১৯ জুন ২০১৯

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য নিউক্লিয়ার ফুয়েল আমদানি করা হবে

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য নিউক্লিয়ার ফুয়েল আমদানি করা হবে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য নিউক্লিয়ার ফুয়েল বা ইউরেনিয়াম আমদানি করা হবে। রাশিয়ার সঙ্গে ক্রয় চুক্তির মাধ্যমে ইউরেনিয়াম আসবে দেশে। এতে প্রাথমিক চুক্তি ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫২৪ কোটি টাকা। এককভাবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এই বিদ্যুৎ প্রকল্পে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। আগামী ২০২২ সাল থেকে রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বুধবার সরকারী ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত দুটি ক্রয় প্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। কমিটির আহ্বায়াক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল অসুস্থ্য থাকায় কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক এর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। ওই বৈঠকে কমিটির সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ ও রাশান ফেডারেশনের মধ্যে স্বাক্ষরিত আন্তঃরাষ্ট্রীয় সহযোগিত চুক্তির আওতায় নিউক্লিয়ার ফুয়েল সরবরাহ করবে রাশান ফেডারেশনের নির্ধারিত ঠিকাদার কোম্পানি টিভিইএল। সরাসরি ক্রয় চুক্তির মাধ্যমে ইউরেনিয়াম কেনা হবে। এলক্ষ্যে টিভিইএল শীঘ্রই বাংলাদেশ জয়েন্ট স্টক কোম্পানির সাথে একটি চুক্তি করবে। এতে প্রাথমিকভাবে চুক্তি ব্যয় ধরা হয়েছে আনুমানিক ৫২৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা। কমিটির বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোসাম্মৎ নাসিমা বেগম বলেন, আগামী ২০২৭ সাল থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিউক্লিয়ার ফুয়েল রিলোড করা হবে। সে সময় এসব ইউরেনিয়াম প্রয়োজন হবে। এ জন্য এখনই চুক্তি করা প্রয়োজন হয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, চুক্তিতে আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৫২৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

তবে, ২০২৭ সালে ইউরেনিয়ামের বাজার দর অনুযায়ী দাম কম কিংবা বেশি হতে পারে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রতি ১৮ মাস পর পর নিউক্লিয়ার ফুয়েল রিলোড করা হবে। এক্ষেত্রে নির্ধারিত ঠিকাদার টিভিইএল থেকে ইউরিনিয়াম ক্রয় করবে সরকার।

প্রসঙ্গত, গত বছর ৩০ নবেম্বর মাসে পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূল নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটটির বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হবে আগামী ২০২২ সালে। ২০১৩ সালে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের দুটি ইউনিট থেকে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। আওয়ামীলীগ সরকারের দশ মেগা প্রকল্পের অন্যতম প্রকল্প হচ্ছে রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন শুরু হলে দেশের বিদ্যুৎখাতে অভূতপর্ব উন্নয়ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশে এ ধরনের বিদ্যুৎকেন্দ্র এটিই প্রথম। এককভাবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এ প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি টাকা। এর মধ্যে ঋণ হিসেবে রাশিয়া দিচ্ছে ৯১ হাজার ৪০ কোটি টাকা। বাকি টাকা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যোগান দেয়া হবে।

ছয় মাসে ৭ হাজার ১৪৭ কোটি ৯৭ লাখ টাকার জ্বালনি তেল আমাদানি ॥ আগামী জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে ৭ হাজার ১৪৭ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩ লাখ ৪৫ হাজার মেট্টিক টন বিভিন্ন ধরনের জ্বালনি তেল আমাদনি করবে সরকার। সিঙ্গাপুর ভিক্তিক প্রতিষ্ঠান ইউনিভ্যাক এনার্জি লিমিটেড এবং বিট এশিয়া এসব জ্বালানি সরবরাহ করবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোসাম্মৎ নাসিমা বেগম বলেন, আগামী জুলাই থেকে ডিসেম্বর সময়ে ১১ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন গ্যাস ওয়েল, ১ লাখ মেট্টিক টন ফার্নেস ওয়েল এবং ১৫ হাজার মেট্টিক টন মোগ্যাস আমদানির একটি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। ৭ হাজার ১৪৭ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যয়ে এসব জ্বালনি সরবরাহ করবে সিঙ্গাপুর ভিক্তিক প্রতিষ্ঠান ইউনিভ্যাক এনার্জি লিমিটেড এবং বিট এশিয়া এসব জ্বালানি সরবরাহ করবে। নাসিমা বেগম বলেন, বৈঠকে ২৯ হাজার ৯৯০ কিলোমিটার কনডাকটর ক্রয়ের একটি প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। এতে খরচ ধরা হয়েছে ১৩১ কোটি ৪২ লাখ টাকা। অপর আরও একটি ক্রয় প্রস্তাবের মাধ্যমে আরও ২০ হাজার ২২০ কিলোমিটার কনডাকটর ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। এক্ষেত্রে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।

ধামরাইয়ে হচ্ছে ৫০ মেগাওয়াট সোলার বিদ্যুৎ কেন্দ্র ॥ ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলাধীন বরাকৈর মৌজায় স্থাপন করা হচ্ছে ৫০ মেগাওয়াটের একটি সোলার বিদ্যুৎ কেন্দ্র। যৌথভাবে এটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশের এসএস এগ্রো কমপ্লেক্স লিমিটেড ও জার্মানির দুটি প্রতিষ্ঠান। এতে ব্যায় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৩৯৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা। আগামী ২০ বছর মেয়াদে এ কেন্দ্র থেকে প্রতি কিলোওয়াট ৮ দশমিক ৬০ টাকা দরে বিদ্যুৎ কিনবে সরকার।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা পাচ্ছেন ৯০ লাখ টাকার গাড়ি ॥ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) ব্যবহারের জন্য ৬৬টি মিতসুবিশি পাজেরো স্পোর্টস কিউএক্স জিপ ক্রয় করছে সরকার। এসব গাড়ি কিনতে সরকারের ব্যয় হবে ৫৯ কোটি ৬০ লাখ ৮৫ হাজার কোটি টাকা। সে হিসেবে প্রতিটি গাড়ির দাম পড়বে ৯০ লাখ ৩১ হাজার টাকা। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি এসব গাড়ি সরবরাহ করবে সরকারি প্রতিষ্ঠান ইন্ডাস্ট্রিজ। এ সংক্রান্ত দুটি ক্রয় প্রস্তাবের অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোসাম্মৎ নাসিমা বেগম সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাজেট বরাদ্দ হতে এসব গাড়ি ক্রয় করা হবে।