২৪ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কোণঠাসা দ. আফ্রিকার প্রতিপক্ষ আজ দুর্ধর্ষ নিউজিল্যান্ড

শাকিল আহমেদ মিরাজ ॥ ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে লীগপর্বের খেলা এখন মধ্যপর্যায়ে। প্রতিটি দল নয় ম্যাচের চার-পাঁচটি করে খেলে ফেলেছে। যে দুটি দল এখনও হারেনি নিউজিল্যান্ড তাদের একটি, অন্যটি ভারত। চার খেলায় তিন জয় ও এক পরিত্যক্ত মিলিয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে কিউইরা। দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলছে কেন উইলিয়ামসনের দল। অন্যদিকে খাঁদের কিনারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। টানা তিন হারের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে ম্যাচটা বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়। সবেধন একমাত্র জয়টি আসে দুর্বল আফগানদের বিপক্ষে। এই অবস্থায় আজ দুর্ধর্ষ নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি ‘চিরচোকার’ দক্ষিণ আফ্রিকা। হারলেই কাগজে-কলমে সেমির আশা শেষ হয়ে যাবে ফ্যাফ ডুপ্লেসিসদের। বছরের পর বছর চমৎকার ক্রিকেট উপহার দেয়া প্রোটিয়াদের এই অবস্থা দেখে অনেকেরই কষ্ট হওয়া স্বাভাবিক। ইনজুরি কাটিয়ে আজ একাদশে ফিরতে পারেন কৃষ্ণাঙ্গ পেসার লুঙ্গি এনগিদি। বার্মিহামে খেলা শুরু বাংলাদেশ সময় বেলা সাড়ে তিনটায়।

নিউজিল্যান্ড মিশন শুরু করেছিল শ্রীলঙ্কাকে ১০ উইকেটে হারিয়ে। এরপর বাংলাদেশের বিপক্ষে অনেকটা নাটকীয়ভাবে ২ উইকেটের জয় পাওয়া কিউইরা আফগানিস্তানকে উড়িয়ে দিয়ে তুলে নেয় ৭ উইকেটের জয়। ভারতের সঙ্গে শক্তির পরীক্ষাটা অবশ্য বৃষ্টির কারণে দিতে হয়নি। নিউজিল্যান্ড গত বিশ্বকাপের রানার্সআপ। ২০১৫ সালে ফাইনালে উঠে প্রতিবেশী অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারতে হয়েছিল কিউদের। আধুনিক ক্রিকেটে সবসময়ই সমীহ জাগানিয়া দলটি আগের ১১ বিশ্বকাপে ছয়বারই সেমিফাইনালে খেলেছে। ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং সবমিলিয়ে এবার দারুণ ভারসাম্যপূর্ণ। ওপেনিংয়ে মার্টিন গাপটিল, কলিন মুনরো। টপঅর্ডারে অধিনায়ক উইলিয়ামসনের সঙ্গী ইনফর্ম রস টেইলর। বলতে গেলে যিনি একাই বাংলাদেশকে হারিয়ে দিয়েছিলেন। সাবেক কিউই অধিনায়ক সেদিন খেলেছিলেন ৮২ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস। উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান টম লাথামও প্রয়োজনে কম যান না। অলরাউন্ডার হিসেবে জিমি নিশাম, কলিন ডি গ্রান্ডহোম, মিচেল স্যান্টনার বেশ কার্যকর। স্পিনে মিচেল স্যান্টনারের সঙ্গে আছেন ইশ সোধি।

আর যেটির কথা আলাদা করে বলতে হয় সেটি নিউজিল্যান্ডের পেস আক্রমণ। ট্রেন্ট বোল্ট, ম্যাট হেনরি, কলাম ফার্গুসনের পাশাপাশি চতুর্থ ও পঞ্চম পেসার হিসেবে আছেন নিশাম আর গ্রান্ডহোম। আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে তিন নম্বরে নিউজিল্যান্ড। আগের ম্যাচে আফগানদের ১৭২ রানে গুঁড়িয়ে দেয়ার পথে নিশান নিয়েছিলেন ৫ উইকেট, ফার্গুসন ৪টি। এদিন অপরাজিত ৭৯ রানের ইনিংস খেলেন অধিনায়ক উইলিয়ামসন, টেইলর করেন ৪৮ রান। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার শুরুটাই এবার বিশ্বকাপে কঠিন ছিল। প্রথমেই বিশ্বসেরা ওয়ানডে দল ও বিশ্বকাপ আয়োজক ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয় তারা। সাম্প্রতিক সময়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে ফর্মের তুঙ্গে থাকা ইংলিশরা ১০৪ রানের জয়ের পথে উড়িয়ে দেয় প্রোটিয়াদের। অন্যতম পেসস্তম্ভ ডেল স্টেইন শুরু থেকেই খেলতে পারেননি। পরে আরেক ফর্মে থাকা পেসার লুঙ্গি এনগিদিও ইনজুরিতে পড়েন। বাংলাদেশের কাছেও ২১ রানে হারে তারা। তৃতীয় ম্যাচে ভারতের কাছে পরাস্ত হয় ৬ উইকেটে। ক্যারিবীয়দের বিরুদ্ধেও শুরুটা যেমন হয়েছিল তাতে বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত না হলে হারের সংখ্যা চারে ঠেকতে পারত।

ব্যর্থতা-হতাশায় নিমজ্জিত প্রোটিয়ারা তাদের একমাত্র জয়টি পায় দুর্বল আফগানিস্তানের বিপক্ষে। ইমরান তাহির (৪/২৯), ক্রিস মরিস (৩/১৩), আন্দিলে ফেকুওয়ের (২/১৮) বোলিং সাফল্যে ১২৫ রানে অলআউট হয় আফগনরা। পরে হাসিম আমলা (৪১) ও কুইন্টন ডি’ককের (৬৮) ব্যাটে ভর করে ২৯তম ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় প্রোটিয়ারা। ৯ উইকেটের জয়ে কিছুটা হলেও আত্মবিশ্বাস ফেরে ডুপ্লেসিসদের। পাঁচ খেলায় তিন হার, এক পরিত্যক্ত ও এক জয় মিলিয়ে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দশ দলের বিশ্বকাপে আট নম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা। উড়তে থাকা নিউজিল্যান্ডকে থামাতে না পারলে আজই হয়তো সেমির পথে শেষ আশাটুকুও শেষ হয়ে যাবে। সেই ১৯৯২ সালে বিশ্ব ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তনের পর থেকে প্রতিটি বৈষয়িক টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট হিসেবে অংশ নেয়া প্রোটিয়াদের সাফল্যের খাতা শূন্য। এবার যাকে ঘিরে স্বপ্ন ছিল সেই এবি ডি ভিলিয়ার্স হঠাৎ করে অবসরে যাওয়ায় দলটির ব্যাটিংশক্তি অনেকটাই খর্ব হয়ে পড়ে। তার ওপর ইনজুরির জন্য সব ম্যাচে খেলতে পারেননি হাসিম আমলা। যদিও এক সময়ের তুখোড় এই উইলোবাজ এখন ঠিক সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজের স্ট্রাইকরেট এবং ধারাবাহিকতা কোনটিই ধরে রাখতে পারছেন না। ব্যাটিংয়ে তাই কুইন্টন ডি’কক আর অধিনায়ক ফ্যাফ ডুপ্লেসিসই ভরসা। ডেভিড মিলার ও জেপি ডুমিনিকেও সেই অর্থে ভাল করতে দেখা যায়নি। বোলিংয়ে বড় নাম পেসার কাগিসো রাবাদা এবং বর্ষীয়ান লেগস্পিনার ইমরান তাহির। ইনজুরি কাটিয়ে আজ একাদশে ফিরতে পারেন লুঙ্গি এনগিদি। তাহলে পেস আক্রমণের ধারা কিছুটা বাড়বে। তবে ভীষণ চাপের মুখে দুর্ধর্ষ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে কেমন করেন সেটি দেখার অপেক্ষা। ১৯৯২ থেকে এ পর্যন্ত মুখোমুখি ৭০ ওয়ানডের ৪১টিতে জয় দক্ষিণ আফ্রিকার, নিউজিল্যান্ড ২৪। পরিত্যক্ত ৫। বিশ্বকাপ ইতিহাসে অবশ্য সাত দেখায় পাঁচ জয়ে এগিয়ে নিউজিল্যান্ড, প্রোটিয়াদের সাফল্য দু’বার। ২০০৩-২০১৫ পর্যন্ত বিশ্বকাপে একবারও প্রোটিয়াদের কাছে হারেনি কিউইরা। অকল্যান্ডে গত বিশ্বকাপে তাদের জয়টা ছিল ৪ উইকেটে।

নির্বাচিত সংবাদ