১৭ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কাল ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের বিনামূল্যে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে আগামীকাল শনিবার। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতায় জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেন উদযাপন করা হবে। এদিন সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী প্রায় ২৫ লাখ ৩৩ হাজার শিশুকে ১টি করে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল (১ লাখ আইইউ মাত্রা) এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ১ কোটি ৯৩ লাখ ৪৬ হাজার শিশুকে ১টি করে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল (২ লাখ আইইউ মাত্রা) খাওয়ানো হবে। ছয় মাসের কম এবং পাঁচ বছরের বেশি বয়সী এবং অসুস্থ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো যাবে না।

বৃস্পতিবার দুপুরে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, এমপি এ তথ্য জানান। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী সংস্থা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ছাত্র শিক্ষক ও সাংবাদিকসহ সবার সার্বিক সহযোগিতায় দেশব্যাপী ১ লাখ ২০ হাজার স্থায়ী কেন্দ্রসহ অতিরিক্ত আরও ২০ হাজার ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্রের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্রগুলো বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড, লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট, ব্রিজের টোল প্লাজা, বিশেষ করে বঙ্গবন্ধু ব্রিজ, দাউদকান্দি ও মেঘনা ব্রিজ, বিমানবন্দর, রেলস্টেশন, খেয়াঘাট ইত্যাদি স্থানে অবস্থান করবে। প্রতিটি কেন্দ্রে কমপক্ষে ২ জন প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবী দায়িত্ব পালন করবে। আমাদের মনে রাখতে হবে ক্যাম্পেন দিবসেই ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ানো হবে। এই রাউন্ডে দুর্গম এলাকা হিসেবে চিহ্নিত ১২টি জেলার ৪৬টি উপজেলার ২৪০টি ইউনিয়নে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাদপড়া শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে না। তবে ক্যাম্পেন পরবর্তী আরও ৪/৫ দিন নির্দিষ্ট ইপিআই কেন্দ্র থেকে ১২ জেলার ৪৬ উপজেলার ২৪০টি ইউনিয়ন এবং পার্বত্য জেলাসমূহে (রাঙামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়ি) বাদ পড়া শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

কুচক্রী মহলের নেতিবাচক প্রচারে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেন যেন ব্যাহত না হয় সেদিকে সতর্ক থাকার জন্য গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ভিটামিন ‘এ’ শিশুর জন্য অপরিহার্য ও নিরাপদ। এই ক্যাপসুল খেলে শিশুর কোন ক্ষতি হবে না। ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ানোর ফলে শিশু যে শুধুমাত্র রাতকানা রোগ থেকে রক্ষা পায় তা নয়, এ ছাড়াও ভিটামিন ‘এ’ শিশুদের আরও বহুবিধ উপকার করে। এই ভিটামিন শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, দৃষ্টি শক্তি ভাল রাখে, শিশু মৃত্যুর হার কমায়, শিশুর স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠা নিশ্চিত করে, ডায়রিয়ার ব্যাপ্তিকাল এবং হামের জটিলতা কমায়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে যখন এই কার্যক্রম গ্রহণ করেন তখন ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের মাঝে রাতকানা রোগের হার ছিল ৩.৭৬ শতাংশ। জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেনের মাধ্যমে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো অব্যাহত রাখার ফলে বর্তমানে ভিটামিন ‘এ’ এর অভাবজনিত রাতকানা রোগের হার শতকরা ১ ভাগের নিচেই রয়েছে।

জাহিদ মালেক বলেন, এই রাউন্ডে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল স্বল্পতার কারণে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও বরিশাল-এই তিনটি বিভাগের সব জেলা এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন এবং বরিশাল সিটি কর্পোরেশন-এই ৬টি সিটি কর্পোরেশনে শুধুমাত্র নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল (১ লাখ আইইউ) দিয়ে ক্যাম্পেন পরিচালনা করা হবে। এ ক্ষেত্রে ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রতিটি শিশুকে ২টি নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে এবং ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী প্রতিটি শিশুকে যথারীতি ১টি নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।