১৯ জুন ২০১৯

সুতার ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি

সুতার ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ প্রস্তাবিত বাজেটে দেশীয় বাজারে বিক্রি হওয়া সুতার ওপর ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএ।

দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, এই হার আরোপ করা হলে প্রতিকেজি সুতার ওপর কর দাঁড়াবে সাড়ে ২৩ টাকা পর্যন্ত। যা এই খাতের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। বন্ধ হয়ে যেতে পারে বহু বস্ত্রকল।

মোহাম্মদ আলী জানান, বর্তমানে এই করহার কেজিপ্রতি মাত্র তিন টাকা। এছাড়া, প্রস্তাবিত বাজেটে যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ এবং কয়েকটি কাঁচামাল আমদানির ওপর ৫ শতাংশ আগাম করের প্রস্তাব করা হয়েছে। যা প্রমাণসাপেক্ষে ফেরত নিতে পারবেন আমদানিকারকরা।

এই প্রস্তাবও বাতিলের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, শিল্পের ভবিষ্যত চিন্তা করে প্রস্তাবনাগুলো আরো পর্যালোচনা করা উচিত।

সংবাদ সম্মেলনে বিটিএমএ সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, টেক্সটাইল সামগ্রীর তৈরির প্রধান কাঁচামাল সুতার উপর নতুনভাবে ৫ শতাংশ মূ্ল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আরোপ করা হয়েছে।এই ভ্যাট আরোপের ফলে বাংলাদেশের স্পিনিং মিলগুলো ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে । এটি প্রত্যাহার করা না হলে বাংলাদেশ আবারও সুতা ও কাপড় আমদানি নির্ভর দেশে পরিণত হবে।

তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত রপ্তানি মূল্যের উপর দীর্ঘদিন যাবত উৎসে কর কর্তন করে আসছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটেও রপ্তানি মূল্যের ওপর উৎসে আয়কর কর্তনের হার শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ বহাল আছে। রপ্তানি মূল্যের উপর বিদ্যমান উৎসে আয়কর হারটি অত্যন্ত উৎসাহজনক ও সহনীয়। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে এটি বহাল আছে কিনা এ বিষয়ে উল্লেখ নেই।এতে করে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। তাই প্রস্তাবিত বাজেটেও এটি আগের মত বহাল রাখার দাবি জানাচ্ছি।

বিটিএমএ সভাপতি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে করযোগ্য পণ্য নামে টেক্সটাইল মেশিনারিজ, যন্ত্রাংশ, কিছু কাঁচামাল ও উপকরণের উপর ৫ শতাংশ অ্যাডভ্যান্স ট্র্যাক্স (এটি) কর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এরিমধ্যে এই ট্যাক্স কর্তনের প্রস্তাবে বিভিন্ন মিল আমদানিকৃত কাঁচামাল, উপকরণ, যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ শুল্কায়ন জটিলতার কারণে বন্ধ পড়ে আছে।এতে মিলগুলোর উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তাই প্রস্তাবিত বাজেটে ৫ শতাংশ এটি কর কর্তনের প্রস্তাব প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।