২৪ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মানাংকে উড়িয়ে শীর্ষে আবাহনী

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ এএফসি কাপের পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখতে এবং গ্রুপসেরা হওয়ার জন্য দরকার ছিল কমপক্ষে ২-০ গোলের জয়। সেখানে ৫-০ গোলের বিশাল জয় তো অভাবনীয়ই! হ্যাঁ, ঢাকা আবাহনী লিমিটেড এই কা-ই ঘটিয়েছে বুধবার। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘ই’ গ্রুপের হোম ম্যাচে তারা এই ব্যবধানে হারায় সফরকারী দল নেপালের মানাং মার্শিয়াংদি ক্লাবকে। গত ৩ এপ্রিল নেপালের ললিতপুরের আনফা কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠেয় মানাংয়ের বিপক্ষে এ্যাওয়ে ম্যাচে আবাহনী ১-০ গোলে হারিয়েছিল মানাংকে। প্রতিশোধ নিতে এসে উল্টো শোচনীয় হারের লজ্জায় ডুবেছে নেপালী ক্লাবটি।

আবাহনীর হয়ে গোলগুলো করেন জীবন (১১ মিনিটে), বেলফোর্ট (৪৫+১ মিনিটে), জুয়েল রানা (৬৩), সানডে (৭৬) এবং মামুনুল ইসলাম (৯০+৫ মিনিটে)। এই জয়ে সামগ্রিকভাবে এএফসির যে কোন আসরে বাংলাদেশের যে কোন ক্লাবের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ের রেকর্ড গড়লো আবাহনী। আগের রেকর্ডটিও তাদেরই ছিল। এএফসি প্রেসিডেন্টস কাপে ২০১১ সালের ২৫ মে কম্বোডিয়ার অলিম্পিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত শ্রীলঙ্কার ডন বস্কো ক্লাবকে ৪-১ গোলে হারিয়েছিল তারা। বুধবার একইদিন অনুষ্ঠিত ‘ই’ গ্রুপের অপর ম্যাচে ভারতের মিনের্ভা পাঞ্জাব ১-১ গোলে ড্র করে স্বদেশী ক্লাব চেন্নাইন এফসির সঙ্গে। এর ফলে গ্রুপসেরা হওয়াটা আরও সহজ হয়েছে ‘দ্য স্কাই ব্লু ব্রিগেড’ খ্যাত আবাহনীর জন্য। নিজেদের পঞ্চম ম্যাচে এটা তৃতীয় জয় আবাহনীর। আগের এক ড্রয়ে ১০ পয়েন্ট তাদের। পয়েন্ট টেবিলে একধাপ উন্নতিতে তারাই এখন এক নম্বরে। আগে যারা এই স্থানে ছিল, সেই চেন্নাইন এফসির সংগ্রহ সমান ম্যাচে ৮ পয়েন্ট। ২ জয় ও ২ ড্র তাদের। তারা নেমে গেছে দুইয়ে। পক্ষান্তরে নেপালের মানাংয়ের সমান ম্যাচে এটা তৃতীয় হার। ২ ড্রয়ে তাদের পয়েন্ট মাত্র ২। অবস্থান পয়েন্ট টেবিলে চার দলের মধ্যে তলানিতে। তাদের ওপরে তিনে আছে মিনের্ভা পাঞ্জাব ৫ পয়েন্ট নিয়ে। বুধবারের ম্যাচে ড্র করে এবং হেরে যথাক্রমে পাঞ্জাব এবং মানাং দুই দলই এক ম্যাচ হাতে রেখেই এই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিল। এই ম্যাচের আগে চেন্নাইন এবং আবাহনীর পয়েন্ট সমান (৪ ম্যাচে ৭) ছিল। কিন্তু গোল গড়ে এগিয়ে থাকায় এক নম্বরে ছিল চেন্নাইন। কিন্তু ম্যাচের পর দৃশ্যপট পাল্টে দিল আবাহনী। ম্যাচের আগেরদিন আবাহনীর পর্তুগীজ কোচ মারিও লিচিনো গারেইরো জানিয়েছিলেন খেলাটি তাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং এএফসি কাপে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তাদের টিকে থাকতে জয় প্রয়োজন। সেই মধুর জয়ই তাকে উপহার দিয়েছেন তার শিষ্যরা। ৪৭ বছর বয়সী এবং ৩৬টি ট্রফিজয়ী আবাহনী বুধবারের ম্যাচে ‘মন ভাল করা’ নয়নাভিরাম ফুটবলই উপহার দিয়েছে খেলা দেখতে আসা হাজারখানেক ফুটবলপ্রেমীদের। যদিও বল পজেশনে (৪৮%-৫২%) এবং ফ্রি কিকে (৭-১৪) এগিয়ে ছিল মানাং। তবে বাকি সবকিছুতেই এগিয়েছিল আবাহনী। যেমন অন টার্গেট শটে (১১-১), কর্নারে (৪-০), বিপজ্জনক আক্রমণে (৬৭-১৪) এবং মোট আক্রমণে (৭৯-৩৩)। আবাহনীর নাইজিরিয়ান ফরোয়ার্ড সানডে চিজোবা একাই ৬টি গোলের সুযোগ নষ্ট করেন (৪, ৩৮, ৪৩, ৬০, ৬৮ ও ৬৯ মিনিটে)। এছাড়া হাইতিয়ান ফরোয়ার্ড কারভেন্স ফিলস্ বেলফোট ২টি (২৮ ও ৫৯ মিনিটে), ফরোয়ার্ড নাবিব নেওয়াজ জীবন ১টি (৪০ মিনিটে) এবং মিডফিল্ডার সোহেল রানা ১টি (৫৩ মিনিটে) গোলের চান্স মিস করেন। এই ১০টির মধ্যে অর্ধেক গোল হলেও স্কোরলাইনটা ১০-০ হতে পারতো! ৩৭ বছর বয়সী এবং ২৪টি ট্রফিজয়ী মানাং মাত্র ১টিই সুযোগ পেয়েছিল। ২১ মিনিটে তাদের ফরোয়ার্ড সুজল শ্রেষ্ঠর বাঁ পায়ের ভলি শট আবাহনীর গোলরক্ষক-অধিনায়ক শহীদুল আলম সোহেলের হাত ফস্কে জালে ঢুকে যাচ্ছিল। দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় ঝাঁপিয়ে পড়ে গোল বাঁচান সোহেল।

নির্বাচিত সংবাদ