২৪ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অভিমত ॥ নারীর ক্ষমতায়ন...

  • হায়দার মোহাম্মদ জিতু

‘অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী’ উপন্যাসে ‘আহমদ ছফা’ এঁকে গেছেন নারীর বহুরূপতা এবং ভেদহীন রহস্যকে। তবে এই উপন্যাস পাশাপাশি আরেকটি বিষয়কেও স্পষ্ট করে যেÑ চিন্তার গতিসীমা এবং বিস্তৃত পরিধি অঙ্কনেও নারীর কারিশমা অনেক। সময়ের পরিক্রমণ এবং সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির বদলে নারী এখন এগিয়ে চলছে প্রায় সমানে সমানে। সেই দৃষ্টিভঙ্গির এক অনন্য উজ্জ্বল উদাহরণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চলমান বর্তমান বাংলাদেশ।

নারীর ক্ষমতায়ন এবং অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিশ্বে এই রাষ্ট্র আজ শুধু প্রশংসনীয় নয় বরং অনুকরণীয় বটে। যার ক্ষুদ্র প্রমাণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ‘মাতৃ প্রজনন এবং শিশু মৃত্যুহার’ হ্রাসে সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ তাদের ‘সাউথ সাউথ পুরস্কার’ অর্জন। নারীর ‘সাক্ষরতা’ সাফল্যে অর্জন করেছেন জাতিসংঘের ‘শান্তি বৃক্ষ’ পুরস্কার। সমাজের লিঙ্গবৈষম্যকে কাটিয়ে উঠবার তাগিদে শেখ হাসিনা সরকার প্রতিনিয়ত নিয়ে চলেছেন নিত্যনতুন উদ্যোগ। যার ফলে বাংলাদেশ আজ লিঙ্গবৈষম্যকে কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে এশিয়ার ভারত, শ্রীলঙ্কা এবং পাকিস্তানকে পেছনে ফেলেছে। জরিপে দেখা যায়, বিশ্বের ১৪৫টি রাষ্ট্রের মাঝে ভারত, শ্রীলঙ্কা এবং পাকিস্তানের অবস্থান যেখানে যথাক্রমে ১০৮, ৮৪ এবং ১৪৪ সেখানে বাংলাদেশের অবস্থান ৬৪তম।

জরিপটি আরও পরিষ্কার বোঝা যায় বাংলাদেশ সরকারের নেয়া কিছু পদক্ষেপের দিকে তাকালে। অবিভক্ত পাকিস্তান রাষ্ট্রে যেখানে সংসদীয় ব্যবস্থায় নারী সংরক্ষিত আসনের সংখ্যা ছিল মাত্র ১০টি, সেখানে স্বাধীন বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকার সেটাকে বাড়িয়ে করেছেন ৫০টি। এছাড়া নারীকে আরও কর্মমুখী করে তুলতে সরকারী চাকরিতে শতকরা ১০ ভাগ কোটা সুবিধাসহ ব্যবসায় শতকরা ৫-৬ ভাগ কমে ঋণ সুবিধা দিচ্ছে সরকার।

নারীর মাতৃকালীন ছুটি ৪ মাস থেকে বাড়িয়ে করেছে ৬ মাস। মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সংবেদনশীলতার স্বাক্ষরস্বরূপ হিজড়াদের দিয়েছেন তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃতি। এক সময় বাংলাদেশী সমাজ ব্যবস্থায় নারীর মুক্তচিন্তা করার সুযোগ সীমিত ছিল। এ সীমাবদ্ধতা নিয়েই তাদেরকে ঘর বাঁধার কাজে নিয়োজিত হতে হতো। যার কারণে নারী হয়ে উঠত সেই সংসারের বোঝাস্বরূপ। আর এই প্রক্রিয়াটিকে চাপা দেয়ার জন্যই আয়োজন ছিল যৌতুকের।

তবে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার এ ব্যবস্থাকে নিরুৎসাহিত এবং রোধ করতে যৌতুক নিরোধ আইন ১৯৮০’কে সংশোধন করে প্রণয়ন করেছেন যৌতুক নিরোধ আইন ২০১৫। উল্লেখ্য, নারীকে সমাজ ব্যবস্থার সঙ্গে আরও বেশি সম্পৃক্ত এবং উদ্বুুদ্ধ করতে শেখ হাসিনা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নারীর জন্য ৩০ শতাংশ আসন সংরক্ষণ এবং উপজেলা পরিষদে ১ জন ভাইস চেয়ারম্যানের পদ সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছেন।

তবে দুঃখজনক হলেও সত্যি সরকারের নেয়া সহস্র উদ্যোগের পরও প্রতিদিনই চারপাশে নারীরা প্রায়ই নিগৃহীত এবং নিপীড়িত হচ্ছেন।

বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছে রক্তের স্রোতধারায় উজ্জীবিত মিছিল স্লোগানে। তাছাড়া তার উপরে এখন সে রাষ্ট্রের ‘রাষ্ট্রপ্রধান, বিরোধীদলীয় নেত্রী এবং স্পীকার’ প্রত্যেকেই নারী। কাজেই উজ্জীবিত প্রাণে তারা দাপটের সঙ্গে এগিয়ে চলবেন এটাই বর্তমান ধারাবাহিক বাস্তবতা।

প্রত্যেক ভূমিষ্ঠ শিশু বেড়ে উঠে তার আপন জগতে এবং সেই জগত নির্মাণ-বিনির্মাণে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখে তার পরিবার। একজন সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে সেও যে এই জগতের অংশীদার সেটাও সে বোঝে এবং জানে তার পরিবার থেকে। কাজেই শুরুতেই যদি তার সর্বোচ্চ পাঠাগার কিংবা বিদ্যাপীঠ (পরিবার) তাকে নারী-পুরুষের বৈষম্য হটিয়ে ভারসাম্যের অমৃত শেখায়, তবেই একটি সমাজ এবং রাষ্ট্র ব্যবস্থায় মানবতার জয় প্রতিষ্ঠিত সম্ভব।

লেখক : ছাত্র নেতা

haiderjitu.du@gmail.com

নির্বাচিত সংবাদ