১৬ অক্টোবর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নাগরিক তথ্য সংগ্রহ

সারাদেশে কৃষি শুমারির পাশাপাশি রাজধানীতে নাগরিক তথ্য সংগ্রহ-২০১৯-এর কার্যক্রম চলছে। চলবে ২১ জুন পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিটি বাড়ির মালিক, ভাড়াটিয়া, পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন সর্বোপরি গৃহকর্মীদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। ডিএমপির ৫০ থানার ৩০২টি বিট থেকে একযোগে সংগৃহীত হবে নাগরিক তথ্য সংগ্রহসহ হালনাগাদ কার্যক্রম। এরপর এসব তথ্য সিটিজেন ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (সিআইএমএস) সংরক্ষণ করা হবে। প্রকৃতপক্ষে গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে ভয়াবহ ও নৃশংস জঙ্গী হামলার পর ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করে সিআইএমএস সফটওয়্যারে তথ্য সংরক্ষণ শুরু করে ডিএমপি। ইত্যবসরে সে সব তথ্য হালনাগাদ করা জরুরী ও অত্যাবশ্যক হয়ে পড়েছে। কেননা, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গোপন জঙ্গী আস্তানাসহ জঙ্গী তৎপরতা শুরু হয়েছে বলে আশঙ্কা করছে র‌্যাব ও পুলিশ। কিছু ক্ষেত্রে সফল অভিযানও পরিচালিত হয়েছে। সত্যি বলতে কি, শ্রীলঙ্কায় ইস্টার সানডে উপলক্ষে একাধিক গির্জা ও হোটেলে ভয়াবহ সিরিজ বোমা হামলার পর থেকেই বাংলাদেশ ও ভারতে জঙ্গী হামলার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থাও এ ব্যাপারে সতর্ক করেছে বাংলাদেশকে। পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের অবকাশেও আশঙ্কা করা হয়েছিল জঙ্গী হামলার। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও ছিল যথেষ্ট সতর্কাবস্থায়। সর্বশেষ এসএসএফের ৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানেও প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং দেশী-বিদেশী চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র, বিশেষ করে স্বাধীনতাবিরোধী জঙ্গী-সন্ত্রাসীদের তৎপরতা সম্পর্কে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়াদের সঠিক তথ্য-উপাত্ত এবং জীবনজীবিকা সম্পর্কে যথাযথ তথ্য দিতে অনেকেই গড়িমসি এমনকি অনীহাও প্রকাশ করে থাকে, বিশেষ করে পুলিশের কাছে। এহেন অবস্থা অনাকাক্সিক্ষত ও অনভিপ্রেত। মনে রাখতে হবে যে, পুলিশের কাছে তথ্যাদি থাকার কারণেই সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও জঙ্গীবাদ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে। জঙ্গী, সন্ত্রাসীরাও প্রযুক্তির ব্যবহার ও সহায়তা গ্রহণে পারঙ্গম। তাদের মোকাবেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে যথাযথ প্রশিক্ষণসহ প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করতে হবে। আর তা হলেই কেবল জঙ্গী ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমসহ চুরি-ছিনতাই-রাহাজানি-ডাকাতি-খুন-ধর্ষণ একেবারে নির্র্মূল না হোক, অন্তত নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হতে পারে। তবে তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার ব্যাপারে নিশ্চয়তা দিতে হবে পুলিশকে।

পুলিশের দ্বারা যেন কোন নিরীহ মানুষ অযথা হয়রানির শিকার না হন, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালনের জন্যই পুলিশ বাহিনী। সেই প্রেক্ষাপটে দেশের পুলিশ বাহিনীকে সর্বদাই আইনের রক্ষকের ভূমিকায় জনবান্ধব হিসেবে অবতীর্ণ হতে হবে। জনসাধারণের সমস্যাকে দেখতে হবে আন্তরিক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশকে মানুষের মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার ও আইনের শাসনকে গুরুত্ব দিতে হবে সর্বাধিক। উল্লেখ্য, জনবান্ধব পুলিশের বিষয়টি বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত। সারকথা, জনসাধারণকে হয়রানিমুক্ত সেবার পাশাপাশি সর্বস্তরে পুলিশের জবাবদিহির বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।