২৩ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আদালত খালেদাকে জামিন দিলে সরকার হস্তক্ষেপ করবে না ॥ কাদের

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ আদালতে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে জামিন দিলে সরকার সেখানে কোন হস্তক্ষেপ করবে না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আদালত জামিন দিতে চাইলে সরকারের আপত্তি নেই।

সোমবার বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের ৭০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

চলতি সপ্তাহে খালেদা জিয়ার জামিন হতে পারে বিএনপি নেতা মওদুদ আহমেদের এমন বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, তিনি হয়তবা ধারণা করছেন, আদালত বেগম জিয়াকে মুক্তি দিবেন, জামিন দিবেন। যদি আদালত বেগম জিয়াকে জামিন দেন বা দিতে চান, আমি এটুকু বলতে পারি এখানে সরকারের কোন হস্তক্ষেপ থাকবে না। আদালতের, বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে আমরা শ্রদ্ধা করি। আমরা আগেও বলেছি আদালত তাকে সাজা দিয়েছে, আদালতই তাকে মুক্তি দিতে পারে।

শ্রীলঙ্কার মতো ঘটনা বাংলাদেশে যাতে না ঘটে সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সবাই যে কোন পরিস্থিতিতে ঐক্যবদ্ধ থাকুন। এ দেশে হলি আর্টিজান ঘটেছে। হলি আর্টিজানের পরে এই ঢাকা শহরের অবস্থা কি ছিল? অনেকদিন মনে হয়েছিল, যেন মরা একটা ভুতুড়ে শহর। শ্রীলঙ্কায় যা ঘটেছে, বাংলাদেশে তা ঘটবে না এমনটা মনে করার কোন কারণ নেই। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ঐক্যবদ্ধ শক্তিশালী সংগঠন এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। এই হাতিয়ারই আমাদের যে কোন প্রকার আঘাত, আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পারে। এ সময় মহানগর আওয়ামী লীগ নেতাদের কমিটি গঠনে ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করার আহ্বান জানান তিনি। নগর নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি আপনাদের একটা কথা বলব, ফাঁকি দেবেন না। জোড়া-তালি দিয়ে আওয়ামী লীগ করবেন না। দুঃসময়ের ত্যাগী কর্মীদের অবহেলা করে আওয়ামী লীগ টিকবে না। কোন স্বার্থের বর্শবর্তী হয়ে আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করবেন না।

সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, পকেট কমিটি কারও কাজে আসবে না। সুবিধাভোগীদের পার্টি আওয়ামী লীগ নয়, এটা মনে রাখতে হবে। দলের যখন আবার দুঃসময় আসবে, তখন দেখবেন সুবিধাভোগীরা, বসন্তের কোকিলদের হাজার পাওয়ারের বাতি জালিয়েও এদের খুঁজে পাওয়া যাবে না। এটা আমাদের সবাইকে মনে রাখতে হবে, যদি আওয়ামী লীগকে বাঁচাতে চান।

ওবায়দুল কাদের বলেন, তরুণ ও নতুনদের নৌকার পক্ষে ধরে রাখতে হবে। নতুনদের নৌকার পক্ষে ধরে রাখতে হলে সদস্যদের সংগ্রহ অভিযানের কোন বিকল্প নেই। সদস্য সংগ্রহ অভিযান ধারালো হাতিয়ারের মতো কাজ করবে। যারা আওয়ামী লীগের ইশতেহারের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে নৌকায় ভোট দিয়েছিলেন, তাদের ধরে রাখতে হবে। নতুন করে লোক সৃষ্টি করতে হবে, কর্মী সৃষ্টি করতে হবে। কর্মীরা হচ্ছে আওয়ামী লীগের প্রাণ।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার বর্তমান অবস্থা আওয়ামী লীগের চেয়েও বড় আখ্যা দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, শেখ হাসিনা, তাকে নিয়ে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। তার নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা পৃথিবীতে। নেত্রী নিজেকেই অতিক্রম করে গেছেন। শেখ হাসিনা নিজেই তার যোগ্যাতা দিয়ে, দক্ষতা দিয়ে নিজেকে অতিক্রম করেছে। শেখ হাসিনা তার ব্যক্তিত্ব দিয়ে, গৌরব দিয়ে, তার সৌরভ দিয়ে, তার সাহস দিয়ে, তার বিচক্ষণতা দিয়ে প্রমাণ করেছেন- ‘সি ইজ লারজার দেন আওয়ামী লীগ।

তিনি বলেন, তিনি (শেখ হাসিনা) আওয়ামী লীগের চেয়েও বড় হয়ে গেছেন। আমাদের পার্টি শেখ হাসিনার সমকক্ষ হতে পারেনি। এটা কেন? এটা কী দলীয় দুর্বলতার কারণে? সেগুলো চিহ্নিত করতে হবে। দলের স্বার্থে কাজ করুন, দলের ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ন করুন।

সংসদে যোগ দিয়ে বিএনপি নেতাদের আবার সংসদে অবৈধ বলার সমালোচনাও করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, নির্বাচিত সংসদকে যারা অবৈধ বলে, আদালতের রায়ই আছে তাদের (বিএনপি) জন্মই অবৈধ। এটা আমার কথা নয়, উচ্চ আদালত রায় দিয়েছে। তাদের জন্ম, তাদের সরকার গঠন সবই ছিল অবৈধ। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারকে এই অবৈধ জন্ম উত্তরাধিকার নিয়ে যারা আছে তাদের মুখে নির্বাচিত সরকার ও নির্বাচিত সংসদকে অবৈধ বলা হাস্যকর।

মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মুহাম্মদ সাঈদ খোকন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য মির্জা আজম, দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ বর্ধিত সভায় বক্তব্য রাখেন।