২০ জুন ২০১৯

নিজের কীর্তিতে নিজেই অবাক ইয়ন মরগান

 নিজের কীর্তিতে নিজেই অবাক ইয়ন মরগান

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ পিঠের চোটের কারণে খেলবেন কিনা সেটি নিয়ে ছিল সংশয়। পরশু আফগানিস্তানের বিপক্ষে ইয়ন মরগান কেবল মাঠেই নামেননি, ছক্কা-বৃষ্টিতে রেকর্ড বইয়ের অনেক পরিসংখ্যান এলোমেলো করে দিয়েছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। ৭১ বলে ১৪৮ রানের ঝড়ের পথে ১৭ ছক্কায় গড়েছেন নতুন বিশ্বরেকর্ড। যেখানে মাত্র ৫৭ বলে ছুঁয়েছেন সেঞ্চুরি। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ৩৯৭ রানের পাহাড় গড়ার পর আফগানদের ২৪৭/৮-এ থামিয়ে দিয়ে জয় ১৫০ রানের। তবে সব ছাপিয়ে আলোচনায় মরগানের ব্যাটিং। ওল্ডট্র্যাফোর্ডে রশীদ খান-মোহাম্মদ নবীদের নিয়ে কী খেলাটাই না খেলেছেন! মাত্র ৪ চারের বিপরীতে রেকর্ড ১৭ ছক্কা দেখলেই সেটি বোঝা যায়। মজার বিষয় এমন কীর্তিতে মরগান নিজেই অবাক, ‘কখনও ভাবিনি এমন একটি ইনিংস খেলব। আমি সত্যিই খুব আনন্দিত। শেষ চার বছর নিজের ব্যাটিং নিয়ে অনেক কাজ করেছি। এটি সেসবেরই প্রতিফলন’ বলেন ইংলিশ ক্যাপ্টেন।

মরগান আরও যোগ করেন, ‘শেষ চার বছরে আমি আমার ক্যারিয়ারের সেরা ম্যাচগুলো খেলেছি। তবে কোনটিই ৫০-৬০ বলে সেঞ্চুরি করার মতো ছিল না। এই সেঞ্চুরি তাই বিশেষ কিছু। কিন্তু খুব বেশি আবেগাপ্লুত হতে চাই না। কারণ বিশ্বকাপের এ পর্যায়ে সামনে অনেক ম্যাচ রয়েছে। অধিনায়ক হিসেবে সেখানেও আমাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।’ মরগান ধুরন্ধর কিন্তু এই ইংল্যান্ড দলে জেসন রয়, জনি বেয়ারস্টো, বেন স্টোকসদের মতো খ্যাপাটে-বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান রয়েছেন। অধিনায়কের ছক্কা-বন্যা দেখে ম্যাচ শেষে সতীর্থরা নাকি মজা করেছেন। মরগান নিজেই সেটি জানিয়েছেন, ‘আমার মনে হচ্ছে আমাকে উদ্দেশ করে বদলে যাওয়া ড্রেসিং রুমে সবাই মজা করছে। আমি যে সেঞ্চুরি করেছি, সেটিকে খুব ধীরগতির হিসেবে বিবেচনা করছে তারা। সবসময় এটা নিয়ে মজা করছে ওরা। এটা দারুণ ব্যাপার।’ ওয়ানডে ক্রিকেটে ব্যক্তিগত এক ইনিংসে ১৬টি করে ছক্কা হাঁকিয়ে এতদিন রেকর্ডটা ছিল রোহিত শর্মা, এবি ডি ভিলিয়ার্স ও ক্রিস গেইলের দখলে। খেলার ধরন কোন বিচারেই মরগানের স্টাইল তাদের মতো নয়।

শতভাগ ফিট না হয়েও ইংল্যান্ড অধিনায়ক গড়লেন নতুন বিশ্ব রেকর্ড, ‘পিঠের চোট ভোগাচ্ছিল। তাই ভাবতে পারিনি আমি এ রকম একটা ইনিংস খেলতে পারব। তবে এমন ইনিংস খেলে বেশ ভালই লাগছে, কারণ এতে করে আমি তরুণ তারকাদের সঙ্গে লড়াই করতে পারলাম। এই অনুভূতিটা সবচেয়ে বেশি তৃপ্তি দিচ্ছে।’ আফগানদের বিপক্ষে এদিন নতুন আরও একটি কীর্তি গড়েন মরগান। বিশ্বকাপে ইংলিশ ‘অধিনায়ক’ হিসেবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েন তিনি। ২০১১ সালে ভারতের বিপক্ষে ব্যাঙ্গালুরুতে ‘অধিনায়ক’ হিসেবে এ্যান্ড্রু স্ট্রস ১৫৮ রান করেছিলেন। ইংল্যান্ডের জার্সিতে মরগানের এটি ১২তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি। মার্কাস ট্রেসকোথিকের সমান তিনিও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি পেলেন ইংল্যান্ডের হয়ে। সেঞ্চুরির তালিকায় ইংলিশদের মধ্যে মরগানের চেয়ে বেশি সেঞ্চুরি আছে কেবল সতীর্থ জো রুটের। রুট ক্যারিয়ারে ১৬টি সেঞ্চুরি হাঁকান। তবে আয়ারল্যান্ডের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু করা ৩২ বছর বয়সী মরগান ইংল্যান্ডে পাড়ি জামনোর আগে সেখানেও করেছিলেন একটি সেঞ্চুরি!

ওল্ডট্র্যাফোর্ডে আফগান বোলারদের ওপর দিয়ে কী ঝড়টাই না বয়ে গেছে! রশীদ-নবীদের নাকের জল-চোখের জল এক করে দিয়ে মরগান হাঁকিয়েছেন বিধ্বংসী সেঞ্চুরি। মাত্র ৫৭ বলে সেঞ্চুরি ছুঁয়েছেন। বিশ্বকাপে যা চতুর্থ দ্রুততম সেঞ্চুরি। ২০১১ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ৫০ বলে সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েছিলেন আয়ারল্যান্ডের ক্রিকেটার কেভিন ও’ব্রায়েন। ৫১ বলে সেঞ্চুরি আছে সাবেক অস্ট্রেলিয়ান তারকা এ্যাডাম গিলক্রিস্টের। যেন ছক্কার বৃষ্টি বয়ে যায়। ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা মোট ছক্কা হাঁকিয়েছেন ২৫টি, এটিও নতুন রেকর্ড! রেকর্ডে রেকর্ডে ছয়লাব ম্যানচেস্টারে এদিন বেয়ারস্টো ৯৯ বলে ৯০, রুট ৮২ বলে ৮৮ রান করে আউট হন। ৯ বলে ১ চার ও ৪ ছক্কায় ৩১ রানে অপরাজিত থাকেন মঈন আলী। আফগান লেগস্পিনার রশীদ খান ৯ ওভার বল করে দেন ১১০ রান, এটিও বিশ্বকাপে খরুচে বোলিংয়ের নতুন রেকর্ড!