২৪ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ফেসবুকে ভুয়া খবর

ভুয়া তথা মিথ্যা খবরের আধিক্য, বিশেষ করে ফেসবুকে ক্রমশই বাড়ছে বিশ্বব্যাপী। এর পাশাপাশি ইউটিউব, টুইটার, ব্লগ ও অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমও কম যায় না কোন অংশে। একটি মার্কিন থিঙ্ক ট্যাঙ্কের জরিপ অনুযায়ী সারা বিশ্বে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর মধ্যে ৮৬ শতাংশই ভুয়া খবরের শিকার হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক বা টুইটার ব্যবহার করে প্রায়ই এমন সব ভুয়া খবর ও ছবি ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে মুহূর্তের মধ্যে, যা বিশ্বাস করে মানুষ প্রতারিত হয়। অনেক ক্ষেত্রে শিকার হতে হয় ব্ল্যাকমেইলের। এমনকি জনপদে দাঙ্গা-হাঙ্গামা-ফ্যাসাদও ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশেও এর নজির পাওয়া গেছে কক্সবাজার-রামু ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর, হলি আর্টিজানে জঙ্গী হামলাসহ নানা ঘটনায়। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, পুরনো ঘটনার ছবি অথবা ভুয়া বানানো ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয় নতুন কোন ঘটনার কথা, যা সর্বৈব মিথ্যা, অগ্রহণযোগ্য, এমনকি সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য সমূহ ক্ষতিকর। মার্কিন গবেষণা সংস্থাটি বলছে, অধিকাংশ ভুয়া খবর ও ছবি ছড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এরপরই রাশিয়া ও চীনের অবস্থান। ভুয়া খবর ও ছবিসহ ফেসবুক, ইউটিউব দীর্ঘদিন থেকে মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ আর্থিক ক্ষেত্রেও উকি-ঝুঁকি দিচ্ছে। ফলে ফেসবুক ও ইন্টারনেটের ওপর আস্থা হারাচ্ছে অধিকাংশ মানুষ। প্রবল অস্বস্তি ও অশান্তির কথা তো বলাইবাহুল্য। ফেসবুক কর্তৃপক্ষও অনেকাংশে এর দায়-দায়িত্ব স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ কোন কোন দেশে এর জন্য জবাবদিহির মুখোমুখি পর্যন্ত হতে হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। এহেন অবস্থায় এর নিয়ন্ত্রণ ও সংযত আচরণ এখন সময়ের দাবি।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে ফেসবুক বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগের অন্যতম একটি মাধ্যম হিসেবে। এক পরিসংখ্যানে জানা যায়, বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫৬ লাখের বেশি। অবশ্য ভুয়া এ্যাকান্টও আছে কয়েক লাখ। ফেসবুকের ভাল-মন্দ উভয়ই আছে। প্রযুক্তির সুফলই বেশি কুফলের তুলনায় এ কথা অকপটে স্বীকার করতে হবে। তবে কিছু অপব্যবহারকারী ও অপরাধীর কারণে প্রযুক্তির কুফল তথা নেতিবাচক প্রচার-প্রচারণাই বেশি স্থান পেয়ে থাকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে। কয়েক লাখ ভুয়া ফেসবুক এ্যাকাউন্টের মধ্যে অধিকাংশই জড়িত প্রধানত ব্যক্তির কুৎসা রটনা ও চরিত্র হননে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নামে একটি গ্রুপ ও ৩৬টি ভুয়া আইডি শনাক্ত করতে সক্ষম হয় র‌্যাব। এতে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি তাঁর কন্যা, স্পীকারসহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রীর নামেও ভুয়া আইডি খোলা হয়েছে। এসব আইডিতে প্রধানত সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কথা বলা হয়। ফলে অনেকেই যোগাযোগের চেষ্টা করেন প্রলুব্ধ হয়ে। অতঃপর কাজ পাইয়ে দেয়া অথবা তদ্বিরের কথা বলে হাতিয়ে নেয়া হয় টাকা। এর পাশাপাশি ভুয়া খবর, ছবি ও অপপ্রচার তো আছেই। এরকম কয়েকজনকে গ্রেফতারের পর রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। তবে অপ্রিয় হলেও সত্য যে, সব ক্ষেত্রে থানা-পুলিশের সক্রিয় ত্বরিত তৎপরতা দেখা যায় না। বরং অভিযোগ করায় অনেকে হয়রানির শিকার হয়েছেন বলেও খবর আছে।

সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভুয়া আইডির ব্যাপারে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের নিকট রিপোর্ট করার সুযোগ রয়েছে। প্রযুক্তিকে প্রযুক্তি দিয়েই মোকাবেলা করা বাঞ্ছনীয়। তদুপরি দেশে বর্তমানে আইসিটি আইনের পর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন রয়েছে। প্রয়োজনে তা প্রয়োগ করতে হবে। তবে দেশে সাইবার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলো আন্তর্জাতিক ৭৪টি গেটওয়ে বাদ দিয়ে বাইরের গেটওয়ে সলিউশন ব্যবহার করে থাকে। এতে অনেক ফাঁক থাকে। এছাড়া আইটি ও ডিভাইসগুলো নিবন্ধিত নয়। দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবলেরও অভাব আছে। আদালতে প্রযুক্তিগত প্রমাণের অভাবে অজামিনযোগ্য অপরাধীরাও জামিন পেয়ে যায়। এসব সমস্যার সমাধানসহ ফেসবুকের কুফল ও অপব্যবহার সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করে তুলতে হবে ব্যাপকভাবে। সাবধান ও সতর্ক থাকতে হবে ভুয়া খবর এবং ছবি সম্পর্কে, যাতে সমাজ এবং রাষ্ট্রে কোন অস্থিরতা সৃষ্টি না হতে পারে।

নির্বাচিত সংবাদ