১৯ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সাঁতার শেখাতে চট্টগ্রামে প্রস্তুত নবনির্মিত সুইমিং পুল

সাঁতার শেখাতে চট্টগ্রামে প্রস্তুত নবনির্মিত সুইমিং পুল

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম ॥ ইট পাথরের নগরীতে শিশু-কিশোরদের সাঁতার শেখার সুযোগ নেই। বর্ষা মৌসুমে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে উৎকন্ঠায় থাকেন অভিভাবকরা। শুধু শিশুরাই নয়, নগরজীবনে বড়দের অনেকেও সাঁতার জানেন না। অবশেষে চট্টগ্রামে সাঁতার শেখার সেই স্বপ্ন পূরণ করতে যাচ্ছে আউটার স্টেডিয়ামে নবনির্মিত সুইমিং পুল।

চট্টগ্রামের নবনির্মিত আন্তর্জাতিক মানের সুইমিং পুলে শুধু প্রতিযোগিতাই নয়, শিশু-কিশোরসহ আগ্রহী সকলকে সাঁতার শেখানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। এ সুযোগটি যদি পাওয়া যায় তাহলে একটি স্বপ্নপূরণ হবে নগরবাসী। কেননা, চট্টগ্রাম নগরীতে সাঁতার শেখার তেমন কোন সুযোগ নেই। পুকুর-দীঘির অধিকাংশই ভরাট হয়ে গেছে।

যেগুলো রয়েছে সেগুলোরও পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা নেই। বর্ষা মৌসুমে প্রবল বৃষ্টিতে ডুবে যায় নিচু এলাকা। পানি এমনই প্রবাহিত হয় যে, সড়ক আর ড্রেন আলাদা করে কঠিন হয়ে পড়ে। তাছাড়া ছুটিতে সাঁতার না জানা শিশুদের নিয়ে শহরের বাইরে যাওয়া অভিভাবকরাও সবর্দা থাকেন উদ্বিগ্ন। নগরীতে এবং নগরীর বাইরে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা অনেক। নগরীতে বাড়তে থাকা আবাসন কমিয়ে দিচ্ছে জলাধার। সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে আউটার স্টেডিয়ামে নির্মিত সুইমিং পুলে সাঁতার শেখানোর ব্যবস্থা হতে যাচ্ছে।

চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার সুইমিং পুল কমিটি সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন দু’দফায় সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত পুলে সাঁতার শেখানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মাঝে ২ ঘন্টা বিরতি থাকবে। সাঁতার শিখতে যারা ইচ্ছুক তাদের নির্ধারিত একটি ফি দিয়ে নিবন্ধিত হতে হবে। নিবন্ধিতরা একঘন্টা করে সপ্তাহে ৫ দিন সাঁতার কাটতে পারবে।

মেয়েদের জন্য থাকবে মহিলা ট্রেনার। সম্পূর্ণ আলাদা ব্যবস্থাপনায় তারা দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সাঁতার শিখতে পারবে। আর গরিব এবং পথশিশুদের কোন ধরনের ফি ছাড়াই সাঁতার শেখার ব্যবস্থা থাকছে। তাদের জন্যও দিনের একটি সময় নির্ধারণ করে দেয়া হবে।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক মানের এই সুইমিং পুল নির্মাণের পেছনে বিরাট ভূমিকা সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের। এই পুলে শিশু-কিশোরদের জন্য সাঁতারের ব্যবস্থা করায় বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ নাগরিকরা। সেই স্বপ্ন অচিরেই পূরণ হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যেই সাঁতার শেখানো কার্যক্রম ট্রেনারসহ প্রায় ১৫টি পদে নিয়োগের জন্য বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়া হয়েছে। ফলে বহুল প্রত্যাশিত এই কার্যক্রম শুরু হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।