১৭ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন হজযাত্রীরা

  • মন্ত্রী বললেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে

আজাদ সুলায়মান ॥ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন হজযাত্রীরা। রাজধানীসহ দেশব্যাপী স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুযোগ থাকলেও নানা কারণে তারা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। প্রয়োজনীয় জনবল ও কম্পিউটারের অভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দীর্ঘলাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে বয়োবৃদ্ধ হজযাত্রীদের। প্রচন্ড গরমে ঘর্মাক্ত ও ডিহাইড্রেশনে অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটছে। এসব অভিযোগ সম্পর্কে মন্ত্রী শেখ আব্দুল্লাহ বলেছেন, তেমন কোন অভিযোগ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। প্রথম প্রথম হয়তো কাজের গতিশীলতা আনতে কিছুটা সময় লাগছে। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় কী ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তা ঢাকা মেডিক্যালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জনবল সঙ্কট, পেশাগত অদক্ষতা ও কর্মচারীদের দুর্ব্যবহার চলছে। রূপগঞ্জের বাসিন্দা আবদুল আহাদ বেসরকারী ব্যবস্থাপনার হজযাত্রী। তিনি ঢাকা মেডিক্যালের দোতলায় প্রশাসনিক ব্লকে আসেন স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও টিকা নিতে। চিকিৎসকরা শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাগজপত্র দেখার পর প্রেসার মাপেন। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগ আছে কি না, কী ধরনের ওষুধ খাচ্ছেন ইত্যাদি জিজ্ঞাসার পর তাকে পাশের টিকা কেন্দ্রে পাঠান। সেখানে কর্তব্যরত নার্সরা সঙ্গে সঙ্গে তাকে টিকা দেন। এতে কিছুটা খুশি হলেও পরে স্বাস্থ্য সনদ নেয়ার জন্য কাগজপত্র জমা দেয়ার পর তাকে আরও কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। কেন এত বিলম্ব জানতে চেয়ে কর্মচারীদের শাসানির মুখে পড়েন। তিনি এত মানুষের কাজ এক হাতে করতে গেলে দেরি হবেই বলে চোখ রাঙ্গান ওই ডেস্কের একজন।

আবদুল আহাদ সাংবাদিকদের বলেন, একটি মাত্র কম্পিউটারে কাজ চলছে। সিরিয়ালে অপেক্ষমাণ প্রায় ২০০ মানুষ। গরমে সিদ্ধ হয়ে যাচ্ছি। সব তথ্য তো অনলাইনে আগেই দেয়া আছে, তাহলে এত দেরি কেন? আবদুল আহাদের মতো এমন অনেককেই স্বাস্থ্য সনদ পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

গত রবিবার থেকে ঢামেকসহ বিভিন্ন সরকারী ও জেলা সদর হাসপাতাল এবং সিভিল সার্জন কার্যালয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথমদিন হজযাত্রীর সংখ্যা কম থাকলেও দ্বিতীয় দিনে বেড়ে যায়। বুধবার পর্যন্ত ঢামেক হাসপাতালে বিভিন্ন বয়সী চার শতাধিক নারী-পুরুষ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে আসেন। স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে ও টিকা দিতে সময় বেশি না লাগলেও একটি মাত্র কম্পিউটারে একজন ডেটাএন্ট্রি অপারেটর কাজ করায় সময় বেশি লাগছে। স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও টিকা দেয়ার দ্বিতীয় দিনে স্বাস্থ্য সনদ দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। মাত্র একটি কম্পিউটারে একজন ডাটা অপারেটরের মাধ্যমে তথ্য-উপাত্ত লিখে দ্রুত স্বাস্থ্য সনদ দেয়া সম্ভব নয়।

এ সব অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন চিকিৎসক জানান, মেডিক্যাল পরীক্ষার রিপোর্ট না দেখে কাউকে স্বাস্থ্য সনদ ও টিকা দিচ্ছেন না। হাসপাতালের উপ-পরিচালক আবদুল গনির দাবি, টিকাদান কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে চলছে।

হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকে হজ গমনেচ্ছুরা মেডিক্যাল প্রোফাইল প্রিন্ট করে সরকারী মেডিক্যাল কলেজ, জেলা সদর এবং সিভিল সার্জন অফিসে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে নিচ্ছেন। গত চারদিনে রাজধানীসহ সারাদেশে ১০ হাজার ৩৪৫ জন হজযাত্রী প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ইনফ্লুয়েঞ্জা ও ম্যানিনজাইটিস টিকা গ্রহণ করে চিকিৎসকের কাছ থেকে স্বাস্থ্য-সনদ সংগ্রহ করেছেন। বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আগত হজযাত্রীরা জানান, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও টিকা গ্রহণের পর সনদ পেতে তাদের দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ডাটা এন্ট্রি অপারেটরের অপ্রতুলার কারণে বেশি সময় লাগছে। এ সম্পর্কে আশকোনা হজ অফিস জানিয়েছে, এখন থেকে হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য বা টিকার সনদ গ্রহণ করার জন্য অপেক্ষার প্রহর গুনতে হবে না। স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও টিকা গ্রহণের তথ্য-উপাত্ত এন্ট্রি হলেই তার কাছে খুদেবার্তা পৌঁছে যাবে। তখন তিনি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকে মেডিক্যাল প্রোফাইলের মতো স্বাস্থ্য ও টিকার সনদ প্রিন্ট নিতে পারবেন।

এখন থেকে চিকিৎসকের কাছে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও নার্সদের কাছে টিকা দেয়ার পর কোন হজযাত্রীকে এ দুটি সনদ পাওয়ার জন্য আর হাসপাতালে অপেক্ষা করতে হবে না। তারা যেমনটি করে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকে হেলথ প্রোফাইল প্রিন্ট করে নিচ্ছেন- এভাবে তারা নিজস্ব পিলগ্রিম আইডির মাধ্যমে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে স্বাস্থ্য ও টিকা সনদ প্রিন্ট নিতে পারবেন। যাত্রীদের দুর্ভোগ কমানোর জন্য এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেক হজযাত্রীর কাছে সঠিকভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও টিকাদান কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরই স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুদেবার্তা চলে যাবে।

আশকোনা হজ অফিসের পরিচালক সাইফুল ইসলাম জানান, রাজধানীসহ সারাদেশের উল্লিখিত কেন্দ্রসমূহে সরকারী-বেসরকারী ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর ম্যানিনজাইটিস ও ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকা নিয়ে সংগৃহীত স্বাস্থ্যসনদ বিমানবন্দরে প্রদর্শনের জন্য নিজ হেফাজতে রাখতে হবে।