১৯ জুন ২০১৯

অযত্নে নষ্ট হচ্ছে পুলিশের জব্দ করা যানবাহন

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী ॥ মাসের পর মাস অযত্ন -অবহেলায় পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে পুলিশের জব্দ করা শত শত মোটরসাইকেল, সিএনজিসহ নানা যানবাহন। খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় এসব যানবাহনে গজিয়েছে গাছ-গাছড়া। দেখে মনে হবে যেন যানবাহনের ভাগাড়। তবে এসব যানবাহনের কোন কোনটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার আলামত। কিন্তু সেই আলামত পড়ে আছে খোলা আকাশের নিচে। ঘাস, আগাছা ও লতাপাতার নিচে চাপা পড়েও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যানবাহনগুলো।

রাজশাহী নগরীর মহিষবাথান এলাকায় ড্যাফোডিল হাউসে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) পেট্রোল পুলিশ পরিদর্শকের কার্যালয়ের সামনে এভাবেই অবহেলা আর অযত্নে পড়ে আছে মোটরসাইকেল, রিক্সা, অটোরিক্সাসহ বিভিন্ন যানবাহন। পুলিশ বলছে, এটি তাদের ‘ডাম্পিং স্টেশন’। রাজশাহীর বিভিন্ন আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্থায়ী জায়গা না থাকায় শুধু আরএমপির ট্রাফিক বিভাগই নয়, জেলা এবং মহানগর এলাকার বিভিন্ন থানাতেও এভাবে খোলা আকাশের নিচে যানবাহন ফেলে রাখা হয়। ফলে গাড়িগুলো নষ্ট হয়ে যায়। অনেক যন্ত্রাংশ হারিয়েও যায়। কিন্তু এসব গাড়ির বেশিরভাগই মামলার আলামত হিসেবে জব্দ। আলামত যেন নষ্ট না হয় সে জন্য তারা বার বার পুলিশকে তাগিদ দেন। কিন্তু কোন মামলারই যানবাহনের মতো আলামত ঠিকঠাক পাওয়া যায় না।

আরএমপির ট্রাফিক বিভাগে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কাগজপত্র না থাকার কারণে ট্রাফিক পুলিশ সড়কে যেসব যানবাহন জব্দ করে সেগুলো এনে মহিষবাথানের ওই ডাম্পিং স্টেশনে রাখা হয়। উপযুক্ত কাগজপত্র দেখানোর পর গাড়ির মালিক সেখান থেকে নিয়ে যেতে পারেন। কিন্তু কাগজপত্র না থাকার কারণে অনেকেই গাড়ি নিয়ে যেতে পারেন না দীর্ঘ দিনেও। সেগুলোই পড়ে থাকে। এছাড়া দু’বছর আগে থেকে বিভিন্ন থানার মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা গাড়িও সেখানে রয়েছে। তবে এখন আর থানাগুলো এখানে গাড়ি রাখে না।

আরএমপির পেট্রোল পুলিশ পরিদর্শকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে দেখা যায়, কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে প্রায় চার শতাধিক মোটরসাইকেল রাখা হয়েছে। কিছু অটোরিক্সা, রিক্সা, মাইক্রোবাস, পিকআপ, সিএনজিও রাখা হয়েছে। লতাপাতা খোলা আকাশের নিচে থাকা যানবাহনগুলোর বেশিরভাগ অংশই ঢেকে ফেলেছে। মামলার আলামত হিসেবে অনেক গাড়ি থাকায় সেগুলো নজরদারির জন্য সার্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েন থাকার কথা। কিন্তু তখন কোন পুলিশ দেখা যায়নি। তবে ডাম্পিং স্টেশনের সামনে ড্যাফোডিল হাউসের ব্যারাকে এক পুলিশ সদস্যকে দেখা গেছে।

স্থানীয়রা বলছেন, একেবারেই অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে গাড়িগুলো। ফলে অনেক যানবাহনের যন্ত্রাংশ গায়েব হয়ে যাচ্ছে। বেশিরভাগ সময় মোটরসাইকেলগুলোর লুকিং গ্লাস চুরি হয়ে যায়। এখন ডাম্পিং স্টেশনের অনেক মোটরসাইকেলের লুকিং গ্লাস নেই। আবার কিছু মোটরসাইকেলের হেডলাইট নেই। এসব গাড়ি পুলিশের হাতে জব্দ হওয়ার দিন চালকরা যদি হেড লাইট ছাড়াই সড়কে বের না হন তাহলে জব্দ হওয়ার পর এগুলোর হেডলাইট গায়েব হয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ড্যাফোডিল হাউসে দায়িত্বে থাকা পেট্রোল পুলিশ পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ বলেন, এক মাস আগে তিনি ঢাকা থেকে রাজশাহীতে যোগ দিয়েছেন। এখানে এসেই গাড়িগুলোর এমন অবস্থা দেখছেন। তবে চার পুলিশ সদস্য এগুলো পাহারায় থাকেন বলেই দাবি করেন তিনি। আরএমপির ট্রাফিক বিভাগের উপ-কমিশনার অনির্বাণ চাকমা বলেন, জব্দ করা গাড়িগুলো ভালভাবে রাখার উদ্যোগ গ্রহণের জন্য তারা একাধিকবার উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছেন। কিন্তু সেখান থেকে কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। তাই এভাবেই খোলা আকাশের নিচে গাড়িগুলোকে রাখতে হচ্ছে। পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, যেসব যানবাহন মামলার আলামত নয় সেগুলো নিলামে দ্রুত বিক্রি করে দেয়া গেলে খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকত না। কিন্তু এটি আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। তবে এখন এসব যানবাহনের চাহিদাও কমেছে। কারণ, এগুলো নিলামে কিনে আর ব্যবহারের সুযোগ নেই। শুধু ভাঙ্গড়ি হিসেবেই কিনতে হবে। কেনার পর রাস্তায় নামলে পুলিশ আবার ধরবে।