১৭ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শেষদিনে ফলমেলায় উপচেপড়া ভিড়, বিক্রি ৮০ লাখ টাকা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ শাহনাজ আরা বেগম (৪৮) একজন সরকারী চাকরিজীবী। মঙ্গলবার অফিস শেষে মানসম্মত ফলের আশায় প্রবেশ করেন ফলমেলায়। নানা রকমের ফল দেখে কোনটা রেখে কোনটা নেবেন এমন অবস্থা। তিন ধরনের আম কিনেছেন তাতেই ৮ কেজি। এছাড়া লিচু ও জামও কিনেন তিনি। এত ফল নিয়ে তখন হাঁটাই মুস্কিল। তবে পরিবার ও সন্তানদের জন্য একটু ভাল ফল কিনতে পেরে কষ্ট করে ফলের ব্যাগ টেনেও তৃপ্তির হাসি ছিল তার মুখে। শুধু শাহনাজ বেগমই নয় আসলে এই দিন ফলমেলায় আগতদের ভিড়ই ছিল একটু বেশি। আর যারা মেলায় এসেছেন সবাই বিভিন্ন সাইজের ফলভর্তি ব্যাগ নিয়েই বের হয়েছেন। যার অধিকাংশই ছিল পাকা সুস্বাদু আম। কেউ কেউ অন্যান্য ফলও কিনেন। তিনদিনের এই মেলায় বিক্রি হয়েছে প্রায় ৮০ লাখ টাকার ফল।

ভিড় বেশি হওয়ার কারণ ছিল তিন দিনব্যাপী ফল মেলার সমাপ্তি ছিল এদিন। ফলে মঙ্গলবার সকালের চেয়ে বিকেলের দিকে দর্শনার্থীর ভিড় ছিল কয়েকগুণ বেশি। মেলায় একাধিক বিক্রেতা বলেন, গত দুই দিনের চেয়ে এদিন ভিড় বেশি হয়েছে এবং ফল বিক্রিও বেশি।

এদিকে, কৃষি মন্ত্রণালয় আয়োজিত ফল মেলার সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় আ.কা. মু গিয়াস উদ্দিন মিলকী অডিটরিয়ামে। এ সময় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কারও দেয়া হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ) সনৎ কুমার সাহা। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) ড. এএসএম আনোয়ারুল হক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মীর নূরুল আলম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের হর্টিকালচার উইংয়ের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) শাহ মোহাঃ আকরামুল হক। অনুষ্ঠানে জানানো হয় এবছর মেলায় প্রায় ৮০ লাখ টাকা ফল বিক্রি হয়েছে। যা গতবারের তুলনায় ৩০ লাখ টাকা বেশি।

একাধিক ফল বিক্রেতা ও ক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফল বিকিকিনিটা বেশ জমজমাট। রাজশাহীর কাশিয়াডাঙ্গা থেকে রাঙাবলি অংশ নেন মেলায়। দায়িত্বরত ব্যক্তি জানান, গড়ে ৫০ হাজার টাকার ওপর ফল বিক্রি করেছেন তারা। গোদাগাড়ি থেকে তাহের শাহ এগ্রোর এক ব্যক্তি বলেন, হরেক রকমের আম রয়েছে। ভাল মানের ফল পেয়ে ক্রেতারা কিনেছে বলেও জানান।

আব্দুল লফিত একজন ফল ক্রেতা। তিনি আমই কিনেছেন ১৭ কেজি দুইহাতে ব্যাগ ভর্তি ফল নিয়ে জানান, সবাই এই সময়ে ফল খেতে পছন্দ করে। আমাদের যৌথ পরিবার। ১৭ কেজি আম কিনেছি দুই দিনেই শেষ হয়ে যাবে। তবে ফলের মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।