১৯ জুন ২০১৯

জলবায়ু পরিবর্তনে জিডিপির এক শতাংশ বরাদ্দ চায় ক্লাইমেট এ্যাকশন ফোরাম

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ জলবায়ু বাজেটে স্বচ্ছতা ও সুশাসন বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছে ৪২টি এনজিও, নাগরিক সমাজ ও সাংবাদিক ফোরামের জোট বাংলাদেশ ক্লাইমেট এ্যাকশন ফোরাম। সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে ৫ দফা সুপারিশ তুলে ধরেন নেটওয়ার্ক অন ক্লাইমেট চেঞ্জ ইন বাংলাদেশ (এনসিসি’বি) -এর নির্বাহী পরিচালক মিজানুর রহমান বিজয়। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম চৌধুরি, উন্নয়ন ধারা ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক অমিনুর রসুল এবং এ্যাকশনএইড বাংলাদেশের তানজীর হোসেইন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়,‘ এবারের জলবায়ু বাজেটে ২৫টি মন্ত্রণালয়ের জলবায়ু সম্পৃক্ত বাজেট বরাদ্দ ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ০.১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু তা নাগরিক সমাজের প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম। গত এক দশকে প্রাকৃতিক দুর্যোগে অবকাঠামো, জীবিকা ও ফসলের ক্ষতির হিসেব ধরে জাতীয় অর্থনীতির ক্ষতির পরিমাণ জিডিপির ০.৫ শতাংশ থেকে এক শতাংশের মতো। অথচ ক্ষতির তুলনায় সরকারী অর্থায়ন যথেষ্ট নয়। এই বাজেট বরাদ্দের উল্লেখযোগ্য অংশ আবার অব্যয়িত থেকে যাচ্ছে। আবার বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক বৈষম্য রয়েছে, রয়েছে স্বচ্ছতা, সুশাসনের অভাব। কিছু কিছু মন্ত্রণালয়ের পরিচালন ব্যয় অস্বভাবিক হারে দেখানো হয়েছে এবং ‘দ্বৈত গণনা’র অভিযোগ রয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ক্লাইমেট এ্যাকশন ফোরাম জলবায়ু বাজেট নিয়ে ৫টি সুপারিশ পেশ করেছে। এগুলো হলো- প্রতিবছর জিডিপির কমপক্ষে এক শতাংশ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বরাদ্দ করতে হবে এবং জলবায়ু বাজেটের পরিচালন ব্যয় কমিয়ে উন্নয়ন খাতে প্রতিবছর কমপক্ষে ১০ শতাংশ ব্যয় বৃদ্ধি করতে হবে;

জলবায়ু অর্থায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে অবিলম্বে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট আইন, ২০১০ পরিবর্তন করে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি জলবায়ু কমিশন গঠনে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে; জলবায়ু অর্থায়নে অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহে প্রয়োজনে ‘গ্রীন ট্যাক্স’ বা ‘কার্বন ট্যাক্স’ ধার্য করে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় ব্যয় করতে হবে; প্রতিটি জেলার জন্যে পৃথক পৃথক ‘স্থানীয় ক্লাইমেট ফিসক্যাল ফ্রেমওয়াক’ তৈরি করতে হবে এবং জাতীয় জলবায়ু কমিশনের আওতায় জলবায়ু অর্থায়নকে বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সমন্বিত করা যেতে পারে; সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য বিশেষ কর্মসূচী অবিলম্বে চালু করতে হবে।