২৪ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে বাংলাদেশের সেমির সম্ভাবনা প্রায় উজ্জ্বল!

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে বাংলাদেশের সেমির সম্ভাবনা প্রায় উজ্জ্বল!
  • রেকর্ডময় ম্যাচে ইংল্যান্ডের জয়

মিথুন আশরাফ/মোঃ মামুন রশীদ ॥ আফসোস! শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচটি যদি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত না হতো তাহলে হয়তো বাংলাদেশ এখন পাঁচ ম্যাচের তিনটিতেই জেতা থাকত। তখন সেমিফাইনালে খেলার সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়ে থাকত। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বধে বাংলাদেশের সেমির স্বপ্ন এখনও উজ্জ্বল হয়ে আছে! ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে ফুরফুরে মেজাজে আছে টাইগাররা। আত্মবিশ্বাস বেড়ে গেছে। মাননিকতাও চাঙ্গা। এখন বাড়তি আত্মবিশ্বাস আর মানসিক ভিত নিয়ে সামনের প্রতিপক্ষদেরও বধ করা গেলেই হলো।

কিভাবে সেমিতে খেলতে পারে বাংলাদেশ? বাংলাদেশ যদি হাতে থাকা ৪ ম্যাচের সবকটি অথবা ৩টি ম্যাচে জিততে পারে। আর বাংলাদেশের ওপরে থাকা ইংল্যান্ড (৫ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট), অস্ট্রেলিয়া (৫ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট), নিউজিল্যান্ড (৪ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট) ও ভারতের (৪ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট) মধ্যকার যে কোন একটি বা দুটি দল হারতে থাকে। অথবা দুই ম্যাচের বেশি না জিতে। তাহলেই বাংলাদেশের সেরা চারে স্থান হতে পারে। বাংলাদেশের নিচে থাকা শ্রীলঙ্কা (৫ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট), ওয়েস্ট ইন্ডিজ (৫ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট), দক্ষিণ আফ্রিকা (৫ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট), পাকিস্তান (৫ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট), আফগানিস্তান (৫ ম্যাচে ০ পয়েন্ট) অলৌকিক নৈপুণ্য না দেখালেই হয়।

বাংলাদেশ এখন ৫ ম্যাচের ২টিতে জিতে, ২টিতে হেরে, একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় ১ পয়েন্ট পেয়ে ৫ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার পঞ্চম স্থানে আছে। বৃহস্পতিবার নটিংহ্যামের ট্রেন্টব্রিজে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে লড়াই করবে বাংলাদেশ। এরপর ২৪ জুন সাউদাম্পটনের দ্য রোজ বোলে আফগানিস্তান, ২ জুলাই বার্মিংহ্যামের এজবাস্টনে ভারত ও ৫ জুলাই লন্ডনের লর্ডসে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। এই ম্যাচগুলোর মধ্যে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের বিপক্ষে জেতার আশাতো আগে থেকেই আছে। অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের মধ্যে যে কোন এক দলকে হারাতে পারলেই তিন জয় হয়ে যাবে। আর যদি চার দলকেই হারাতে পারে বাংলাদেশ, তাহলেতো চার জয় হবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে যেভাবে হারিয়েছে বাংলাদেশ, ৩২২ রানের টার্গেট যেভাবে সহজেই অতিক্রম করেছে, সাকিব আল হাসান (১২৪*) ও লিটন কুমার দাস (৯৪*) যে নৈপুন্য দেখিয়েছেন; তাতে যে কোন দলকেই এখন হারাতে সক্ষম বাংলাদেশ। তা প্রমাণ করে দিয়েছে। সামনে টার্গেট যাই আসুক, তা অতিক্রম করতেও সক্ষম বাংলাদেশ। তা বুঝিয়ে দিয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার সামনে সব কঠিন প্রতিপক্ষ (বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা)। নিউজিল্যান্ডের সামনেও তাই (দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড)। ভারতের সামনে তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ (আফগানিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ড, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা) আছে। ইংল্যান্ডের সামনে সেই তুলনায় সহজ-কঠিন প্রতিপক্ষ (শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, নিউজিল্যান্ড) আছে। বাংলাদেশের ওপরে থাকা দলগুলোর নিজেদের মধ্যে খেলা আছে। আর এখানেই বাংলাদেশের ভাল সুযোগ থাকছে। ওপরের দলগুলোর কেউ হারবে, কেউ জিতবে। কারও পয়েন্ট যোগ হবে না। কারও পয়েন্ট বাড়বে। যদি ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ভারত সামনের ম্যাচগুলো থেকে ২টি করে জিতে, তাহলে ১২ পয়েন্টের বেশি কারও হবে না। নিউজিল্যান্ড, ভারতের হবে ১১ পয়েন্ট। তখন বাংলাদেশ সামনের চার ম্যাচ থেকে তিন ম্যাচে জিতলে সেমিফাইনালে খেলার সুযোগ থাকবে। আর যদি ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ভারত তিনটি করে ম্যাচ জিতে তাহলে বাংলাদেশকে হাতে থাকা চারটি ম্যাচেই জিততে হবে। তখন বাংলাদেশের সেমিফাইনালে খেলা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। পয়েন্ট সমান হলে রানরেটের হিসেব যে থাকছে। তবে সেরা চারে থাকা দলগুলো ২ ম্যাচ করে জিতলে বাংলাদেশের সেমিফাইনালে খেলার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে পড়তে পারে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ বধে ফুরফুরে মেজাজে থাকা টাইগাররা এখন সেই স্বপ্ন সফল করুক, তাই সবার প্রত্যাশা।

ইংল্যান্ড ১৫০ রানে আফগানিস্তানকে হারাল ॥ টানা তৃতীয় জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে উঠে গেল হট ফেবারিট স্বাগতিক ইংল্যান্ড। মঙ্গলবার ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে রেকর্ডময় ম্যাচে দুর্বল আফগানিস্তানকে ১৫০ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে এখন ৫ ম্যাচে ৪ জয়ে ৮ পয়েন্ট তাদের। সমান পয়েন্ট হলেও অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে নেট রানরেটে এগিয়ে থেকে ইংল্যান্ডই শীর্ষে। প্রথম ব্যাট করে অধিনায়ক ইয়ন মরগানের ৭১ বলে ১৭ ছক্কা, ৪ চারে গড়া ১৪৮ রানের সুবাদে ৬ উইকেটে ৩৯৭ রানের বিশাল সংগ্রহ পায় ইংল্যান্ড। এটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। ওয়ানডেতে ব্যক্তিগত ছক্কার বিশ্বরেকর্ড গড়া মরগান ৫৭ বলে শতক হাঁকিয়ে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের পক্ষে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডও গড়েছেন। ইংলিশ ইনিংসে ২৫ ছক্কা হয়েছে যা ওয়ানডে ইতিহাসে দলীয় বিশ্বরেকর্ড। ৯ ওভারে ১১০ রান দিয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে খরুচে বোলারের লজ্জার রেকর্ড গড়েছেন আফগান লেগস্পিনার রশিদ খান। বিশাল পাহাড়ের জবাব দিতে নেমে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৪৭ রান তুলতে সক্ষম হয় আফগানিস্তান। টানা পঞ্চম হারে চলতি বিশ্বকাপে সেমিফাইনালের রেস থেকে প্রায় ছিটকেই গেল তারা।

এবার বিশ্বকাপে আফগানিস্তানকে বাকি প্রতিপক্ষরা কিছুটা সমীহই করছিল। কিন্তু বাজে নৈপুণ্যের কারণে আর আফগানদের তোয়াক্কাই করছে না কেউ। টস জিতে রেকর্ড গড়তেই যেন আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন মরগান। অথচ ইনজুরিতে থাকা এ ব্যাটসম্যানের খেলা নিয়েই ছিল সংশয়। দলে এদিন ফেরেন অফস্পিন অলরাউন্ডার মঈন আলী। তবে ফর্মের তুঙ্গে থাকা ওপেনার জেসন রয় নামতে পারেননি বলে, জেমস ভিন্স সুযোগ পান। তিনি জনি বেয়ারস্টোর সঙ্গে উদ্বোধনী জুটিতে ৪৪ রানের বেশি তুলতে পারেননি। শ্লথ গতিতে এগোতে থাকা ইংলিশদের আঘাত হানেন দৌলত জাদরান, ফিরিয়ে দেন ভিন্সকে (২৬)। এরপর বেয়ারস্টোর সঙ্গে সতর্ক ব্যাটিং করেন জো রুট। প্রথম পাওয়ার প্লে’র ১০ ওভার শেষে ১ উইকেটে ৪৬ রান তোলে তারা। তবে এরপর ধীরে ধীরে চড়াও হন দু’জনই। উভয়ে অর্ধশতক হাঁকান। দ্বিতীয় উইকেটে ১২০ রান যোগ করার পর বেয়ারস্টো ৯৯ বলে ৮ চার, ৩ ছক্কায় ৯০ রানে গুলবাদিন নায়েবের শিকার হন। তবে বেয়ারস্টোকে আউট করাটাই হয়তো কাল হয়েছে আফগানদের জন্য। কারণ, এরপর মরগান উইকেটে এসে তা-ব শুরু করেন। তার টর্নেডো ব্যাটিংয়ে তছনছ হয়ে যায় আফগান বোলিং আক্রমণ। মাত্র ৩৬ বলে ৫০ ছোঁয়া মরগান ক্যারিয়ারের ত্রয়োদশ সেঞ্চুরিতে পৌঁছেন মাত্র ৫৭ বলে। বিশ্বকাপে এটি ইংল্যান্ডের পক্ষে দ্রুততম শতক। বিশ্বকাপের দ্রুততম শতকে তার ওপরে আছেন আয়ারল্যান্ডের কেভিন ও’ব্রায়েন (৫০ বলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে, ২০১১), অস্ট্রেলিয়ার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল (৫১ বলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে, ২০১৫) ও দক্ষিণ আফ্রিকার এবি ডি ভিলিয়ার্স (৫২ বলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, ২০১৫)। আর ইংল্যান্ডের পক্ষে এটি ওয়ানডেতে পঞ্চম দ্রুততম শতক। জস বাটলার পাকিস্তানের বিপক্ষে ৪৬ ও ৫০ বলে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে এবং মঈন ৫৩ বলে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে, বেয়ারস্টো ৫৪ বলে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে পরবর্তী দুই পজিশনে আছেন।

তৃতীয় উইকেটে ১০১ বলে ১৮৯ রানের জুটি গড়ে রুট ৮২ বলে ৫ চার, ১ ছক্কায় ৮৮ রানে ফিরে যান। শতকের পর আরও দুর্বার মরগান বাকি ১৪ বলে আরও ৪৮ রান করে সাজঘরে ফেরেন। তিনি ৭১ বলে ৪ চার, ১৭ ছক্কায় ১৪৮ রান করার পর গুলবাদিনের শিকার হন। ওয়ানডেতে ব্যক্তিগত ইনিংসে এটি সর্বাধিক ছক্কার রেকর্ড। এর আগে ১৬টি করে ছক্কা হাঁকিয়ে যৌথভাবে বিশ্ব রেকর্ডের মালিক ছিলেন ক্রিস গেইল, ভিলিয়ার্স ও রোহিত শর্মা। এরপর দ্রুত জস বাটলার (২) ও বেন স্টোকস (২) সাজঘরে ফিরলেও শেষদিকে মঈনের ৯ বলে ১ চার, ৪ ছক্কায় করা ৩১ রানে ৬ উইকেটে ৩৯৭ রানের বিশাল সংগ্রহ পায় ইংল্যান্ড। এটি চলতি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। বিশ্বকাপের ইতিহাসে ইংল্যান্ডেরও সর্বোচ্চ। গত ৮ জুন বাংলাদেশের বিপক্ষে ৬ উইকেটে ৩৮৬ ছিল তাদের সর্বাধিক। তবে সার্বিক তালিকায় বিশ্বকাপের এটি ষষ্ঠ সর্বোচ্চ দলীয় ইনিংস। গত বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের বিপক্ষেই পার্থে ৬ উইকেটে ৪১৭ রান তুলেছিল অস্ট্রেলিয়া। সেটিই বিশ্বকাপের সেরা। ইনিংসে ২৫ ছক্কা হাঁকায় ইংলিশরা। কোন দলের এটিই এক ইনিংসে সর্বাধিক ছক্কার বিশ্বরেকর্ড। এ বছরই ২৭ ফেব্রুয়ারি সেন্ট জর্জেসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২৪ ছক্কা হাঁকিয়েছিল ইংল্যান্ড। আফগানিস্তানের পক্ষে দৌলত ৮৫ ও গুলবাদিন ৬৮ রানে ৩টি করে উইকেট নেন। তবে অন্যতম বোলিং নির্ভরতা লেগস্পিনার রশিদ ৯ ওভারে ১১০ রান দিয়ে লজ্জার রেকর্ড গড়েন। তিনি ১১ ছক্কা হজম করেছেন। বিশ্বকাপে এর আগে কোন বোলার এত রান দেননি। ১৯৮৩ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওভালে নিউজিল্যান্ডের ডানহাতি পেসার মার্টিন ¯েœডেন ১২ ওভারে ১টি মেডেন ও ২ উইকেটসহ ১০৫ রান দিয়েছিলেন। সেটিই ছিল বিশ্বকাপের সবচেয়ে খরুচে বোলিং। আর ওয়ানডেতে খরুচে বোলিংয়ে রশিদ দ্বিতীয় স্থানে। অস্ট্রেলিয়ার পেসার মিক লুইস জোহানেসবার্গে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১০ ওভারে ১১৩ রান দিয়েছিলেন। স্পিনারদের মধ্যে ওয়ানডেতে সর্বাধিক রান দেয়ার লজ্জা শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তি অফস্পিনার মুত্তিয়া মুরালিধরনের। তিনি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২০০৬ সালে সিডনিতে ১০ ওভারে ৯৯ রান দিয়েছিলেন। আর বিশ্বকাপে বারমুডার বাঁহাতি স্পিনার ডোয়াইন লেভেরক ২০০৭ বিশ্বকাপে পোর্ট অব স্পেনে ১০ ওভারে ১ উইকেট নিতে ৯৬ রান দিয়েছিলেন। এমন বোলিংয়ের মাঝে তরুণ অফস্পিনার মুজিব উর রহমান ১০ ওভারে মাত্র ৪৪ রান দিয়ে বিস্ময় ছড়িয়েছেন!

জবাব দিতে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ওপেনিংয়ে নামা নূর আলী জাদরানকে (০) জোফরা আর্চারের বলে বোল্ড হতে দেখে আফগানরা। তবে ওপেনিংয়ে নামা অধিনায়ক গুলবাদিন ২৮ বলে ৪ চার, ১ ছক্কায় ৩৭ রান করে সাজঘরে ফেরার আগে আফগান স্কোরবোর্ড দ্রুততর রাখেন। তিনিও মার্ক উডের বলে ফিরে গেলে দ্বিতীয় উইকেট জুটি ৪৮ রানের চেয়ে বড় হয়নি। রহমত শাহ ও হাশমতুল্লাহ শহিদী তৃতীয় উইকেটে ৫২ রান তুললেও ছিলেন মন্থর। এরপর রহমত ৭৪ বলে ৩ চার, ১ ছক্কায় ৪৬ রানে বিদায় নিলে পরাজয়টাও প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়। আফগান লেগস্পিনার রশিদ ব্যর্থ হলেও ইংলিশ লেগস্পিনার আদিল রশিদ ভয়ানক হয়ে ওঠেন। তিনি রহমতের পর দারুণ খেলতে থাকা আসগর আফগানকেও (৪৮ বলে ৩ চার, ২ ছক্কায় ৪৪) সাজঘরে ফেরান। পরে মোহাম্মদ নবিকেও (৯) শিকার করেন। একপ্রান্তে লড়াকু হাশমতুল্লাহ দারুণ খেলছিলেন। তিনিও অর্ধশতক হাঁকিয়ে ১০০ বলে ৫ চার, ২ ছক্কায় ৭৬ রান করার পর আর্চারের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৪৭ রান করে আফগানিস্তান। আর্চার ও আদিল ৩টি করে উইকেট নেন। ম্যাচে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৩৩ ছক্কা হয়েছে যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক ম্যাচে সর্বাধিক। গত বিশ্বকাপে ওয়েলিংটনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ-নিউজিল্যান্ড ম্যাচে হয়েছিল ৩১ ছক্কা।

স্কোর ॥ ইংল্যান্ড ইনিংস- ৩৯৭/৬; ৫০ ওভার (মরগান ১৪৮, বেয়ারস্টো ৯০, রুট ৮৮, মঈন ৩১*; গুলবাদিন ৩/৬৮, দৌলত ৩/৮৫)।

আফগানিস্তান ইনিংস- ২৪৭/৮; ৫০ ওভার (হাশমতুল্লাহ ৭৬, রহমত ৪৬, আসগর ৪৪, গুলবাদিন ৩৭; আর্চার ৩/৫২, আদিল ৩/৬৬, উড ২/৪০)।

ফল ॥ ইংল্যান্ড ১৫০ রানে জয়ী। ম্যাচসেরা ॥ ইয়ন মরগান (ইংল্যান্ড)।

নির্বাচিত সংবাদ