২৪ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কুড়িগ্রামে ইউপি সদস্য অপহৃত, দুই ঘণ্টা পর উদ্ধার

  • হামলায় চেয়ারম্যান আহত

স্টাফ রিপোর্টার, কুড়িগ্রাম ॥ সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে সোমবার দুপুরে প্রকাশ্য দিবালোকে একদল সন্ত্রাসীর হাতে গুরুতর আহত হয় ঘোগাদহ ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহআলম, ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদ ও মইনুল ইসলাম। এরপর সন্ত্রাসীরা পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদকে অপহরণ করে। তাকে জিম্মি করে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করে। এরপর মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে পুলিশ চাপ সৃষ্টি করলে অপহরণের ২ ঘণ্টা পর আবুল কালামকে আহত অবস্থায় ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। তবে আবুল কালাম আজাদের পকেট থেকে ৬ হাজার টাকা, মোটরসাইকেলের কাগজপত্র এবং ২টি ফাঁকা চেকের পাতায় স্বাক্ষর নিয়ে চেকবই ছিনিয়ে নেয়। পরে পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। পুলিশ এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল ইসলাম মঞ্জু ম-ল এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ জাফর আলী আহতদের হাসপাতালে দেখতে যান। এ সময় আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নিয়ে উপস্থিত দর্শনার্থীদের উদ্দেশে বলেন, পুলিশ নিরপেক্ষতার সঙ্গে প্রকৃত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। জনপ্রতিনিধিদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা বরদাশ করা হবে না।

আহত ইউপি চেয়ারম্যান শাহআলম জানান, উপজেলা পরিষদে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মিটিং শেষে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আমান উদ্দিন আহমেদ মঞ্জুর সঙ্গে ঘোগাদহ হাফিজিয়া মাদ্রাসার উন্নয়নে এডিপির ২টি প্রকল্পের কাজের বিল নিয়ে কথা হয়। এক পর্যায়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ঘোগাদহ ইউপির ৫নং ওয়ার্ডের মেম্বার ও প্রকল্প সভাপতি আবুল কালাম আজাদের ওপর চড়াও হয়। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে গত উপজেলা নির্বাচনে তার পক্ষে কাজ না করায়। এক পর্যায়ে আমার সঙ্গেও বসচা হয়। এ সময় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আমান উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু আমাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেয় এবং উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে বেরিয়ে যেতে বলে। দোতালা থেকে নিচে নামার সঙ্গে সঙ্গেই উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের নির্দেশে প্রথমে ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালায় আনোয়ার, মুকুল, বিদ্যুতসহ ১৫/২০ জন সন্ত্রাসী। এরপর আমাকে প্রচন্ড মারধর করে। এক পর্যায়ে মাটিতে ফেলে মাথা, বুক, পেটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে নোংরা ড্রেনের মধ্যে ফেলে দেয়। এ সময় আমাকে বাঁচাতে এলে চাচাত ভাই মইনুল ইসলাম বাবলুকেও গুরুতর আহত করে। পুলিশ আমাদের বাঁচানোর চেষ্টা করে এবং ৪/৫ জন সন্ত্রাসীকে আটক করে। এ ঘটনায় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আমান উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু নিজে উপস্থিত হয়ে পুলিশের কাছ থেকে তাদের ছাড়িয়ে নেয়।

আহত ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদ জানান, আইনশৃঙ্খলা মিটিং শেষে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আমান উদ্দিন আহমেদ মঞ্জুর সঙ্গে কথা বলার পর নিচে নেমে আসলে আমাকে ১৫/২০ জন সন্ত্রাসী উপজেলা পরিষদ চত্বরে আটক করে এলোপাথাড়িভাবে মারধর করে। এক সময় তারা আমাকে জোর করে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে গুম করার হুমকি দেয়। এ সময় তারা উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে আমাকে ত্রিমোহনী এলাকায় নিয়ে গিয়ে একটি গোডাউনে আটকে রাখে। সেখানে ১৫/২০ মিনিট রাখার পর আমাকে আবার মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে একটি অপরিচিত ইটভাটায় নিয়ে যায়। সেখানে সন্ত্রাসীরা আমার পকেটে রক্ষিত ৬ হাজার টাকা, মোটরসাইকেলের কাগজপত্র এবং চেকের পাতা ছিনিয়ে নেয়। পরে হুমকি-ধমকি দিয়ে অগ্রণী ব্যাংক শাখার দুটি ফাঁকা চেকের পাতায় স্বাক্ষর নেয়। এরপরও কাইউম মেম্বারের মোবাইলে ফোন করে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে। পরে আমাকে টগরাইহাটে নিয়ে যায়। সেখানে কারো সঙ্গে কথা বলে আমিনুল ইসলাম নামে এক ইউপি মেম্বারের জিম্মায় আমাকে ছেড়ে দেয়। তিনি আমাকে ধরলা ব্রিজের পূর্বপাড়ে এক হোটেলে নামিয়ে দিলে পুলিশ আমাকে ট্রাক করে সেখান থেকে উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করায়।

বিষয়টি নিয়ে বেলগাছা ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মাহবুব জানান, উপজেলা আইনশৃঙ্খলা মিটিং শেষ করেই যখন জনপ্রতিনিধিরা সন্ত্রসীদের হামলার শিকার হন, তখন সাধারণ মানুষেরও নিরাপত্তা বলে কিছু থাকে না। প্রশাসন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এটি আমাদের প্রত্যাশা।

এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াছমিন জানান, উপজেলা পরিষদ চত্বরে এরকম একটি অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেছে বলে আমি জেনেছি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে এসআই নাজমুল হাসান সজীব জানান, উপজেলা পরিষদের পিছনে একটি অগ্নিকান্ডের ঘটনা পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে এ মারামারির ঘটনা চোখে পড়ে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আবুল কালাম আজাদ মেম্বারকে কে বা কারা তুলে নিয়ে যায়। তা জানতে পেরে পুলিশী তৎপরতায় প্রায় দুঘণ্টা পর তাকে ধরলা ব্রিজের পূর্ব প্রান্ত থেকে উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম সদর থানার ওসি (তদন্ত) রাজু সরকার জানান, তিনি জেলার বাইরে থাকায় বিস্তারিত কিছু না জানলেও ঘটনা শুনেছেন। একই দলের দুটি পক্ষের মধ্যকার এ বিরোধ। তবে এখন পর্যন্ত কেউই লিখিত অভিযোগ করেনি।

এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আমান উদ্দিন আহমেদ মঞ্জুর সঙ্গে মোবাইলে বারবার যোগাযোগ করেও তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল ইসলাম মঞ্জু ম-ল বলেন, এটি একটি ন্যক্কারজনক বর্বরোচিত ঘটনা। এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত এবং পিছন থেকে কলকাঠি নাড়ছেন তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডাঃ নজরুল ইসলাম জানান, আহদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। এই মুহূর্তে কিছু বলা যাচ্ছে না।

নির্বাচিত সংবাদ