২০ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ব্যয় মেটাতে অগ্রিম কর ফেরত চেয়েছে ন্যাশনাল টিউব

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের কোম্পানি ন্যাশনাল টিউবস লিমিটেড ২০০৫-০৬ থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবছর পর্যন্ত আয়কর বাবদ ২০ কোটি ৯৬ হাজার ৮৬৭ টাকা অগ্রিম পরিশোধ করেছে। বর্তমানে কোম্পানিটি চরম অর্থ সঙ্কটে থাকায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এ টাকা ফেরত পেতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) আবেদন করা হয়েছে। সূত্র জানায়, ন্যাশনাল টিউবসকে অগ্রিম আয়করের টাকা ফেরত দিতে সম্প্রতি শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে এনবিআরকে চিঠি দেয়া হয়েছে।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, ন্যাশনাল টিউবস উৎপাদিত পাইপের ৯০ শতাংশ এপিআই পাইপ। যার ক্রেতা পেট্রোবাংলার অধীন গ্যাস কোম্পানিগুলো। কিন্তু সরকারী সিদ্ধান্তের কারণে আবাসিক গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকায় গ্যাস কোম্পানিগুলো পাইপ কেনা বন্ধ করে দেয়। এতে ন্যাশনাল টিউবস বর্তমানে প্রকট আর্থিক সঙ্কটে পড়েছে। ফলে কাঁচামাল আমদানিসহ প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য ব্যয় নির্বাহ করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই বর্তমান আর্থিক সঙ্কট থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য অগ্রিম আয়করের টাকা ২০ কোটি টাকা ফেরত পাওয়া অত্যন্ত জরুরী।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ন্যাশনাল টিউবসের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল কর্পোরেশন (বিএসইসি) অগ্রিম করের টাকা ফেরত চেয়ে কয়েকবার আবেদন করেছিল। কিন্তু এনবিআর থেকে এ বিষয়ে কোন সুরাহা হয়নি। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি শিল্প সচিব ন্যাশনাল টিউবসের কারখানা পরিদর্শন করেন। এ সময় অগ্রিম পরিশোধিত আয়করের সঙ্গে প্রকৃত আয়কর সমন্বয় করে ফেরতযোগ্য আয়কর ফেরত নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে তা জরুরী ভিত্তিতে বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়েছেন।

২০ কোটি টাকা অগ্রিম আয়করের হিসেবে বলা হয়েছে, ২০০৫-১৩ অর্থবছর পর্যন্ত আট বছরে ফেরতযোগ্য অগ্রিম আয়কর দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটি ৯৫ লাখ ৪১ হাজার ৭২২ টাকা। এছাড়া ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ২ কোটি ৯ লাখ ১৪ হাজার ৮৬৬, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৯৩ লাখ ৩৩ হাজার ২১৭, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২ কোটি ৩৬ লাখ ৬৩ হাজার ৩৫২, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১ কোটি ২৮ লাখ ১০ হাজার ৮২৭ ও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৫৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯১৮ টাকাসহ মোট ২০ কোটি ৯৬ হাজার ৮৬৭ টাকা ফেরত চেয়েছে ন্যাশনাল টিউবস। এদিকে এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, ন্যাশনাল টিউবসের ফেরতযোগ্য অগ্রিম আয়করের টাকা ফেরতের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চল-১০-কে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

চলতি হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) ন্যাশনাল টিউবের শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ৯৬ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ২ টাকা ২৪ পয়সা। তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ৫ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৭৯ পয়সা। ৩১ মার্চ কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৭৫ টাকা ৭ পয়সা। ৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৮ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে ন্যাশনাল টিউবস। সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানির শেয়ার প্রতি লোকসান হয় ২ টাকা ৫ পয়সা। ২০১৭ হিসাব বছরেও ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দেয় কোম্পানিটি। সে বছর শেয়ার প্রতি লোকসান ছিল ২ টাকা ৮৬ পয়সা।

নির্বাচিত সংবাদ