২৩ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কিশোরগঞ্জ ও ফরিদপুরে তিন আসামির মৃত্যুদন্ড, যাবজ্জীবন ২০

  • চাঞ্চল্যকর দুই মামলার রায়

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ দুটি হত্যা মামলার পৃথক রায়ে বুধবার কিশোরগঞ্জ ও ফরিদপুরে তিন জনের মৃত্যুদন্ড এবং ২০ আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। আলোচিত মামলা দুটি হলো কিশোরগঞ্জে চাঞ্চল্যকর চয়ন হত্যা মামলা এবং ফরিদপুরে জোড়া খুনের মামলা। বুধবার দুপুরে রায় ঘোষণার পর ফরিদপুরের আদালত চত্বর থেকে আফসার ফকির নামে এক আসামি পালিয়ে যায়। খবর নিজস্ব সংবাদদাতার।

জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুরে চাঞ্চল্যকর এরশাদুল ইসলাম চয়ন হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদন্ড এবং সাতজনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। এছাড়া সাজাপ্রাপ্ত প্রত্যেক আসামিকে পাঁচ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। বুধবার সকালে কিশোরগঞ্জের ১ম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আব্দুর রহিম উপরোক্ত রায় দেন। মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামিরা হলো-আব্দুল আউয়াল, আল আমিন ও আব্দুল করিম। যাবজ্জীবন কারাদন্ডপ্রাপ্তরা হলো-সাফিয়া খাতুন, আব্দুল কাদির ফকির, সুফল, সোহেল, রিপা আক্তার, মোছাঃ জহুরা খাতুন ওরফে অজুফা ও আব্দুর রউফ ফকির ওরফে রূপ মিয়া। তাদের মধ্যে আব্দুল করিম, আব্দুল কাদির ফকির ও আল আমিন কারাগারে থাকলেও সুফল, সোহেল ও আব্দুল আউয়াল পলাতক রয়েছে। বাকি চার আসামি জামিনে ছিল।

২০০৫ সালের ২ ডিসেম্বর পারিবারিক বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলার নিহত হন এরশাদুল ইসলাম চয়ন। তিনি হোসেনপুর উপজেলার টানসিদলা গ্রামের জহিরুল ইসলাম রতনের একমাত্র ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে ঘটনার দিন ৯ জনকে আসামি করে হোসেনপুর থানায় মামলা দায়ের করে। পুলিশ দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০০৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলা চলাকালে আমিনুল ইসলাম ওরফে হিরা নামে এক আসামি মারা যাওয়ায় তাকে অভিযোগ থেকে খালাস দেয়া হয়। এদিকে মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহতের মা মোমেনা খাতুন ও বাবা জহিরুল ইসলাম রতন।

ফরিদপুর ॥ জেলার সালথা উপজেলার নটখোলা গ্রামের গঞ্জর খাঁ ও মোসা মোল্লা নামে দুই ব্যক্তিকে খুনের ঘটনায় ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও অর্থদন্ড অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদ- প্রদান করেছে ফরিদপুরের বিশেষ জজ আদালত। বুধবার দুপুরে ফরিদপুরের বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মোঃ মতিয়ার রহমান এ আদেশ দেয়। রায় ঘোষণার সময় কারাদন্ডপ্রাপ্ত ১৩ জনের মধ্যে ১১ জন আসামি আদালতে হাজির ছিলেন। বাকি দুজন আসামি পলাতক রয়েছে। উপস্থিত ১১ জনের মধ্যে রায় ঘোষণার পরে আদালত চত্বর থেকে আফসার ফকির নামে এক আসামি পালিয়ে গেছে। তাকে ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

যাবজ্জীবন কারাদন্ডপ্রাপ্তরা হলো মান্নান খাঁ, সুরমান খাঁ, মাজেদ খাঁ, ওয়াজেদ খাঁ, রাশেদ খাঁ, সিদ্দিক ফকির, সোহরাব ফকির, আফসার ফকির, ফজলু ফকির, রহমান খাঁ, রেজাউল খাঁ, জিকির ওরফে জিগির খাঁ, ওসমান ফকির। আদালত তার রায়ে বলে, এদের সকলকে বাংলাদেশ দন্ডবিধির ১৮৬০-এর ৩০২/৩৪ ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাদের সকলকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদন্ড প্রদান করা হলো।

সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে জিকির ওরফে জিগির খাঁ এবং সোহরাব ফকির পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরওয়ানা ইস্যুর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তারা গ্রেফতার হওয়ার দিন থেকে দন্ডাদেশ কার্যকর হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

বিশেষ জজ আদালতের পিপি এ্যাড. গোলাম রব্বানী বাবু মৃধা জানান, ২০০৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৭টায় সালথা উপজেলার নটখোলা গ্রামে পেঁয়াজের দানা ওঠানোকে কেন্দ্র করে একটি সালিশ বৈঠক বসে। সে সময় কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে আসামি পক্ষ গঞ্জর খাঁ ও মোসা মোল্লাকে কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষরা।

পরে নিহতদের ভাই আলাল মিনা বাদী হয়ে মোট ২৫ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে সালথা থানায়। আসামিদের মধ্যে ১৩ জনের কারাদন্ড প্রদান করে আদালত। বাকি ১২ আসামিকে বেকসুর খালাস প্রদান করে। তিনি বলেন, রায়ে নিহতের পরিবার খুশি হয়েছে।

আড়াইহাজারে যুবকের যাবজ্জীবন ॥ স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ থেকে জানান, আড়াইহাজারে আনোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় শ্যামল মোল্লা (২৭) নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদ- এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ শাহ মোহাম্মদ জাকির হাসান আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত আসামি শ্যামল মোল্লা আড়াইহাজার উপজেলার বারোআনী মধ্যপাড়া এলাকার আব্দুর রউফ মিয়ার ছেলে। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক হাবিবুর রহমান।

রায়ের বিষয়ে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) আব্দুর রহিম জানান, এ মামলায় আদালত মামলার বাদী ও তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ ১৩ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এ রায় ঘোষণা করেন। মামলা দায়েরের দীর্ঘ ৮ বছর পর আদালত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।