেলে ফেলতে পারেন। কিন্তু খেললেও ব্যথা নিয়ে কী আর ভাল খেলা যায়! ধরেই নিতে হচ্ছে, মিডলঅর্ডারে দেশের সেরা ব্যাটসম্যান চোটে পড়ায় মহাভাবনা থাকছে। এই ভাবনার মধ্যেও প্রতিপক্ষ দলটি যেহেতু ওয়েস্ট ইন্ডিজ, তাই জেতার সম্ভাবনাও থাকছে। যতই বাংলাদেশ দলে চোট সমস্যা থাক। মাঠ ছোট্ট থাকাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটসম্যানদের নিয়ে আতঙ্ক থাক। বৃষ্টি না আসলে, খেলা হলে বাংলাদেশের জেতার আশা থাকছে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সম্প্রতি বাংলাদেশ শুধু জিতেছেই। সবমিলিয়ে দুই দলের মধ্যকার হওয়া ৩৭ ম্যাচের ১৪টিতে জিততে পেরেছে বাংলাদেশ। হেরেছে ২১টি ম্যাচে। ২টি ম্যাচের রেজাল্ট হয়নি। কিন্তু সর্বশেষ ১০ ম্যাচে ফল বাংলাদেশের পক্ষেই কথা বলছে। বাংলাদেশ ৭-৩ ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সর্বশেষ চার ম্যাচেতো শুধুই সাফল্যে ভেসেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ৪-০ ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এর মধ্যে আবার শেষ ম্যাচটি ছিল ফাইনাল। ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল। যে ম্যাচটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো দ্বিপক্ষীয় সিরিজের বাইরে, দুইয়ের অধিক দলের সমন্বয়ে হওয়া কোন সিরিজ বা টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ। ইতিহাস গড়েছে। তাহলেতো আজও বাংলাদেশেরই জয়গান গাওয়ার কথা।

নিন্দুকেরা বলেন, ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে যে জিতেছে বাংলাদেশ, ম্যাচটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পুরো শক্তির দল ছিল না। তাই বলে ত্রিদেশীয় সিরিজে টানা তিন ম্যাচেই যে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়েছে বাংলাদেশ, সেটি কী আর এমনিতেই এসেছে! ত্রিদেশীয় সিরিজ বাদ দেয়া হোক, এর আগে দেশের মাটিতে যে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে সিরিজে হারিয়েছে বাংলাদেশ, সেই সিরিজে ক্রিস গেইল ছাড়াতো পুরো শক্তির দলই ছিল। তারও আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে যে সিরিজে জিতেছিল বাংলাদেশ, সেই সিরিজেতো গেইলও ছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পূর্ণশক্তির দলকেই হারিয়েছিল বাংলাদেশ। তার মানে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানোর ক্ষমতা ভালভাবেই রাখে বাংলাদেশ। আজও সেই ক্ষমতা দেখিয়ে দিতে পারলেই হলো। বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা জেতার সম্ভাবনাই দেখছেন। এ জন্য যা করতে হবে তা বলে দেন মাশরাফি, ‘দ্রুত উইকেট তুলে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চাপে ফেলতে হবে।’ ক্যারিবীয়দের চাপে ফেললেই যে জেতার সম্ভাবনা জাগবে।

বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে কখনই জিততে পারেনি বাংলাদেশ। চার ম্যাচে ফল পুরোই ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩-০ বাংলাদেশ। একটি ম্যাচের রেজাল্ট হয়নি। হারগুলোও ছিল কষ্টদায়ক। বড় হার। তবে এখন সময় বদলেছে। ২০১১ সালের বিশ্বকাপের পর আর বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দেখা হয়নি বাংলাদেশের। মাঝখানে ২০১৫ সালের বিশ্বকাপ গেছে। সেই থেকে বাংলাদেশ দলও বদলে গেছে। ওয়ানডেতে যে কোন প্রতিপক্ষেরই মাথাব্যথা এখন বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজেরতো আরও বেশি। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপের পর থেকেই অন্য এক বাংলাদেশকে দেখার মিলেছে। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপ থেকে এখন পর্যন্ত ৭১ ম্যাচ খেলে ৩৮টি ম্যাচেই জিতেছে বাংলাদেশ। ঈর্ষণীয় সাফল্যই। গত বিশ্বকাপের পর বাংলাদেশের সামনে যে দলই পড়েছে, তারাই নাস্তানাবুদ হয়েছে।

বাংলাদেশের সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ একটু দেরিতে পড়েছে। ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত উড়ন্ত বাংলাদেশের সঙ্গে ওয়ানডে খেলতে হয়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজের। সেই জুলাই থেকে খেলেছে, এরপর ৯ ম্যাচের ৭টিতেই হেরেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শক্তিশালী, খর্বশক্তির দল নিয়ে হেরেছে। বাংলাদেশের কাছে পাত্তাই পায়নি। এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের কাছে জিম্বাবুইয়ের (৮ ম্যাচের ৮টিতেই জয়) পর ওয়েস্ট ইন্ডিজই সবচেয়ে বেশি হেরেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে প্রতিনিয়ত হারানোর অনুপ্রেরণা তাই থাকছে। বাংলাদেশকে নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজেরও ভয় থাকছে। আর তাইতো ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক জেসন হোল্ডার সতর্ক।

তিনি বলেছেন, ‘আমাদের সুশৃঙ্খল হতে হবে। বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচে আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে। ওদের হারাতে হবে।’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘আমাদের কয়েকজনের ছোটখাট চোট রয়েছে। বাংলাদেশ ম্যাচের আগে সবার ফিট হওয়া জরুরী। আমরা অতীত নিয়ন্ত্রণ করতে পারব না। ভবিষ্যত এমন কিছু আমরা যা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। আমাদের তিন বিভাগে আরও উন্নতি করতে হবে।’

দুই দলই আজকের ম্যাচটি যে করে হোক জিততে চাইবে। না জিতলেই যে সেমিফাইনালে যাওয়ার স্বপ্ন ধূসর হয়ে যাবে। দক্ষিল আফ্রিকাকে হারানোর পর নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের কাছে হেরে যাওয়ার পরও বাংলাদেশ ভালই সম্ভাবনায় ছিল। কিন্তু শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচটি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হওয়াতেই বিপত্তি দেখা দিয়েছে। এখন সেমিফাইনালে খেলতে হলে হাতে থাকা পাঁচ ম্যাচের সবকটি জিততে হবে। চারটিতে জিতলেও সম্ভব হতে পারে। তবে কঠিন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের অবস্থাও একই। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ জেতার পর অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের সঙ্গে হেরেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়েছে। তাই দুই দলের সামনেই জেতা ছাড়া যেন বিকল্প পথ খোলা নেই। বৃষ্টি বাধা হয়ে না দাঁড়ালে উত্তেজনাকর, উন্মাদনার একটি ম্যাচও দেখার মিলতে পারে। আর এমন ম্যাচে বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়েও দিতে পারে বাংলাদেশ।

নির্বাচিত সংবাদ