২৪ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নির্বাচন বিমুখতা জাতির জন্য অশনিসংকেত : মাহবুব তালুকদার

নির্বাচন বিমুখতা জাতির জন্য অশনিসংকেত : মাহবুব তালুকদার

অনলাইন রিপোর্টার ॥ ‘কর্তৃত্ববাদী শাসনের অনিশ্চিত গন্তব্যে বাংলাদেশ বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মাহবুব তালুকদার। এই অবস্থা কখনো কাম্য হতে পারে না। নির্বাচনবিমুখতা জাতিকে গভীর খাদের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। একটি গণতান্ত্রিক দেশ ও জাতির জন্য নির্বাচনবিমুখতা অশনিসংকেত।’

পঞ্চম উপজেলা পরিষদ সংক্রান্ত অভিমত ব্যক্ত করতে গিয়ে আজ বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের নিজ কার্যালয়ে লিখিত বক্তব্যে মাহবুব তালুকদার এসব কথা বলেন।

মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সবচেয়ে আশঙ্কার দিক হচ্ছে ভোটারদের নির্বাচনবিমুখতা। যথোপযুক্ত নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে অবশ্যই সমুন্নত রাখতে হবে। আমি আগেও বলেছি আমরা গণতন্ত্রের শোকযাত্রায় শামিল হতে চাই না।’

এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন প্রসঙ্গে মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘বিরোধীদলগুলো অংশগ্রহণ না করায় এবারের পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ছিল একতরফা। একতরফা নির্বাচন গণতন্ত্রের জন্য শুভ নয়। গণতন্ত্রের অর্থ হচ্ছে ক্ষেত্রবিশেষে সংখ্যাগরিষ্ঠের অভিমত এবং তা বহুত্ববাদের ভেতর থেকে উৎসারিত হতে হয়। একতরফা নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠের কোনো অভিব্যক্তি প্রতিফলিত হয় না বলে এর কোনো ঔজ্জ্বল্য থাকে না। নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণের ক্ষেত্র তৈরিতে উপযুক্ত পরিবেশ অপরিহার্য। কিন্তু আমরা ক্রমাগত একতরফা নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হচ্ছি, যা গণতন্ত্রের জন্য অনভিপ্রেত।’

নির্বাচন কমিশনার আরো বলেন, ‘এসব (উপজেলা) নির্বাচন কতটা অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে, সে বিষয়ে জাতীয় নির্বাচন সম্পর্কে আমি পূর্বে যা বলেছিলাম, এখনো তাই বলব, আপনারা নিজেদের বিবেককে জিজ্ঞাসা করলে এর উত্তর পেয়ে যাবেন। প্রতিটি বিবেকবান মানুষের কাছে এই প্রশ্নের উত্তর রয়েছে।’

মাহবুব তালুকদার বলেন, উপজেলা নির্বাচন সাংসদদের আওতামুক্ত না হলে তা কখনো অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তাদের উপদেষ্টার ভূমিকা উপজেলা পরিষদের কৌলিন্য বিনষ্ট করেছে। অনেক সাংসদ কেন আচরণবিধি লঙ্ঘন করে পছন্দের প্রার্থীকে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে বসাতে চান, কখনো বা নিজদলের মনোনীত প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নেন, এ প্রশ্নের সমাধান না পেলে উপজেলা নির্বাচন তাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাবের কবলে পড়বে বলেও মনে করেন তিনি।

ইসি মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘কোনো কোনো সংসদ সদস্য আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বা সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে চিঠি পাঠিয়ে তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করতে হয়েছে। কারো আজ্ঞাবহ হয়ে দায়িত্বপালন করলে এবং উপজেলা পরিষদের গণতান্ত্রিক বৈশিষ্ট্য বিসর্জিত হলে উপজেলা পরিষদ জন-আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হবে।’

মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘সংবিধানে স্থানীয় শাসন শিরোনামে একটি সম্পূর্ণ পৃথক অনুচ্ছেদের ৫৯ (১) ধারায় বলা হয়েছে, ‘আইন অনুযায়ী নির্বাচিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত প্রতিষ্ঠানসমূহের ওপর প্রজাতন্ত্রের প্রত্যেক প্রশাসনিক একাংশের স্থানীয় শাসনের ভার প্রদান করতে হইবে।’ এতে প্রতীয়মান হয় স্থানীয় সরকারের প্রতিটি স্তরে নির্বাচিত চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও সদস্যবর্গ প্রশাসনিক ও অন্যবিধ দায়িত্ব পালন করবেন।

স্থানীয় সরকারে কোনো বহিরাগতের হস্তক্ষেপের অবকাশ নেই। অন্য কারো হস্তক্ষেপ হলে উপজেলা নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, স্বাভাবিক ও শুদ্ধ হবে না। এমতাবস্থায় স্থানীয় নির্বাচন বা উপজেলা নির্বাচন সংবিধানসম্মতভাবে হয়েছে কি না, এ প্রশ্ন থেকে যায়।’

পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোট হয় ১০ মার্চ। এরপর দ্বিতীয় ধাপের ভোট ১৮ মার্চ, তৃতীয় ধাপের ২৪ মার্চ এবং চতুর্থ ধাপের ভোটগ্রহণ হয় ৩১ মার্চ। গতকাল ১৮ জুন পঞ্চম ধাপের ভোটের মধ্য দিয়ে শেষ হলো পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ।

নির্বাচিত সংবাদ