১৭ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

থাইল্যান্ডে রাবার স্ট্যাম্প পার্লামেন্ট

থাইল্যান্ডে রাবার স্ট্যাম্প পার্লামেন্ট

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চান ওচার ধৈর্যের কথা কেউ অস্বীকার করতে পারবেন না। নিজের কর্তৃত্ব ও কার্যকলাপকে রাবার স্ট্যাম্প মায়ার পার্লামেন্ট তৈরির যে পরিকল্পনা তিনি নিয়েছিলেন তাতে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধি লাভ করেছেন। গত ৫ জুন ওই পার্লামেন্ট প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ওচার নাম ঘোষণা করে।

এক সামরিক অভ্যুত্থানে থাইল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ দখল ও নিজেকে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করার পর পাঁচ বছরেরও বেশি সময় অতিক্রান্ত হয়েছে। এরপর তার শাসনকে দীর্ঘায়িত করার লক্ষ্যে একটি সংবিধান প্রণয়ন ও পাস করার তিন বছরেরও বেশি সময় পেরিয়েছে। অবশেষে নির্বাচন হয়েছে এবং সেই নির্বাচনে শাসক দল যত রকমের অসদুপায় অবলম্বন সম্ভব সব করেও প্রায় হেরেই গিয়েছিল। সে ঘটনারও দুই মাসেরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে। সবকিছুর পরিসমাপ্তি হলো ৫ জুন পার্লামেন্টে ওচাকে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ঘোষণার মধ্য দিয়ে।

থাইল্যান্ডের বর্তমান পার্লামেন্ট সত্যিকার অর্থেই এক রাবার স্ট্যাম্প পার্লামেন্ট। পার্লামেন্টের দুটি কক্ষ, উচ্চ কক্ষ বা সিনেটের ২৫০ সদস্যের সকলেই ওচা সরকার কর্তৃক নিযুক্ত। মোটামুটিভাবে এদের এক-তৃতীয়াংশের সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনী বা পুলিশ বাহিনীর যোগসূত্র আছে। ওচার এক ছোট ভাইও সিনেটের সদস্য। অন্যদিকে গত মার্চে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে নি¤œ পরিষদের ৫০০শ’ সদস্য নির্বাচিত হয়। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন দলভিত্তিক আসন বরাদ্দের যে ফর্মুলাটি ছিল ভোট হয়ে যাওয়ার পর সেটা পরিবর্তন করে এবং জান্তা বিরোধী জোটের সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভের সুযোগ হরণ করে নিয়ে জান্তা সমর্থিত জোটকে জিতিয়ে দেয়। তা ছাড়া নির্বাচন কমিশন ও সাংবিধানিক আদালত দুটোই পরস্পরের যোগসাজশে কাজ করে বিরোধীদলীয় বেশ ক’জন প্রার্থীকে এমপি হওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করে এবং একটি ক্ষেত্রে সরকারবিরোধী একটি গোটা দলকে নিষিদ্ধ করে দেয়।

জেনারেলদের স্বার্থ রক্ষায় গত বছর পালাং প্রাচারাত নামে যে দলটি গঠন করা হয়েছিল সেটি গত মার্চের নির্বাচনে ২৪ শতাংশ পপুলার ভোট পায়। অন্যদিকে প্রবাসী বিরোধীদলীয় নেতা থাকসিন সিনাওয়াত্রার সঙ্গে যুক্ত ফিউ থাই পার্টি পায় ২২ শতাংশ এবং ফিউচার ফরোয়ার্ড নামে আরেক বিরোধী দল পায় ১৮ শতাংশ ভোট। নিজের সামান্য ভোটকে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পরিণত করার জন্য পালাং প্রাচারাত ১৯টি ছোট ছোট দলের একটি বিদঘুটে জগাখিচুড়ি কোয়ালিশন গঠন করে। এই ছোট দলগুলো ছাড়াও পালাং প্রাচারাতকে নি¤œ পরিষদের ৫০০শ’ আসনের মধ্যে ২৫৫টি আসনের ক্ষীণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় রাখার জন্য প্রকাশ্য লেনদেন কার্যক্রমের মাধ্যমে থাইল্যান্ডের প্রাচীনতম দল। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ৫৩ জন এমপি এবং ভুমজাইথাই পার্টির ৫১ জন এমপির হাতে রাখতে হবে।

এই সহযোগিতার দাম এক এক দলের জন্য এক এক রকম। ডেমোক্র্যাটিক পার্টি খুব সম্ভবত উপপ্রধানমন্ত্রী ও তিনটি কেবিনেট পদ পাবে যার মধ্যে অতি আকাক্সিক্ষত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও রয়েছে। ইতোমধ্যে এই দলটির এক এমপি চুয়ান লিকপাই নি¤œ পরিষদের স্পিকারের পদটি বাগিয়ে নিয়েছেন। অবশ্য দলটির সবাই যে একই রকম তা নয়, নির্বাচনের আগ পর্যন্ত যিনি দলটির নেতা ছিলেন সেই অভিজিত ভেজ্জাজিভা প্রায়ুথ ওচার মেয়াদ বাড়ানোর ঘোর বিরোধী ছিলেন। ডেমোক্র্যাটরা পালাং প্রাচারাতের কোয়ালিশনে যোগ দিলে তিনি এবং আরও বেশ কয়েক সহকর্মী এমপি পদে ইস্তফা দেন। অন্যদিকে ভুমজাইথাই পার্টি পরিবহন, স্বাস্থ্য, পর্যটন ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় পেতে পারে।

এদিকে যারা প্রায়ুথ ওচার বিরোধী তাদের ভাগ্যে পুরস্কার ছাড়া আর যে কোন কিছুই জুটতে পারে। ফিউচার ফরোয়ার্ড পার্টির নেতা থানাথর্ন জুয়ানগ্রুনগ্রুয়াঙ্গকিতকে অন্য দলগুলো প্রধানমন্ত্রী পদে প্রায়ুথের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছিল। তরুণদের মধ্যে তার বিশেষ জনপ্রিয়তা আছে। এখন এই ফিউচার ফরোয়ার্ড পার্টির নেতাদের বিরুদ্ধে কমপক্ষে ১৬টি অভিযোগ আনা হয়েছে। সাংবিধানিক আদালতে তুচ্ছ অভিযোগে থানালর্নের এমপি পদ স্থগিত রাখা হয়েছে। থাইল্যান্ডের সংবিধানটাই এমন করা হয়েছে যে এতে গুরুত্বপূর্ণ আইন নিয়ে নিম্ন পরিষদে অচলাবস্থা দেখা দিলে সেক্ষেত্রে জান্তার নিযুক্ত সিনেটকে হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। তা ছাড়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রায়ুথ ওচা রাজার গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন পাবেন। তাই প্রায়ুথের সামনে আপাতত কোন সমস্যা নেই।

চলমান ডেস্ক

সূত্র : দি ইকোনমিস্ট