২৩ আগস্ট ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দিন বদলের গান গাইছে যারা

ওরা কিছু দুঃসাহসী তরুণ, অদম্য প্রাণশক্তি নিয়ে বদলে দিতে চাইছে আমাদের পরিচিত পৃথিবী। সবারই বয়স ত্রিশের নিচে, এ বয়সেই নিজ নিজ ক্ষেত্রে সাফল্য ছুঁয়ে তারা এখন প্রস্তুত আরও বড় লড়াইয়ের জন্য। তাদের এই লড়াই কতটা বদলে দেবে আমাদের জীবন সে উত্তর থাকুক সময়ের হাতে, আপাতত আমরা জেনে নেই এমন কিছু তরুণের গল্প। ধারাবাহিকের পঞ্চম পর্ব, লিখেছেন- পপি দেবী থাপা

ম্যাট হোওয়ার্ড (২৯) এ্যালেক্স ওয়াইলার সহ-প্রতিষ্ঠাতা, ইটস্ট্রিট

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরুতেই ম্যাট হোওয়ার্ড ও এ্যালেক্স হোয়াইলার তাদের আর এক সহপাঠী এ্যারিক মার্টেলকে নিয়ে খাবার সরবরাহের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। ইউনিভার্সিটি-অব উইসকনসিনে শিক্ষা জীবনের শুরুর বছরেই তারা যে খাদ্য সরবরাহ প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন তার নাম ছিল ব্যাজার বাইটস ডট কম। সাত বছর পর নতুন নামকরণ করেন ইটস্ট্রিট। ম্যাডিসন ভিত্তিক ইটস্ট্রিট এই সাত বছরে উইসকনসিনের ডরমিটরি রুমে শুরু করা সেই কোম্পানি থেকে অনেক বদলে গেছে। যেমন বেড়েছে অফিসের পরিসর, তেমনি গ্রাহক সংখ্যা। সেই সঙ্গে বেড়েছে কর্মচারীর সংখ্যাও। তাদের অফিসটিকে অনেকেই বলেন স্টেট অব আর্ট। অনেক কিছু বদলে গেলেও প্রতিষ্ঠাতারা একটি বিষয়ে এখনও সেই অগের নীতিতেই আছেন আর সেটি হলো গ্রাহকের সন্তুষ্টি। মোবাইল কিংবা ডেস্কটপ দুটোতেই যে কেউ চাইলে খুব সহজেই অর্ডার করতে পারেন। মান এবং নিরাপদ ডেলিভারি নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। তাদের কার্যক্রম দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে মার্কিন ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের। এখন পর্যন্ত তারা বিনিয়োগ সংগ্রহ করেছে ৪০ মিলিয়ন ডলার। প্রাইম ভেনচার এর মত প্রতিষ্ঠান রয়েছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। কেবল যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ১৫ হাজারের বেশি জনপ্রিয় রেস্টুরেন্টের সঙ্গে তাদের রয়েছে অংশীদারিত্ব চুক্তি। ২৫০টি বাণিজ্য বিপণিতে তাদের শাখার পাশাপাশি ১.৭ মিলিয়ন গ্রাহক নিয়ে তারা এগিয়ে চলছে আরো বড় লক্ষ্যের দিকে। নিশ্চিতভাবে বলা যায় আগামীতে ইটস্ট্রিটকে দেখা যাবে প্রতিষ্ঠাতা হোওয়ার্ডের প্রতিশ্রুতি মোতাবেক আপনার ডিনারের অভিজ্ঞতা বদলে দেয়া এক প্রতিষ্ঠানে।

জেফ ক্রিপ (২৮) সহ-প্রতিষ্ঠাতা, সিইও কার্গো

রাইড শেয়ারিংয়ে নিয়োজিত গাড়িতে বহনযোগ্য ভেন্ডিং মেশিন স্থাপনের মাধ্যমে কার্গোর যাত্রা শুরু। এই স্টার্ট-আপ কোম্পানি প্রতিষ্ঠায়, সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন সাবেক ব্রিচবক্স কর্মকর্তা জেফ ক্রিপ। প্রতিষ্ঠা ২০১৭ সালে। তারা এখন যুক্ত আছেন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় রাইড শেয়ারিং কোম্পানি উবার, গ্রাব ও গো-জেক এর মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। গাড়ির ড্রাইভাররা কার্গোর ¯œ্যাক্স বক্সগুলো স্ট্রাপ দিয়ে তাদের আর্ম রেস্টে আটকে নেন। আর যাত্রীরা একটি কিউআর কোডের মাধ্যমে স্ক্যান করে জেনে নিতে পারেন বক্সের ভেতরে তাদের জন্য কি খাবার আছে। সে অনুযায়ী তারা অর্ডার করেন। গাড়ির চালকেরা প্রতিটি বিক্রি থেকেই কমিশন পান। এভাবেই সামান্য আইডিয়াকে সম্বল করে কার্গো এগিয়ে নিয়েছে তাদের ব্যবসা। কেবল ২০১৯ এ তাদের আয় বেড়েছে ১৩ গুণ। উবারের সঙ্গে এক্সক্লুসিভ চুক্তির পর তারা নতুন বিনিয়োগ লাভ করেছে ৩০ মিলিয়ন ডলার। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে রয়েছে ফাউন্ডারস্ ফান্ড ও কাচো ম্যানেজমেন্টের মতো প্রতিষ্ঠান। নিজেদের আগামী পরিকল্পনার কথা বলতে গিয়ে জেফ বলেন এ মুহূর্তে আমরা যাত্রীদের তাৎক্ষণিক পণ্য ক্রয়ের যে সুবিধা দিচ্ছি তা আরও বিস্তৃত করে একই প্লাটফর্ম থেকে খেলা, সঙ্গীত ও অন্যান্য বিনোদনের যোগান দেয়ার ইচ্ছা রয়েছে আমাদের। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েশনের পর জেফ প্রথম যোগ দেন ব্রিচবক্সে। তিনি ক্রিস্টির হয়ে বিশ্বের বৃহত্তম আর্ট-কমার্সের ডিজিটাল প্লাটফর্ম তৈরিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এছাড়াও উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন লেহম্যানস, আর্টকিউবে। শিল্প, সাহিত্যের গভীর অনুরাগী জেফ ভালবাসেন গলফ খেলতে। শিল্পবিষয়ক অনেকগুলো প্রজেক্টে জড়িত থাকার পাশাপাশি তিনি একজন সৌখিন জীবাশ্মবিদ, বিজ্ঞানের এই ক্ষেত্রেও তার রয়েছে উল্লেখযোগ্য সাফল্য।