২৪ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

১১ দিন নিখোঁজ থাকার পর সোহেল তাজের ভাগ্নে সৌরভ উদ্ধার

 ১১ দিন নিখোঁজ থাকার পর সোহেল তাজের ভাগ্নে সৌরভ উদ্ধার
  • কড়া নিরাপত্তায় ঢাকায় আনা হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দীর্ঘ এগারো দিন নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে বৃহস্পতিবার ভোরে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজের ভাগ্নে ইফতেখার আলম সৌরভ উদ্ধার হয়েছেন। ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ তারাকান্দা থেকে সৌরভকে হাত-পা ও চোখ বাঁধা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে। পুলিশ হেফাজতে নিয়ে খাওয়া দাওয়া, গোসল ও বিশ্রামের ব্যবস্থা করে। খানিকটা স্বাভাবিক হওয়ার পর বৃহস্পতিবার সকাল আটটার দিকে কড়া পুলিশ পাহারায় ঢাকার বনানীর বাসায় পাঠানো হয়। পরিবারের ভাষ্য মোতাবেক সৌরভ খুবই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। চিকিৎসকদের পরামর্শ মতে তাকে পূর্ণ বিশ্রামে রাখা হয়েছে। দুর্বৃত্তরা তাকে দীর্ঘ সময় আটকে রেখেছিল। আটকে রাখার সময় সৌরভের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে কি না সে সর্ম্পকে কোন স্পষ্ট তথ্য মেলেনি। এমনকি কারা কি উদ্দেশ্যে তাকে আটকে রেখেছিল সে বিষয়েও কোন সুস্পষ্ট তথ্য মেলেনি। বৃহস্পতিবার ভোর প্রায় সাড়ে পাঁচটার দিকে এগারো দিন নিখোঁজ থাকার পর সৌরভকে ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা থেকে হাত পা ও চোখ বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। ময়মনসিংহ থেকে আমাদের স্টাফ রিপোর্টার জানান, এ বিষয়ে ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার ভোর প্রায় সাড়ে পাঁচটার দিকে ময়মনসিংহ শেরপুর সড়কের তারাকান্দার মধুপুর বটতলা এলাকার জামিল অটোরাইস মিলের সামনে দুর্বৃত্তরা সৌরভকে ফেলে যায়। ওই রাইস মিলের কর্মচারী সৌমিক ফোনে সৌরভের পরিবারকে তার খবর দেয়। সৌরভের পরিবার বিষয়টি ঢাকার কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটকে জানায়। ঢাকার পুলিশের মাধ্যমে আমরা বিষয়টি জানার পর তারাকান্দা থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ে সৌরভকে উদ্ধার করে। তাকে আমার কার্যালয়ে আনা হয়। সৌরভ সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। পরিবারের সঙ্গে কথা বলে পুলিশী হেফাজতে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। সৌরভকে দুর্বৃত্তরা আটকে রেখেছিল। তবে ওইসব দুর্বৃত্তদের পরিচয় মেলেনি।

এদিকে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ দাবি করেছেন, সৌরভকে উদ্ধারের সময় তার হাত-পা ও চোখ বাঁধা ছিল। গায়ে কোন জামা ছিল না। শুধু পায়জামা পরা ছিল। প্রথমে সৌরভ বুঝতেই পারেনি, সে কোথায় আছে? সৌরভ মানসিকভাবে একেবারেই বিপর্যস্ত। চিকিৎসকের পরমার্শ মোতাবেক তাকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্রামে রাখা হয়েছে। সৌরভ আভাসে ইঙ্গিতে ঘটনার বিষয়ে কিছুটা জানিয়েছে। সে কি অবস্থায় ছিল সে সম্পর্কেও খানিকটা ধারণা দিয়েছে। সে পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার পর আমার তার সঙ্গে কথা বলব।

গত ৯ জুন চট্টগ্রামে চাকরির জন্য ব্যক্তিগত বায়োডাটা জমা দিতে গিয়ে নিখোঁজ হন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজের ভাগ্নে সৈয়দ ইফতেখার আলম সৌরভ। তিনি পরিবারের সঙ্গে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানাধীন সুন্নিয়া মাদ্রাসা এলাকায় থাকতেন। সৌরভ ব্র্যাক ও ইউনিসেফের জনসচেতনতা-মূলক শর্ট ফিল্ম তৈরিতে জড়িত। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে সবার ছোট সৌরভ। পরিবারের দাবি, সৌরভকে চাকরির লোভ দেখিয়ে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করানো হয়েছে।

চট্টগ্রাম থেকে আমাদের স্টাফ রিপোর্টার জানান, নিখোঁজের পরদিন সৌরভের বাবা মোঃ ইদ্রিস আলম মানিক বাদী হয়ে চট্টগ্রামের পাচলাইশ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে সৌরভের পিতা সাংবাদিকদের বলেন, আবু সালেহ চৌধুরী আজাদের মেয়ের সঙ্গে সৌরভের সম্পর্ক ছিল। এর জের ধরে কয়েক বার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন তাকে ডেকে নিয়ে গিয়ে ওই মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখার জন্য হুমকি দেয়। তার কাছ থেকে মুচলেকা নেন।

গত ১০ রমজানও ঢাকার বনানীর বাসা থেকে সাদা পোশাকে ১০-১২ জন সৌরভকে তুলে নিয়ে যায়। পরে তারা তাকে ছেড়েও দেয়। ধারণা করা হচ্ছে, ওই মেয়ের সঙ্গে সম্পর্কের জের ধরেই সৌরভকে অপহরণ করিয়েছে মেয়েটির পরিবার। নিজের লোক দিয়ে হোক, অথবা অন্য কাউকে দিয়ে, না হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নিয়ে হোক, সৌরভকে সালেহ আজাদই অপহরণ করিয়েছে।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম মহানগরীর পাঁচলাইশ এলাকার চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের সামনে প্রবর্তক মোড়ে আফমি প্লাজার নিচতলা থেকে সৌরভ অপহৃত হয়। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ মোতাবেক একটি ফোন কল রিসিভের পর ওই মার্কেটের পেছনে যান সৌরভ। সেখান থেকেই পাঁচ জন তাকে একটি কালো প্রাডো গাড়িতে তুলে নেয়। সৌরভের হাতে তখন ছিল একটি সাদা খাম।

সৌরভের চাচাত ভাই শাহেদুর রহমান জানিয়েছেন, সাদা ওই খামে সৌরভের জীবন বৃত্তান্ত (সিভি) ছিল। চাকরি দেয়ার কথা বলেই সৌরভকে সেখানে ডাকা হয়েছিল। তিনিই একটি মোটরবাইকে করে সৌরভকে আফমি প্লাজার সামনে নামিয়ে দিয়েছিলেন। সিভি জমা দেয়ার পর তাকে ফোন করার কথা ছিল সৌরভের। কিন্তু এরপর থেকে তার কোন খোঁজা পাওয়া যাচ্ছিল না।

নির্বাচিত সংবাদ