২৪ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আজও উৎসবের অপেক্ষায় টাইগার সমর্থকরা

জাহিদুল আলম জয় ॥ বড় মঞ্চে বড় সাফল্য পেতে হলে পারফর্মেন্সের সঙ্গে ভাগ্যেরও সহায়তা লাগে। ইংল্যান্ডে চলমান বিশ্বকাপ ক্রিকেটে অংশগ্রহণকারী সব দলের সঙ্গে সবার খেলা হওয়ায় এ ছোঁয়াটা আরও বেশি প্রয়োজন! বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাসহ প্রায় সবাই একই অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

তবে টাইগারভক্তরা কিন্তু ভাগ্যের সহায়তা নিয়ে ভাবছেন না। মাঠের পারফর্মেন্স দিয়েই প্রত্যাশিত সেমিফাইনালে নাম লেখাবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা, এটাই তাদের বিশ্বাস। এ লক্ষ্য পূরণে আজ শক্তিশালী প্রতিপক্ষ, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হচ্ছে উজ্জীবিত বাংলাদেশ। নটিংহ্যামের ট্রেন্টব্রিজে হতে যাওয়া ম্যাচটিতেও গ্যালারিতে টাইগাররা অকুণ্ঠ সমর্থন পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইংলিশভূমে বাংলাদেশের প্রতিটি ম্যাচেই গ্যালারি মাতাচ্ছেন ভক্ত-সমর্থকরা। সর্বশেষ টনটনে অনুষ্ঠিত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক জয়ের ম্যাচটিতেও গ্যালারিজুড়ে পত পত করে উড়েছে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পাতাকা। শুধু প্রবাসী বাংলাদেশীরাই নয়; সাকিব-লিটনদের সমর্থন যোগাচ্ছেন ভিনদেশীরাও।

টনটনের মাঠে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে শতকরা ৭০ শতাংশই বাংলাদেশ দলকে সমর্থন করেছেন। এখন পুরো ইংল্যান্ডজুড়ে দেখা মিলছে ‘এক টুকরো বাংলাদেশে’র। ট্রেন্টবিজে অসিদের বিরুদ্ধেও গ্যালারিতে অকুণ্ঠ সমর্থন পাবে বাংলাদেশ- এমনটাই ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ম্যাচটি সামনে রেখে প্রবাসীরা নটিংহ্যামে জড়ো হয়েছেন। লন্ডন প্রবাসীরা তো আছেনই; খেলা দেখতে ইংল্যান্ড ছুটে আসছেন অন্যান্য দেশে থাকা প্রবাসীরাও। এই যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে টাইগারদের খেলা দেখতে ইংলিশভূমে এসেছেন বাংলাদেশী দর্শক রফিকুল ইসলাম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি বলেন, ‘আমি আমার পরিবারসহ খেলা দেখতে ইংল্যান্ড এসেছি। আমরা আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ দল সেমিফাইনালে খেলবে। এখন পর্যন্ত আমাদের সোনার ছেলেদের পারফর্মেন্সই সবার সেরা। বিশেষ করে সাকিব আল হাসান যেভাবে খেলছেন তাতে আমরা গর্বিত। আশা করছি অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধেও বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার জ্বলে উঠবেন’।

কাতার থেকে মাশরাফিবাহিনীকে সমর্থন যোগাতে ইংল্যান্ড উড়ে গেছেন বাংলাদেশের বুয়েট ইঞ্জিনিয়ার লাল মোহাম্মদ। ক্যারিবীয়দের বিরুদ্ধে ম্যাচটিতেও মাঠে ছিলেন তিনি। এখন অসিদের বধ করতেও আত্মবিশ্বাসী। থাকবেন ট্রেন্টব্রিজেও। বাংলাদেশী লাল আরেকবার গ্যালারিতে রঙিন উৎসব করার প্রত্যয় জানিয়ে বলেন, ‘বিদেশের মাটিতে এসে দেশের এমন জয় প্রবাসে থাকা আমাদের সবচেয়ে বড় পাওয়া। মাশরাফি-সাকিবরা আমাদের অনেক কষ্ট ভুলিয়ে দিয়েছেন। আমরাও তাদের মনপ্রাণ দিয়ে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি অস্ট্রেলিয়া বধও নিজ চোখে দেখতে পারব’। ইংল্যান্ড প্রবাসী আনিসুর রহমান বলেন, ‘শত ব্যস্ততার মধ্যেও বাংলাদেশের ম্যাচগুলো দেখতে এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত ছুটে চলেছি। এতে বিন্দু পরিমাণ ক্লান্তি নেই। আমার ভাল লাগছে যে, আমরা বাংলাদেশী প্রবাসীরা ছাড়াও অন্যান্য দেশের মানুষও আমাদের দলকে সমর্থন করছে। আশা করছি প্রত্যাশিত সাফল্য নিয়েই দেশে ফিরতে পারবে মাশরাফির দল’।

তরুণ ছাত্রনেতা হায়দার মোহাম্মদ জিতু বাংলাদেশ দলের আত্মবিশ্বাসী পারফর্মেন্সে মুগ্ধ, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট দল প্রতিপক্ষের সঙ্গে যে আত্মবিশ্বাসী খেলোয়াড়সুলভ আচরণ করছে তাতে শুধু অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচ নয় প্রতিটি ম্যাচ নিয়েই আশাবাদী। বিশ্বাস করি আমরা আমাদের জয় ছিনিয়ে আনতে পারব’। কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় টিমের সাবেক অলরাউন্ডার ও বর্তমানে আর্টেরিয়র উইন্ডজ লিমিটেডের মার্কেটিং ম্যানেজার তানভীর আলম গঠনমূলক ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ‘যে দল শেষ ম্যাচে ছিল সেটাই পারফেক্ট। টস জিতলে ব্যাটিং নিতে হবে এবং পজিটিভ ব্যাটিং করে কমপক্ষে ৩০০ থেকে ৩২০ রান করতে হবে। তুলনামূলকভাবে অসিরা যেহেতু স্পিনে দুর্বল সেহেতু সাকিব, মিরাজ, মোসাদ্দেককে ভালভাবে ব্যবহার করতে হবে।’

ইংল্যান্ডে প্রচুর পরিমাণে বাংলাদেশী প্রবাসী আছেন। অনেকেই আবার কয়েক প্রজন্ম ধরে সেখানে বসবাস করছেন। আর সবারই ধমনি-শিরায় প্রবাহিত হচ্ছে লাল-সবুজের প্রতি অকৃত্রিম টান। আশেপাশের কোন স্টেডিয়ামে খেলা পড়লে তারা ঠিকই সময় বের করে মাতৃভূমির দলকে সমর্থন জোগাতে ছুটে যান। বিশ্বকাপেও তেমনই দেখা যাচ্ছে। দর্শকদের ঢলে মনে হচ্ছে খেলা যেন বাংলাদেশের হোম ভেন্যুতে হচ্ছে। শুধু প্রবাসীরাই নয়, টাইগারদের সমর্থন যোগাতে দেশ থেকেও ব্রিটিশভূমে গেছেন অনেকে। দর্শকদের দেয়া সমর্থন ও অনুপ্রেরণা যে কোন দলেরই সেরাটা বের করে আনার টনিক। এদিক থেকে বাংলাদেশ বেশ খানিকটা এগিয়ে আছে।

দেশের বাইরে যেখানেই খেলতে যায় টিম টাইগার সেখানেই যেন তৈরি হয় এক টুকরো বাংলাদেশের। প্রিয় টাইগারদের সমর্থন জানাতে চেষ্টার ত্রুটি রাখেন না প্রবাসী বাংলাদেশীরা। এমনকি সমর্থকদের একটি অংশ আছেন যারা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সঙ্গী হয়ে থাকেন সবসময়। দেশে কিংবা বিদেশের মাটিতে যেখানেই খেলা চলুক প্রিয় দলকে উৎসাহ দিতে মাঠে উপস্থিত থাকেন। চলমান বিশ্বকাপেও এ ধারা অব্যাহত আছে।

নির্বাচিত সংবাদ