১৬ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দৃকে শুরু ফিলিপ গাইনের আলোকচিত্র প্রদর্শনী

 দৃকে শুরু ফিলিপ গাইনের  আলোকচিত্র প্রদর্শনী
  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ গ্যালারিতে প্রবেশ করেই চোখে পড়বে শিশু কন্যাসহ এক গারো শ্রমিক নারীর ছবি। পাশেই রয়েছে চায়ের পাতা সংগ্রহ করে বাগান থেকে বের হচ্ছে এক পাহাড়ী প্রান্তিক শ্রেণীর বৃদ্ধা। অন্য পাশে রয়েছে ছনের ছাতা মাথায় কাজের অবসরে এক কিশোর। গ্যালারির অন্য প্রান্তে শোভা পাচ্ছে পাহাড়ী অঞ্চলের কলাগাছ ও বিক্রয়ের জন্য রাখা বহু কলার কাঁদি। রয়েছে আনারস গাছের ছবি। গাছ কেটে প্রকৃতি ধ্বংস করার দৃশ্য, পেঁপের চাষসহ বিভিন্ন কৃষি ও প্রাকৃতিক দৃশ্য। এছাড়া ক্ষুদ্র ও নৃ-গোষ্ঠীর শ্রমজীবী মানুষের ছবি রয়েছে গ্যালারির এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত। বাংলাদেশের প্রান্তিক, বিচ্ছিন্ন এবং সামাজিকভাবে অচ্ছুত এসব জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা, জীবিকা ও সংস্কৃতির ছবি নিয়ে রাজধানীর দৃক গ্যালারিতে শুরু হয়েছে ‘ব্রাত্যজন’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী। দীর্ঘদিন ধরে সমাজের এই শ্রেণীর জনগোষ্ঠীর ওপর গবেষণা করার লক্ষ্যে এসব দুর্লভ ছবি তুলেছেন আলোকচিত্রী ফিলিপ গাইন। সপ্তাহব্যাপী এ আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে যৌথভাবে সোসাইটি ফর এনভায়রনমেন্ট এ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট (শেড), পাওয়ার এ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি), খ্রিস্টিয়ান কমিশন ফর ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ (সিসিডিবি) ও গ্রাম বিকাশ কেন্দ্র (জিবিকে)। বুধবার বিকেলে ফিতা কেটে এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্র পরিচালক মসিহউদ্দিন শাকের, গ্রাম বিকাশ কেন্দ্রের চীফ এক্সিকিউটিভ মোয়াজ্জেম হোসাইন, গারো সম্প্রদায়ের সুলেখা মুরং, সাংবাদিক চিত্ত ঘোষ, আলোকচিত্রী ড. শহীদুল আলম, ড. হরিশঙ্কর জলদাশ, সৌদ খান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিপিআরসি’র নির্বাহী পরিচালক ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, আমি আলোকচিত্রের সঙ্গে সরাসরি জড়িত না হলেও ছবি দেখে কিছুটা হলেও অনুধাবন করতে পারি এতে কি মেসেজ দিচ্ছে। আলোকচিত্র অনেক শক্তিশালী মাধ্যম। আজ এ প্রদর্শনীতে এসে আমি নিজেও অনেক সমৃদ্ধ, যদিও আমি ফটোগ্রাফির লোক নই। এ প্রদর্শনী আলোকচিত্রী ফিলিপ গাইনের অনেক দিনের গবেষণার ফসল। এসব ছবি সংগ্রহে রাখা উচিত এ কারণে পরিবেশ রক্ষার সঙ্গে ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীর জীবনযাত্রা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সামাজিকভাবে তাদের এ দৈন্য জীবনযাত্রার পরিবর্তন না করতে পারলে দেশ সামনে এগুতে পারবে না।

সভাপতির বক্তব্যে হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ফিলিপ গাইন শুধুমাত্র একজন প্রতিভাবান আলোকচিত্রীই নন, একজন মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন মানুষ, যার প্রকাশ এই আলোকচিত্র প্রদর্শনী। সমাজে দৃশ্যমান নয় এমনই বোধসম্পন্ন জনগোষ্ঠীকে কিভাবে দৃশ্যমান করা যায় তারই ধারাবাহিকতায় তার এই প্রদর্শনী। এতে বঞ্চনা ও শোষিত দিকই মুখ্য নয়, এখানে আত্মশক্তিরও একটা দিক ফুটে উঠেছে। এখানে আমাদের দেশের প্রকৃতিকে খুব সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ছবি বা স্মৃতি কিন্তু সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার। দৃশ্যমান হওয়ার অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে স্মৃতিকে ধরে রাখা এবং সেটা যেন সবাই দেখতে পায়।

আলোকচিত্রে উঠে এসেছে ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, চা জনগোষ্ঠী, বেদে, যৌনকর্মী, কায়পুত্র, ঋষি, হরিজন, জলদাশ ও বিহারি জনগোষ্ঠী। বাংলাদেশের প্রান্তিক এবং সামাজিকভাবে বাদপড়া মানুষদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এসব জনগোষ্ঠী। এসব মানুষের অনেকেই অচ্ছুত হিসেবে বিবেচিত এবং এরা নানা সামাজিক প্রতিকূলতার সম্মুখীন। আলোকচিত্র প্রদর্শনীর মূল চরিত্রগুলোর মধ্যে আদিবাসী ও চা শ্রমিক অন্যতম। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন এ প্রদর্শনীর আলোকচিত্রী ফিলিপ গাইন। আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে ফিলিপ গাইনের ক্যামেরায় তোলা দেড় শ’ ছবি। প্রদর্শনী চলবে ২৫ জুন পর্যন্ত এবং প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে।

এই মাত্রা পাওয়া