২২ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তামাক সেবনে বছরে বিশ্বে ৭০ লক্ষাধিক লোক মারা যায়

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশে তামাকের ভয়াবহতা উদ্বেগজনক পর্যায়ে চলে গেছে। তামাক সেবনে পৃথিবীতে প্রতিবছর ৭০ লক্ষাধিক মানুষ অকালে মারা যায়। এর মধ্যে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয়ে বছরে মারা যায় ৯ লক্ষাধিক। বাংলাদেশে ধূমপান ও তামাক সেবনে ১২ লাখ মানুষ আটটি প্রাণঘাতী অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়। এদের মধ্যে ৩ লাখ ৮২ হাজার অকালপঙ্গুত্বের শিকার হয়। দেশে ১ লাখ ৬১ হাজারের অধিক মানুষ তামাকজনিত রোগে মারা যায়। সরকার তামাক খাত থেকে যে পরিমাণ রাজস্ব পায়, তার চেয়ে বেশি অর্থ তামাকজনিত রোগের চিকিৎসায় মানুষকে ব্যয় করতে হয়।

বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) বাবুল কুমার সাহা, অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ব স্বাস্থ্য) সাইদুর রহমান, জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের সমন্বয়ক খায়রুল আলম শেখ প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধে খায়রুল আলম শেখ বলেন, সরকার প্রতিবছরের মতো এবারও বর্ণাঢ্য কলেবরে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উদযাপনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। প্রতিবছর ৩১ মে দিবসটি উদযাপিত হলেও এ বছর অনিবার্য কারণে তারিখ পিছিয়ে ২০ জুন নির্ধারণ করা হয়েছে। এ হিসেবে বৃহস্পতিবার র‌্যালি, আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচীর মাধ্যমে দিবসটি উদযাপিত হবে। বৈশ্বিক তামাক নিয়ন্ত্রণে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসের গুরুত্ব অনেক। ১৯৮৭ সাল থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সরকার, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ও তামাকবিরোধী সংগঠনসমূহ দিবসটি নানা কর্মসূচীর মাধ্যমে পালন করে আসছে।

মূল প্রবন্ধে জানানো হয়, তামাক উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সেবন প্রতিটি ক্ষেত্রেই পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতির ওপর তামাকের প্রভাব অত্যন্ত নেতিবাচক। ধূমপান ও ধোঁয়াবিহীন তামাক সেবন- দুটোই ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী নেশা। পরোক্ষ ধূমপানও অধূমপায়ীদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তামাক সেবনের কারণে হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, ক্রনিক লাং ডিজিজসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ দেখা দেয়। প্রাণঘাতী এসব রোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও দীর্ঘমেয়াদী।

স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল, স্বাস্থ্য অধিদফতরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচী (এনসিডিসি), বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা, বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে জাতীয়ভাবে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উদযাপনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এছাড়া ঢাকাসহ সারাদেশে সিভিল সার্জনদের মাধ্যমে দিবসটি পালনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) বাবুল কুমার সাহা বলেন, জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে সরকার ’১৩ সালে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইনটি সংশোধন করে এবং ’১৫ সালে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা প্রকাশ করে। আইন ও বিধিমালার আলোকে ’১৬ সালের ১৯ মার্চ থেকে বাংলাদেশে তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কের ৫০ ভাগ স্থানজুড়ে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী দেয়া হচ্ছে, যা প্রতি তিন মাস পর পর পরিবর্তিত হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য উন্নয়নকে প্রাধান্য দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাংলাদেশে উৎপাদিত ও আমদানিকৃত সব তামাকজাত দ্রব্যের ওপর ১% হারে স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ আরোপ করেছিল। ইতোমধ্যে তামাক নিয়ন্ত্রণসহ জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে এ অর্থ ব্যবহারের লক্ষ্যে স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ ব্যবস্থাপনা নীতি ’১৭ অনুমোদিত হয়েছে। এর আলোকে স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ হিসাবে সংগৃহীত অর্থ তামাক নিয়ন্ত্রণে ব্যবহারের লক্ষ্যে জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচী প্রণীত হতে যাচ্ছে। আইন ও বিধি বাস্তবায়নে জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতি ও তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণ নীতি প্রণয়নের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া বর্তমানে প্রচলিত তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী বড় করার পদক্ষেপও নেয়া হচ্ছে। সবার সম্মিলিত চেষ্টায় দেশকে ২০৪০ সালের মধ্যে অবশ্যই তামাকমুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন অতিরিক্ত সচিব।