২৪ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সড়কে শৃঙ্খলা আবশ্যক

ঈদের ছুটিতে দীর্ঘ যাত্রাপথে সড়ক দুর্ঘটনাকে এড়ানো প্রায় অসম্ভব। বিভিন্ন উৎসব আর আনন্দ আয়োজনে এমন দুর্বিপাক বাড়ে বৈ কমে না। ঈদ-উল-ফিতরের প্রাপ্তিযোগে থাকে বাড়ি যাওয়ার জন্য দীর্ঘপথ পাড়ি দেয়া। শঙ্কা, বিপদ আর উদ্বেগকে মাথায় রেখে মানুষ ছুটে যায় নাড়ির টানে গ্রামীণ পরিবেশে। প্রতিদিনের কর্ম কোলাহল, জীবনের একঘেয়েমি থেকে মুক্তি নিয়ে মানুষ ঈদের আনন্দকে ভাগাভাগি করে নিতে গ্রামে ফিরে কয়েকটা দিন কাটিয়ে আসতে ব্যাকুল হয়ে পড়ে। এই যাত্রা সর্বদাই সুখকর কিংবা নিরাপদ থাকে না। অদক্ষ চালক, ত্রুটিপূর্ণ গণপরিবহন, সড়ক-মহাসড়কের বেহাল অবস্থা সর্বোপরি সাধারণ মানুষের অসচেতনতায় যাত্রা পথ যে মাত্রায় বিপদসঙ্কুল হয়ে ওঠে তার নজির অতীতে বহুবার দৃশ্যমান হয়েছে। তবে এবারের ঈদযাত্রা অনেকটা নির্বিঘ্ন এবং শঙ্কাহীনভাবে চালিত হবে সেটা সবাইকে আশ্বস্ত করলেও বাস্তবে তার চিত্র ছিল অন্যরকম। উন্নয়নের অভিযাত্রায় সড়ক-মহাসড়কের যে আধুনিকায়ন, সময়ের গতিতে তাল মেলানো নতুন ব্যবস্থাপনায় ঈদের শুভযাত্রা সমূহ বিপদের আশঙ্কা থেকে কিছুটা মুক্ত হতেও পারে এমন প্রত্যাশা সবার ছিল। ঈদযাত্রার মাত্র কয়েকদিন আগে প্রধানমন্ত্রী বেশ কয়েকটি উড়াল সড়ক, সেতু ও সড়কের উদ্বোধন করে যাত্রা পথকে অনেকটা নিশ্চিন্ত করতে সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তবে নির্মাণাধীন বিভিন্ন স্থানে সড়ক-মহাসড়কের বিপন্ন অবস্থা সেভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি বলেই এবারের ঈদযাত্রায় পথ দুর্ঘটনাকে সেভাবে সামলানো যায়নি। তার ওপর অদক্ষ চালকের বেপরোয়া গতি সড়ক-মহাসড়কে যে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করে তার মূল্য দিতে হয় সাধারণ মানুষকে জীবনের বিনিময়ে। সংস্কারাধীন রাস্তাঘাটে গতি নিয়ন্ত্রণের যে বিধিনিষেধ আছে তা কোনভাবেই মানা হয় না। সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাকে সুনির্দিষ্ট আইনানুগ প্রথায় চালিত করতে ব্যর্থ হলে অসহায় মানুষের জীবন তো বিপন্ন হবেই। এমন বিপন্ন অবস্থা সব সময়ই মানুষকে উৎকণ্ঠা আর উদ্বেগের মধ্য দিয়ে পার হতে হয়। তেমন বিপন্নতা এবারও ঈদযাত্রাকে দুঃসহ যন্ত্রণায় ক্ষত-বিক্ষত করেছে। ক্ষুদ্র যন্ত্রযান মোটরবাইকও সড়ক দুর্ঘটনাকে নানা মাত্রিকে উদ্বেগজনক করে তোলে। দুই চাকার ছোট্ট মোটরসাইকেল নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে পরিবহনের সুদীর্ঘ লাইনের ফাঁকফোকরে যেভাবে চলতে থাকে, সড়ক বিধির উদ্ধত লঙ্ঘন। এবারের ঈদযাত্রার আগে পরে ১৩ দিনে মোটরসাইকেল ও গাড়িচাপাতেই সব থেকে বেশি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে মানুষ। যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্যে বেরিয়ে এসেছে মোটরসাইকেলই দুর্ঘটনা ঘটায় ৭৬টি। এতে ৯০ জন নিহত এবং ৮৬ জন আহত হয়। এ ছাড়াও পথচারীকে গাড়িচাপা দেয়ার ঘটনা প্রায় ৪০%। সড়ক, রেল ও নৌপথে মোট ২৫৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ২৯৮ এবং আহতের সংখ্যা ৮৬০ জন। এসব তথ্য-উপাত্তকে আমলে নিয়ে বলা যায় সড়ক পরিবহন ব্যবস্থায় আইনী কাঠামোকে আরও জোরদার করা জরুরী। চালকের সক্ষমতা এবং যোগ্যতা যাচাইও আনুষঙ্গিক পূর্বশর্ত। তার ওপর আছে গণপরিবহনের ফিটনেস সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম। সব থেকে বেশি প্রয়োজন গণমানুষের সচেতনতা, দায়বদ্ধতা, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা, জনগোষ্ঠীর মূল্যবান জীবনের প্রতি আন্তরিক নজরদারি- সব মিলিয়ে সর্বজনীন দৃষ্টিভঙ্গির নতুন মাত্রা সংযোজন এমন উপস্থিত বিপর্যয় থেকে সবাইকে মুক্ত করে আনতে পারে। সম্মিলিত প্রচেষ্টা, কর্তব্যবোধ, ন্যায়নিষ্ঠতায় প্রতিটি মানুষ যদি নিজেকে সংযত এবং সংহত করে তবেই এমন মহাদুর্যোগ থেকে বের হয়ে আসা সম্ভব হতে পারে।

নির্বাচিত সংবাদ