১৬ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাজশাহীতে জমজমাট আমের বাজার, চাঙ্গা অর্থনীতি

মামুন-অর-রশিদ, রাজশাহী ॥ মৌসুমের শেষ মুহূর্তে ‘আমময়’ হয়ে উঠেছে পদ্মাপাড়ের শহর রাজশাহী। হাটে-মাঠে, পথে-প্রান্তরে, বাগানে-বাগানে, পাড়ার অলিগলিতে এখন শুধুই আমের হাঁক-ডাক। রাজশাহীর বিভিন্ন সড়ক ও মোহনাগুলো এখন কাঁচা-পাকা আমে ছেয়ে গেছে। বড় বড় ঝুড়ি ও প্লাস্টিকের খাচা (ক্যারেট) বোঝাই করে আম আসছে রাজশাহী ও এর আশপাশের এলাকার নতুন-পুরনো বাগান থেকে। তাই রাজশাহীর বাতাসে এখন আমের সৌরভ ভেসে বেড়াচ্ছে। তবে ঝড়, তাপদাহ ও শিলাবৃষ্টিতে এ বছর কমেছে আমের ফলন। তাই বেড়েছে দাম।

রাজশাহীর স্বাদের আমে এখনও লোভের থাবা বসাতে পারেনি মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। তাই অপরিপক্ক আমে কেমিক্যালের মিশ্রণ নয়, বেঁধে দেয়া সময়ের পরেই পরিপক্ক আম ভাঙ্গা হচ্ছে গাছ থেকে। জ্যৈষ্ঠ মাসের শেষে হাট-বাজার থেকে বিদায় নিয়েছে গোপালভোগ ও মোহনভোগ। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছে ক্ষীরসাপাত, ল্যাংড়া, আম্রপলিসহ নানান জাতের বাহারি নামের স্বাদের আম। বিরামহীন বেচাকেনা চলছে প্রাচীন এই জনপদে। রাজশাহীজুড়ে এখন কেবল আমেরই রাজত্ব। বাগানে বাগানে চলছে গাছ থেকে আম ভাঙ্গার কাজ। তাই শেষ মুহূর্তের এই বর্ষায় চাঙ্গা হয়ে উঠেছে ব্যবসা।

কেবল হাট-বাজার নয়, আম কেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য পাল্টে দিয়েছে এ অঞ্চলের গ্রামীণ জনপদের অর্থনীতিও। রাজশাহী অঞ্চলের দুইটি বড় আমের মোকাম রাজশাহীর বানেশ্বর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাটে প্রতিদিন বেচাকেনা হচ্ছে দুই কোটি টাকার আম।

আমের কারবার নিয়ে রাজশাহী অঞ্চলের প্রায় ৫০ হাজার মানুষের মৌসুমি কর্মসংস্থানও হয়েছে। মধুমাস জ্যৈষ্ঠের পরও জুন মাসজুড়েই চলবে ‘আম বাণিজ্য’। তাই আম বাগানের শ্রমিক ও আমের ঝুড়ি বানানোসহ নানা সহায়ক কাজে নিয়োজিত লোকজনের কর্মসংস্থানে উত্তরের এ জনপদ কর্মব্যস্ত হয়ে উঠেছে। দাম চড়া হলেও আমের বেচাকেনা বেড়েছে।