১৬ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শুল্ক বাড়ায় আমদানির মোবাইল ফোনের দাম হবে প্রায় দ্বিগুণ

বাংলা ট্রিবিউন ॥ বাজেট ঘোষণায় স্মার্টফোনে আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া এর সঙ্গে অগ্রিম ভ্যাট (এটিভি) ৫ শতাংশ ও উন্নয়ন কর (গবেষণা ও উন্নয়ন) ৩ শতাংশ ধার্য করায় ভ্যাট, অগ্রিম কর, সারচার্জ ইত্যাদি মিলিয়ে স্মার্টফোন আমদানিতে কর দিতে হবে ৫৭ দশমিক ৩১ শতাংশ। মোট করের সঙ্গে আরও যুক্ত হবে আমদানিকারকের বিনিয়োগ, প্রাতিষ্ঠানিক ব্যয়, অবকাঠামোগত খরচ ও মুনাফা। সব মিলিয়ে এই দাম বাড়বে ৮০ থেকে ১০০ শতাংশের মতো। আর এসব কারণে ১০ হাজার টাকা দামের আমদানিকৃত একটি মোবাইল ফোন গ্রাহককে কিনতে হবে প্রায় ২০ হাজার টাকায়! আর ২০ হাজার টাকার ফোন কিনতে হবে প্রায় ৪০ হাজার টাকায়।

অন্যদিকে ফিচার ফোনে ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক বহাল থাকলেও মোট আমদানি শুল্ক দিতে হবে ৩৪ শতাংশ। ফিচার ফোনও ক্রেতাদের বাড়তি দামে কিনতে হবে। গত বছর দেশে মোবাইল আমদানি হয়েছে ৩ কোটি ২০ লাখ পিস। এর বেশিরভাগই ফিচার ফোন। স্মার্টফোনের সংখ্যা মোট আমদানি হওয়া ফোনের ২০ থেকে ৩০ শতাংশ। আর অবৈধ পথে দেশে এসেছে এক কোটিরও বেশি মোবাইল ফোন। অবৈধ পথে আসা ফোনের সংখ্যা আমদানি হওয়া মোট ফোনের বাইরেই থেকে যায়, যা থেকে সরকার রাজস্ব পায় না। ৫ জন মোবাইল ফোন আমদানিকারক জানিয়েছেন, স্মার্টফোনে সরকারের নতুন শুল্ক আরোপ এ খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ক্রেতাদের মোবাইল ফোন কিনতে হবে বেশি দামে। সরকারের শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্তে দেশে মোবাইল ফোনের প্রবৃদ্ধি কমবে, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ উদ্যোগ পিছিয়ে যেতে পারে। জানতে চাইলে ট্রানশান বাংলাদেশের (টেকনো ও আইটেল মোবাইলের আমদানিকারক) প্রধান নির্বাহী রেজওয়ানুল হক বলেন, স্থানীয় উৎপাদকদের উৎসাহ দিতে এ ধরনের কাজ করতে হয়। কিন্তু যে পরিমাণ কর আরোপ করা হয়েছে, তা গ্রে মার্কেটকে উৎসাহী করবে। গ্রে মার্কেট কমাতে না পারলে উদ্যোগটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি মনে করেন, আমদানিকারকদের আরও অন্তত দুই বছর সময় দেয়া উচিত ছিল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাজেটের প্রভাব এখনও স্মার্টফোন মার্কেটে পড়েনি। আগের দামেই স্মার্টফোন বিক্রি হচ্ছে। বাজেট ঘোষণার পরে এখন পর্যন্ত কোন প্রতিষ্ঠান বিমানবন্দর থেকে মোবাইল ফোন ছাড় করেনি।