১৯ জুন ২০১৯

প্লাস্টিকের তৈজসপত্রের ওপর থেকে ভ্যাট প্রত্যাহার বিপিজিএমইএ

প্লাস্টিকের তৈজসপত্রের ওপর থেকে ভ্যাট প্রত্যাহার বিপিজিএমইএ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ প্লাস্টিকের তৈজসপত্রের ওপর থেকে ভ্যাট প্রত্যাহার করায় গরিব মানুষের কষ্ট বাড়বে। সাধারণ ও অতি দরিদ্র্য মানুষের কথা বিবেচনা করে এ খাতের ভ্যাট প্রত্যাহার দাবি করেছে বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক এ্যাসোসিয়েশন (বিপিজিএমইএ)। তবে জাতীয় স্বার্থে বাজেটে জাতীয় প্রবৃদ্ধি ৮.২ শতাংশ নির্ধারণ, মূল্যস্ফীতি ৫.৫ ভাগ, ব্যাপক সামাজিক উন্নয়ন, শিক্ষার সম্প্রসারণ, শিল্প, ব্যবসা, বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বান্ধব পদক্ষেপ গ্রহন করায় আগামীদিনে দেশের অর্থনীতির চাকা গতিশীল হবে বলে মনে করেন সংগঠনটির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়ন হলে সহজেই মধ্যম আয়ের দেশে প্রবেশ করা যাবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে উন্নতমানের খেলনা আইটেম তৈরি হচ্ছে। যেগুলোর ব্যাপক রফতানি সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু প্লাস্টিকের এই সাব-সেক্টরের উপর ভ্যাট আরোপ থাকায় মূল্য প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। কেননা দেশীয় খেলনা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান সমুহ ক্ষুদ্র। এদের ভ্যাট দেওয়ার ক্ষমতা নেই। অন্যদিকে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ থাকার কারনে পণ্যের মুল্য বৃদ্ধি হওয়ায় বিদেশী পণ্য বাজারে আসছে। এতে দেশীয় শিল্প বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই ক্ষুদ্র শিল্প কে টিকিয়ে রাখতে হলে উক্ত খাতে ভ্যাট প্রত্যাহার আবশ্যকীয়। অন্যদিকে নি¤œমানের সস্তা খেলনা আমদানীকে নিরুৎসাহিত করতে হবে।

এদিকে, প্রস্তাবিত বাজেটে প্লাস্টিকের তৈরি টিফিন বক্স ও পানির বোতল ছাড়া অন্য প্রডাক্টের ওপর থেকে ভ্যাট সুবিধা প্রত্যাহার করায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, প্লাস্টিকের থালা, বাসন, পেয়ালা, বাটি, মগ, জগ, গ্লাস, সব্জি ধোয়ার জন্য ব্যবহার্য জালি, গামলা, বালতি, খাবার ঢাকার ঢাকনি, স্কুলে ব্যবহার্য পানির বোতল, ঝুড়ি ও টিফিন ক্যারিয়ার, বদনা, সাবানদানি, বেবী পটি, বেড প্যান, বেবী বাথটাব, মশলার ট্রে, চায়ের ট্রে, সালাদ কাটিং বোর্ড, পিঁড়ি বা টুল, ডিস র্যাক, ময়লার ঝুড়ি, প্যাডেল বিন, ডাস্ট প্যান, গ্লাস স্ট্যান্ড, হাতপাখা (প্লাস্টিকের তৈরি আসবাবপত্র ব্যতীত) ইত্যাদি জাতীয় নিত্যব্যবহার্য্য আইটেম এসএমই খাতের আওতাভুক্ত।

প্লাস্টিকের এই সেক্টরে প্রায় ২০০ টি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানে প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক লোক যুক্ত রয়েছে। বর্তমানে প্লাস্টিকের তৈজসপত্র ফেরিওয়ালারা পুরাতন জিনিসের বিনিময়ে দেশের প্রত্যন্ত গ্রামে গঞ্জে বিক্রি করে। এটি লাখ লাখ ফেরিওয়ালার একমাত্র আয়ের উৎস। এ সমস্ত ফেরিওয়ালাদের ভ্যাট আইনের আওতায় আনা সম্ভব নয়। অতএব এসমস্ত ক্ষেত্রে ভ্যাট এর কনসেপ্ট কার্যকর নয়।

এছাড়া বাজেট প্রতিক্রিয়ায়, রফতানীমুখী প্লাস্টিক শিল্প খাতে কর্পোরেট ট্যাক্স ১২ শতাংশ নির্ধারণ এবং গ্রীন ইন্ডাষ্ট্রির জন্য ১০ শতাংশ নির্ধারণ করার প্রস্তাব করা হয়। এছাড়া উৎসে আয়কর কর্তন প্লাস্টিক সেক্টরের জন্য ০.২৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়। প্লাস্টিক সেক্টরের জন্য আগামী ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের বাজেটে রফতানি মূল্যের উপর উৎসে আয়কর কর্তন ০.২৫ শতাংশ ধার্য্য করা হলে এই সেক্টর থেকে রফতানি বৃদ্ধি পাবে। ক্ষুদ্র মাঝারি ও নতুন উদ্যোক্তাদের উপর বর্ধিত কর আরোপ করা সমীচিন হবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।