১৭ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কুকুর পোষায় জিনের প্রভাব

  • এনামুল হক

আমাদের মধ্যে কেউ কেউ কুকুর পুষতে ভালবাসেন। কেউ ভালবাসেন বিড়াল। আবার কেউ দুটোই পছন্দ করেন। কেউ বা কোনটাই পছন্দ করেন না। যারা কুকুর রাখতে ভালবাসেন তারা হয়ত প্রাণীটির বুদ্ধি কিংবা প্রভুভক্তির কারণে তা করেন। কিন্তু কুকুরের প্রতি এই ভালবাসা কিংবা কুকুর রাখতে পছন্দ করার ব্যাপারটা আরও গভীরে নিহিত। সর্বশেষ গবেষণা অনুযায়ী এই পছন্দের ব্যাপারটা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জিনেটিক গঠনের মধ্যে নিহিত। অর্থাৎ কেউ কুকুর রাখতে চায় কি চায় না তা সেই ব্যক্তির জিনেটিক গঠন বিন্যাস দ্বারা দারুণভাবে প্রভাবিত হতে পারে।

সুইডেন ও যুক্তরাজ্যের একদল গবেষক ৩৫ হাজারেরও বেশি জোড়া যমজের ওপর সমীক্ষা চালান। এসব লোকদের কুকুর আছে কি-না তার সঙ্গে তাদের জিনেটিক গঠন কতখানি সম্পর্কযুক্ত তা তারা পরীক্ষা করে দেখেন এবং লক্ষ্য করেন যে কুকুরের মালিক হওয়া না হওয়ার এই যে তারতম্য তার ৫০ শতাংশের বেশি ব্যাখ্যা জিনেটিক পার্থক্য থেকে পাওয়া যেতে পারে। সমীক্ষায় আরও দেখা গেছে যে কুকুর রাখতে চাওয়ার ওপর জিনের এই প্রভাব পুরুষের তুলনায় মহিলাদের মধ্যে বেশি প্রবল। মহিলাদের ক্ষেত্রে জিনের এই প্রভাব ৫৭ শতাংশ আর পুরুষের ক্ষেত্রে ৫২ শতাংশ।

যমজদের ওপর সমীক্ষা চালানো আমাদের জীবতত্ত্ব ও আচরণের ওপর পরিবেশ ও জিনের প্রভাব বোঝার এক সুপরিচিত পদ্ধতি। কারণ সমবৈশিষ্ট্য সম্পন্ন যমজরা উভয়েই তাদের পুরো জেনোম ধারণ করে থাকে। আর যেসব যমজ অভিন্ন বৈশিষ্ট্যের অধিকারী নয় তারা গড়ে মাত্র অর্ধেক অভিন্ন জিনেটিক বৈশিষ্ট্য ধারণ করে। তাই এই গ্রুপের নারী-পুরুষের মধ্যে কারা কুকুর পালন করছে এবং কারা করছে না সেটা তুলনা করে দেখলে জানা যাবে যে কুকুর পালন করার ক্ষেত্রে জিন বা বংশগতির কোন ভূমিকা আছে কিনা। গবেষকরা লক্ষ্য করেছেন যে হুবহু একই রকম নয় এমন যমজদের তুলনায় হুবহু একই রকমের এমন যমজদের কুকুরের মালিক হওয়ার হার অনেক বেশি। তা থেকে এই বক্তব্যই সমর্থিত হয় যে কুকুর রাখতে চাওয়ার ক্ষেত্রে জিন এক বড় ধরনের ভূমিকা পালন করে।

গবেষক দলের প্রধান এবং সুইডেনের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের মলিকুলার এপিডেমিওলজির অধ্যাপক টোভ ফল বলেন যে তারা বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ্য করেছেন কেউ কুকুর পালে কিনা সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জেনেটিক গঠন উল্লেখযোগ্য প্রভাব রেখে থাকে। সেই কারণে ইতিহাসের গোটা অধ্যায় জুড়ে ও আধুনিক যুগে কুকুর মানুষের মিথস্ক্রিয়া উপলব্ধি সংক্রান্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে গবেষণার এই ফলাফল বড় ধরনের তাৎপর্য বহন করে। সারা বিশ্বে কুকুর বিড়াল ও অন্যান্য পোষা প্রাণী পরিবারের অভিন্ন সদস্যের মতো হলেও আমাদের দৈনন্দিন জীবন ও স্বাস্থ্যের ওপর এদের প্রভাব কতটুকু সে সম্পর্কে সামান্যই জানা আছে। পোষা প্রাণীদের যত্ন করার সহজাত প্রবণতা কিছু কিছু মানুষের অন্যদের তুলনায় সম্ভবত বেশি থাকে।

গবেষক দলের অন্যতম লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যারি ওয়েস্টগার্থ বলেন, সমীক্ষার এই ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ কেননা এ থেকে বোঝা যায় যে কোন কোন গবেষণায় কুকুর পোষার অনুমিত স্বাস্থ্যগত যেসব উপকারিতার কথা জানা গেছে মানুষের বিভিন্ন জিন থেকে তার আংশিক ব্যাখ্যা পাওয়া যেতে পারে।

কুকুর হলো মানুষের প্রথম গৃহপালিত পশু। মানুষের সঙ্গে এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক কমপক্ষে ১৫ হাজার বছর ধরে বিদ্যমান। কুকুর আজ আমাদের সমাজের অতি প্রচলিত পোষা প্রাণী এবং এরা কুকুরের মালিকদের কল্যাণ ও স্বাস্থ্যের উপকারিতা বাড়ায় বলে বিবেচিত। যমজদের ওপর পরিচালিত সমীক্ষা থেকে অবশ্য বোঝা যায় না যে ঠিক কোন জিনগুলো কুকুর পোষার সঙ্গে যুক্ত। তবে এ থেকে অন্তত প্রথমবারের মতো দেখা গেছে যে জিন ও পরিবেশ পোষমানার জন্য কুকুর রাখার বিষয়টি নির্ণয়ে প্রায় সমান ভূমিকা পালন করে থাকে।

গবেষণাপত্রে ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে গৃহপালিত কুকুরের উৎপত্তি কিভাবে হয়েছে তা এখনও উত্তপ্ত বিতর্কের বিষয়। তবে এ ব্যাপারে সন্দেহ নেই যে কৃষিকাজ শুরু হবার আগে মানুষ যখন পশু শিকার ও ফলমূল সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করত তখন তারা গৃহপালিত কুকুরদের বহুলাংশে ব্যবহার করত যেমন শিকার ও পশুচারণের ক্ষেত্রে এবং নিজেদের নিরাপত্তা রক্ষার কাজে। আজ কুকুর শুধু সঙ্গ দেয়ার কাজ করে না, আরও নানা কাজেও তাদের ব্যবহার করা হয়।

অন্য এক গবেষণায় ৩৪ লাখ প্রাপ্তবয়স্কের ওপর বিশ্লেষণ চালিয়ে দেখা গেছে যারা কুকুর পোষে তাদের অকাল মৃত্যুবরণের ঝুঁকি যারা পোষে না তাদের তুলনায় কম।

সূত্র : সায়েন্স ডেইলি

এই মাত্রা পাওয়া