২২ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আমদানিতে অগ্রিম কর প্রত্যাহারের দাবি পোল্ট্রি ব্যবসায়ীদের

আমদানিতে অগ্রিম কর প্রত্যাহারের দাবি পোল্ট্রি ব্যবসায়ীদের

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ বিগত বছরের মতো এবারও আশা ভঙ্গ হয়েছে পোল্ট্রি খামারি ও উদ্যোক্তাদের। পোল্ট্রি ফিডের অত্যাবশ্যকীয় কাঁচামাল ‘ভূট্টা’ আমদানিতে অগ্রিম আয়কর এবং ‘সয়াবিন অয়েল কেক’ এর উপর থেকে রেগুলেটরি শুল্ক প্রত্যাহার না হওয়ায় এবং সব ধরনের পণ্য আমদানিতে নতুনভাবে আগাম কর (এ.টি) আরোপ হওয়ায় চরম হতাশা এখন পোল্ট্রি শিল্পে। ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ফিআব) এবং ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (বিএবি) যৌথভাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলনে তারা হতাশা ব্যক্ত করেছেন ও পোল্ট্রি ফিডের অত্যাবশ্যকীয় কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম কর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।

ফিআব সভাপতি এহতেশাম বি. শাহজাহান বলেন, সয়াবিন অয়েল কেক এর উপর আরোপিত ৫% রেগুলেটরি ডিউটি; কটন সীড ও পাম নাটসের উপর থেকে ৫% সিডি ও ৫% এটিভি; এবং ভূট্টার ওপর থেকে ৫% এআইটি প্রত্যাহারই ছিল এবারের অন্যতম দাবি। আশা করা হয়েছিল এ দাবি পূরণ হলে পোল্ট্রি ফিড এবং সেই সাথে ডিম ও ব্রয়লার মুরগির উৎপাদন খরচ কিছুটা কমবে।

তিনি বলেন, সয়াবিন অয়েল কেক আমদানিতে আরডি এবং ভূট্টা আমদানিতে এআইটি বহাল রাখা হয়েছে; পাম নাটস বা কারনেল এবং কটন সীডের ওপর থেকে কাস্টমস শুল্ক তুলে নিয়ে নতুন করে ৫% হারে রেগুলেটরি ডিউটি আরোপ করা হয়েছে।

এহতেশাম বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ফিডের উপকরণ হিসেবে যে তিনটি উপকরণে কর ও শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। ১. অ্যামোনিয়া বাইন্ডার, ২. লিভার প্রটেকটর, রেনাল প্রটেকটর, রেসপিরেটরি প্রটেকটর, এবং ৩. ভ্যাকসিন স্ট্যাবিলাইজার (থিওসাফফেট) সেগুলোর সাথে ফিড ইন্ডাষ্ট্রি’র কোন সম্পর্ক নেই। ফলে কার্যত তেমন কোন সুফল আসবে না। তবে বিদ্যমান সুবিধাদি বহাল রাখা এবং রাইস ব্রান এর রপ্তানী শুল্ক বৃদ্ধির প্রস্তাবে সন্তোষ প্রকাশ করেন ফিআব সাধারণ সম্পাদক মো. আহসানুজ্জামান।

একই সাথে ডি-অয়েলড রাইস ব্রান (ডিওআরবি) এর উপরও সমহারে শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব করেন তিনি। তাঁর মতে যেহেতু এ দু’টি উপকরণ মূলত একই পণ্য তাই শুল্ক সমান না হলে এক পণ্যের নামে অন্য পণ্য রপ্তানী করে মুনাফা লুটার চেষ্টা করবে সুযোগ সন্ধানীরা। তবে সবকিছু ছাড়িয়ে সরকারের নতুন একটি সিদ্ধান্ত মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন আহসানুজ্জামান। এ সিদ্ধান্ত মতে সব ধরনের পণ্য আমদানিতে এখন থেকে ৫ শতাংশ হারে আগাম কর (এ.টি) প্রদান করতে হবে।

ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএবি) সভাপতি রকিবুর রহমান টুটুল বলেন, অর্থ বিল ২০১৯ এর ৭১ নম্বর অনুচ্ছেদে ২০১২ সনের ৪৭ নং আইনের ধারা ৩১ এর সংশোধন করে সকল আমদানিকৃত পণ্য সরবরাহের উপর ৫% হারে আগাম কর ধার্য করা হয়েছে। এসআরও নং ১৭২-আইন/২০১৯/২৯-মূসক তারিখ ১৩ জুন ২০১৯ মূলে এই আগাম কর (অঞ) ধার্য্য করা হয়েছে যা পোল্ট্রি খাতের উপর প্রযোজ্য হওয়া উচিত নয়। তিনি বলেন, পোল্ট্রিখাত মূল্য সংযোজন কর (মূসক) থেকে অব্যহতি পাওয়ার কারণে হ্রাসকৃত অর্থ সমন্বয়েরও কোন সুযোগ নেই। তাই এ বিধান প্রযোজ্য হলে একদিন বয়সী জিপি/পিএস বাচ্চা, যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব পড়বে।

বিপুল পরিমাণ অর্থ অগ্রিম কর হিসেবে কর্তন করা হবে। ফলশ্রুতিতে বাচ্চার উৎপাদন কার্যক্রমে চলতি মূলধনের সংকট সৃষ্টি হবে। সর্বোপরি পোল্ট্রির ডিম ও মাংস উৎপাদন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই সার্বিকভাবে পোল্ট্রি খাতের জন্য এ বিধান রহিত করার অনুরোধ জানান তিনি। বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাষ্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিলের (বিপিআইসিসি) সভাপতি মসিউর রহমান বলেন, জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনের পর থেকেই ‘পোল্ট্রি ফিডের দাম কমবে’বলে গণমাধ্যমে খবর প্রচারিত হচ্ছে এতে সাধারণ খামারিরা বিভ্রান্ত হচ্ছেন। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেকের বৈঠকে ‘পোল্ট্রি গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদারকরণ প্রকল্পে’ অর্থ বরাদ্দ দেয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ তিনি।

নির্বাচিত সংবাদ