২৪ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আরচার রোমান সানাকে সংবর্ধনা

  • ‘আমার আগের ৭ আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদকের চেয়ে এই তাম্রপদকের গুরুত্ব অনেক বেশি’

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ আরচার রোমান সানা বিশ্ব আরচারি চ্যাম্পিয়নশিপে সেমিফাইনালে উন্নীত হয়ে তাম্রপদক অর্জন করেন। একই সঙ্গে তিনি দ্বিতীয় বাংলাদেশী এ্যাথলেট হিসেবে যোগ্যতার মাপকাঠিতে সরাসরি অলিম্পিক গেমসে অংশগ্রহণ করার যোগ্যতা অর্জন করেন। এই বিরল কৃতিত্বের জন্য তীরন্দাজ রোমানকে মঙ্গলবার ঢাকা পল্টনের শেখ রাসেল রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্সে ফুলেল শুভেচ্ছা এবং সংবর্ধনা দেয়া হয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রোমান সানার হাতে দুই লাখ টাকার চেক তুলে দেয় আরচারি ফেডারেশনের অফিসিয়াল স্পন্সর সিটি গ্রুপ। এছাড়া এ্যাথলেটিক্স, হ্যান্ডবল, উশু ফেডারেশনসহ আরও কয়েকটি ফেডারেশন ও ক্রীড়া এ্যাসোসিয়েশন রোমান সানাকে ফুলের তোড়া দিয়ে অভিনন্দন জানায়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অলিম্পিক এ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা এবং আরচারি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী রাজীবউদ্দিন আহমেদ চপল।

২০১৩ সাল থেকে ক্লাব পর্যায়ে বাংলাদেশ আনসারের হয়ে খেলা রোমান এ পর্যন্ত জাতীয় পর্যায়ে ৭ স্বর্ণ, ১ রৌপ্য, ২ তাম্রপদক এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ৭ স্বর্ণ, ৬ রৌপ্য এবং ২ তাম্রপদক অর্জন করেছেন। এক প্রশ্নের উত্তরে রোমান বলেন, ‘দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক আরচারিতে আমার এই ৭ স্বর্ণজয় সবার চেয়ে বেশি। কিন্তু এবার হল্যান্ডে বিশ্ব আরচারি চ্যাম্পিয়নশিপে যে তাম্রপদক পেয়েছি, আগের ৭ সোনার চেয়েও এই তাম্রপদকের গুরুত্ব অনেক বেশি। কারণ এই তাম্রপদকই আমাকে অলিম্পিকে সরাসরি খেলার সুযোগ করে দিয়েছে। আর আমার আজন্ম স্বপ্ন অলিম্পিকে খেলার।’

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রোমান বলেন, ‘আমি খুবই খুশি এই সম্মান পেয়ে। সিটি গ্রুপকে ধন্যবাদ আমাকে অর্থ পুরস্কার দেয়ায়। আমি গরিব ঘরের ছেলে। কাজেই এই টাকাটা আমার পরিবারের জন্য অনেক কাজে লাগবে। যেদিন অলিম্পিকে খেলার যোগ্যতা অর্জন করলাম, সেদিন আমি যেন একটা ঘোরের মধ্যে ছিলাম। বিশ্বাসই হচ্ছিল না ব্যাপারটা। মনে হচ্ছিল স্বপ্ন দেখছি। মাকে সঙ্গে সঙ্গেই ফোন করে সাফল্যের সংবাদটি জানাই। তিনি আবেগে কেঁদে ফেলেন। এখন আমার লক্ষ্য ২০২০ অলিম্পিকের আগে নিজেকে ভালভাবে তৈরি করা এবং দেশের জন্য পদক আনতে সর্বাত্মক চেষ্টা করা।’ আরচারি খেলায় রোমানের আগমন ২০০৮ সালে (ফেডারেশনের ব্যবস্থাপনায় ইয়ুথ আরচারি প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের মাধ্যমে)। তার প্রথম জাতীয় দলের কোচ ছিলেন নিশীথ দাস (ভারত)। বর্তমান কোচ মার্টিন ফ্রেডারিক (জার্মানি)। মার্টিন বলেন, ‘রোমান যে অলিম্পিকে কোয়ালিফাই করতে পারবে এ ব্যাপারে আমি দৃঢ় আশাবাদী ছিলাম। ফলে বিষয়টি হওযার পর আমি খুব বেশি উল্লাস প্রকাশ করিনি। তবে খুশি হয়েছি অবশ্যই। এখন হাতে এক বছর সময় আছে। সানাকে কঠোর পরিশ্রম-প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে।’

হল্যান্ডে বিশ্ব আরচারি চ্যাম্পিয়নশিপে খেলা শেষে বাংলাদেশ আরচারি দল মঙ্গলবার সকালে বিমানযোগে ঢাকায় অবতরণ করে। বিমানবন্দরে দলটিকে অভ্যর্থনা জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল। বাসযোগে বিমানন্দর থেকে সরাসরি ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের সামনে অবস্থিত শেখ রাসেল রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্সে এসে উপস্থিত হয় বাংলাদেশ জাতীয় আরচারি দল। ২০১৬ সালের অলিম্পিকে গলফার সিদ্দিকুর রহমানের পর এবার দ্বিতীয় বাংলাদেশী ক্রীড়াবিদ হিসেবে সরাসরি অলিম্পিক গেমসে খেলার যোগ্যতা অর্জন করার কৃতিত্ব দেখান রোমান সানা। হল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় বিশ্ব আরচারি চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে উঠে এই আরচার চমকপ্রদ সাফল্য কুড়িয়ে নেন। এর ফলে তিনি অর্জন করেন ২০২০ সালে টোকিও অলিম্পিকে খেলার যোগ্যতা।

নির্বাচিত সংবাদ